দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বাজেট: গুরুত্ব পাচ্ছে যেসব খাত
নিজস্ব প্রতিবেদক: বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও মূল্যস্ফীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে একটি কল্যাণমুখী ও টেকসই অর্থনীতির ভিত্তি গড়তে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট প্রস্তাব করতে যাচ্ছে সরকার। ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল বাজেটে ১১টি বিশেষ খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় ব্যয়ের আকার বাড়ছে প্রায় ২৫ শতাংশ।
বাজেটের মূল লক্ষ্য ও প্রবৃদ্ধি
প্রস্তাবিত বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬.৫ শতাংশ। একই সঙ্গে বর্তমানের চড়া মূল্যস্ফীতিকে ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই প্রাক্কলিত বাজেট উপস্থাপন করা হয়, যেখানে ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদী রোডম্যাপের প্রতিফলন রয়েছে।
অগ্রাধিকার পাচ্ছে যেসব খাত
নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবারের বাজেটে ১১টি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
* উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থান: তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষ প্রণোদনা এবং দেশীয় ও প্রবাসী শ্রমবাজার সম্প্রসারণ।
* কল্যাণমূলক কর্মসূচি: সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড-এর মতো কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
* অবকাঠামো ও বিনিয়োগ: বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দ ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে ৩ লাখ কোটি টাকা করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
* আর্থিক শৃঙ্খলা: ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বৃদ্ধি।
রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ও ঘাটতি
বিশাল এই বাজেটের ব্যয় মেটাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চলতি বছরের তুলনায় আরও ১ লাখ কোটি টাকা বেশি আদায়ের চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। বাজেটে মোট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩.৪ শতাংশ। এই ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্র থেকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি এবং বৈদেশিক উৎস থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভর্তুকির চাপ ও বৈশ্বিক প্রভাব
আইএমএফ-এর ভর্তুকি কমানোর শর্ত থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিতিশীলতা ও জ্বালানি সংকটের কারণে এ খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হচ্ছে সরকারকে। বিদ্যুৎ, সার, এলএনজি ও খাদ্য সহায়তায় মোট ভর্তুকি ও প্রণোদনা বাবদ ১ লাখ ১৬ হাজার ১২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে।
সাবেক অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ এই বাজেট প্রসঙ্গে জানান, ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বাজেট জিডিপির তুলনায় খুব বড় না হলেও বর্তমান রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা ও ঋণনির্ভরতার কারণে এটি বাস্তবায়ন করা বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে। আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যয়ের সক্ষমতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
সিদ্দিকা/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- সরকারি ছুটিতে যোগ হল নতুন দুই দিবস; বাড়ল ছুটি
- ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা, ছুটি ৬ দিন
- দুই ধাপে নবম পে-স্কেল: জুন থেকেই বেতন বৃদ্ধির আভাস
- সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য মহার্ঘ ভাতা ঘোষণা: ৪ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ছে বেতন
- আজকের সোনার বাজারদর: ১৬ এপ্রিল ২০২৬
- মহার্ঘ ভাতা কার্যকর: ৪ থেকে ৮ হাজার টাকা বেশি বেতন পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা
- শুক্রবার ভোর ৬ টা থেকে বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- লাফিয়ে কমলো স্বর্ণের দাম
- পে স্কেল বাস্তবায়নে যে পথে এগোচ্ছে সরকার
- আজকের সকল টাকার রেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬
- আজকের সোনার বাজারদর: ১৭ এপ্রিল ২০২৬
- আজ ১৮, ২১, ২২ ক্যারেট একভরি স্বর্ণের দাম
- চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল চূড়ান্ত: শেষ চারে কে কার মুখোমুখি
- আগামী ৫ দিন ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা; কমতে পারে তাপপ্রবাহ
- সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় সুখবর
