৪ কোম্পানির জ্বালানি তেল আমদানি বন্ধ
নিজস্ব প্রতিবেদক: পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও। আমদানিতে অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের চড়া মূল্যের কারণে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ক্রমেই নাজুক হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে শিল্পকারখানায় চাহিদানুযায়ী তেল না পাওয়ায় উৎপাদন প্রক্রিয়া স্থবির হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শিল্প খাতে হাহাকার ও রেশনিং:
গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের মালিকরা জানিয়েছেন, ডিলারদের কাছ থেকে তাঁরা প্রয়োজনীয় ডিজেল সংগ্রহ করতে পারছেন না। অনেক ক্ষেত্রে চড়া দাম দিয়েও মিলছে না জ্বালানি। নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, জেলা পর্যায়ের ডিপো থেকে শিল্প মালিকরা চাহিদার তুলনায় অনেক কম তেল পাচ্ছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, দ্রুত শিল্প খাতে তেলের যোগান নিশ্চিত করা না গেলে জাতীয় অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সরকারের অবস্থান ও ব্যবস্থাপনা:
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মতে, তেলের কোনো প্রকৃত ঘাটতি নেই; বরং সাধারণ মানুষের মধ্যে অতিরিক্ত মজুত করার প্রবণতাই এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার তেলের বিক্রিতে ‘অলিখিত রেশনিং’ শুরু করেছে। এখন থেকে বড় গ্রাহকদের গত বছরের বরাদ্দের ভিত্তিতে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া জেলা প্রশাসকদের জ্বালানি তেল ব্যবস্থাপনায় কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিপিসি ও তেল কোম্পানিগুলোর জরুরি বৈঠক:
জ্বালানি বিভাগ সম্প্রতি বিপিসি এবং পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার মতো বিপণন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছে। বৈঠকে তেল বরাদ্দের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ কড়াকড়ি আরোপের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গণহারে মজুত করার প্রবণতা বন্ধ করা না গেলে তেলের সরবরাহ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা:
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম মনে করেন, ইরান যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স, রপ্তানি এবং শিল্প উৎপাদন ঝুঁকির মুখে পড়বে। তিনি জানান, যুদ্ধ থেমে গেলেও তেলের দাম দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম; প্রতি ব্যারেলে দাম ১০০ ডলারের আশেপাশে থাকতে পারে। আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এই যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
দাম বৃদ্ধির চিত্র (এপ্রিল ২০২৬):
১. এভিয়েশন ফুয়েল: অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইটে জেট এ-১ জ্বালানির দাম লিটারে ২২৭ টাকা ৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ফেব্রুয়ারির তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
২. ফার্নেস অয়েল: লিটারে ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা বাড়িয়ে নতুন দাম ৯৪ টাকা ৬৯ পয়সা নির্ধারণ করেছে বিইআরসি।
৩. এলপিজি: ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৩৮৭ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭২৮ টাকায়।
আন্তর্জাতিক বাজারের এই অস্থিরতার প্রভাবে বাংলাদেশে পরিবহন খরচ ও দ্রব্যমূল্য ক্রমেই বাড়ছে। সামনে বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সোহাগ/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- জুনে আংশিক কার্যকর হচ্ছে নবম পে স্কেল; দুই ধাপে বাস্তবায়নের ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর
- জুন থেকে দুই ধাপে বাস্তবায়িত হচ্ছে নবম পে স্কেল
- জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বড় সুখবর
- আজকের সোনার বাজারদর: ১৩ এপ্রিল ২০২৬
- আজকের সকল টাকার রেট: ১৪ এপ্রিল ২০২৬
- আজকের সোনার বাজারদর: ১৪ এপ্রিল ২০২৬
- কমে গেল সোনার দাম, ভরি কত
- আজকের সকল টাকার রেট: ১৩ এপ্রিল ২০২৬
- দেশের বাজারে আজকের স্বর্ণের দাম
- ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের বড় সুখবর
- টানা ৫ দিন তাপপ্রবাহের মধ্যে হতে পারে বৃষ্টি যেসব জেলায়
- সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৯ সুবিধা হ্রাস
- কমে গেল সোনার দাম
- বিশ্বকাপের জন্য আর্জেন্টিনার শক্তিশালী দল ঘোষণা
- মাঠে নামছে সেনাবাহিনী
