বিদ্যুতের দাম ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর তোড়জোড়
নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং ক্রমবর্ধমান ভর্তুকির চাপ সামলাতে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম সর্বোচ্চ ২০ দশমিক ১১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এই প্রস্তাব কার্যকর হলে খুচরা পর্যায়ে ইউনিটপ্রতি দাম ৭০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে প্রান্তিক বা লাইফলাইন (০-৭৫ ইউনিট ব্যবহারকারী) গ্রাহকদের জন্য দাম না বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের প্রেক্ষাপট
বিদ্যুৎ সচিব ফারজানা মমতাজ স্বাক্ষরিত প্রস্তাবে জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এলএনজি, ফার্নেস অয়েল ও ডিজেলের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সম্ভাব্য ঘাটতি দাঁড়াতে পারে প্রায় ৫৬ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা। এই বিশাল ঘাটতি ও ভর্তুকির চাপ কমাতেই দাম সমন্বয়ের এই উদ্যোগ।
পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের প্রস্তাবনা
বিদ্যুৎ বিভাগ পাইকারি ও খুচরা—উভয় ক্ষেত্রেই দাম বাড়ানোর বিকল্প প্রস্তাব তৈরি করেছে:
পাইকারি পর্যায়ে: পাইকারি দাম বর্তমানে প্রতি ইউনিট ৭ টাকা ৪ পয়সা। এটি ৫০ পয়সা, ১ টাকা অথবা ১ টাকা ২০ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানোর তিনটি বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সর্বোচ্চ ১ টাকা ২০ পয়সা বাড়লে সরকারের প্রায় ১২ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা ভর্তুকি সাশ্রয় হবে।খুচরা পর্যায়ে: সাধারণ আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ব্যবহারভেদে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ২০ দশমিক ১১ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
তদারকিতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি
বিদ্যুতের দাম পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা যাচাইয়ে গত ৯ এপ্রিল অর্থমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। যদিও আইন অনুযায়ী দাম নির্ধারণের দায়িত্ব এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি), তবে সরকারের বিশেষ নির্দেশনায় এই কমিটি সুপারিশ প্রদান করবে।
আন্তর্জাতিক ও আইএমএফ-এর প্রভাব
বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বিদ্যুৎ খাতে দক্ষতা বাড়ানো এবং ভর্তুকি কমাতে তিন বছর মেয়াদি একটি পথনকশা প্রণয়নের পরামর্শ দিয়েছে। এছাড়া শ্রীলঙ্কা ও সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলোও বিশ্ববাজারের সঙ্গে মিল রেখে সম্প্রতি বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে।
জ্বালানি সংকটে সরকার
স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে এলএনজি কেনা এবং জ্বালানি তেলে দৈনিক প্রায় ২০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে গিয়ে সরকারের ওপর ব্যাপক আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। চলতি বাজেটে বরাদ্দকৃত ৪২ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বর্তমান পরিস্থিতিতে অপর্যাপ্ত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আগামী জুন পর্যন্ত এই খাতে আরও প্রায় ৩৯ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত প্রয়োজন হতে পারে।
সোহাগ/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- সরকারি ছুটিতে যোগ হল নতুন দুই দিবস; বাড়ল ছুটি
- ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা, ছুটি ৬ দিন
- দুই ধাপে নবম পে-স্কেল: জুন থেকেই বেতন বৃদ্ধির আভাস
- আজকের সোনার বাজারদর: ১৬ এপ্রিল ২০২৬
- শুক্রবার ভোর ৬ টা থেকে বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- লাফিয়ে কমলো স্বর্ণের দাম
- পে স্কেল বাস্তবায়নে যে পথে এগোচ্ছে সরকার
- আজকের সকল টাকার রেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬
- আজ ১৮, ২১, ২২ ক্যারেট একভরি স্বর্ণের দাম
- চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল চূড়ান্ত: শেষ চারে কে কার মুখোমুখি
- আগামী ৫ দিন ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা; কমতে পারে তাপপ্রবাহ
- সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় সুখবর
- সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য মহার্ঘ ভাতা ঘোষণা: ৪ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ছে বেতন
- ভেজাল কলা চিনুন ১ মিনিটে
- প্রাথমিকে ৬০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের ঘোষণা
