| ঢাকা, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩

র‍্যাম কী, ডিভাইসে কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

বিশ্ব ডেস্ক . বিনোদন৬৯.কম
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০২ ০৯:৪১:৩৯
র‍্যাম কী, ডিভাইসে কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: কম্পিউটার বা স্মার্টফোনের গুরুত্বপূর্ণ হার্ডওয়্যারগুলোর একটি হলো র‍্যাম। আকারে ছোট হলেও ডিভাইসের গতি ও একসঙ্গে একাধিক কাজ করার সক্ষমতার ক্ষেত্রে এর ভূমিকা অনেক। প্রসেসরকে দ্রুত ডেটা সরবরাহ করে কাজের গতি বাড়াতে র‍্যাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

র‍্যামের পূর্ণরূপ হলো Random Access Memory। সহজভাবে বললে, এটি কম্পিউটার বা স্মার্টফোনের স্বল্পমেয়াদি মেমোরি। কোনো অ্যাপ বা প্রোগ্রাম চালু করলে প্রয়োজনীয় ডেটা মূল স্টোরেজ থেকে এনে র‍্যামে সাময়িকভাবে রাখা হয়। ফলে প্রসেসর খুব দ্রুত সেই ডেটা ব্যবহার করতে পারে।

লাইব্রেরির উদাহরণে র‍্যাম

র‍্যামের কাজ বোঝার জন্য একটি লাইব্রেরির উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। লাইব্রেরির তাককে ভাবুন ডিভাইসের স্টোরেজ হিসেবে, যেখানে অসংখ্য বই বা তথ্য জমা থাকে। আর পড়ার টেবিল হলো র‍্যাম।

প্রয়োজনীয় বই খুঁজে পাওয়ার পর একবার টেবিলে এনে রাখলে বারবার তাকের কাছে যেতে হয় না। একসঙ্গে কয়েকটি বই টেবিলে রেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় তথ্য বের করা যায়।

কম্পিউটারেও একই ঘটনা ঘটে। স্টোরেজে থাকা ডেটা র‍্যামে সাময়িকভাবে রাখা হয় এবং প্রসেসর সেখান থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় তথ্য ব্যবহার করে। তাই প্রসেসরকে স্টোরেজ থেকে প্রতিবার নতুন করে ডেটা খুঁজে আনতে হয় না।

‘র‍্যান্ডম’ বলা হয় কেন?

র‍্যামের নামের মধ্যে ‘র‍্যান্ডম’ শব্দটি ব্যবহারের কারণ হলো, প্রসেসর প্রয়োজন অনুযায়ী মেমোরির যেকোনো জায়গা থেকে সরাসরি ডেটা পড়তে বা লিখতে পারে।

এটি পুরোনো ক্যাসেট ফিতার মতো নয়, যেখানে নির্দিষ্ট কোনো অংশে যেতে হলে আগের অংশগুলো পার হয়ে যেতে হতো। র‍্যামে প্রয়োজনীয় মেমোরি সেলে সরাসরি প্রবেশ করা যায়। এ কারণেই এর নাম Random Access Memory।

র‍্যামের ভেতরে কী থাকে?

র‍্যামের সবচেয়ে প্রচলিত ধরনগুলোর একটি হলো DRAM বা Dynamic RAM। এর প্রতিটি মেমোরি সেল মূলত একটি ট্রানজিস্টর ও একটি ক্যাপাসিটর নিয়ে তৈরি।

ক্যাপাসিটরকে ছোট একটি পাত্রের সঙ্গে তুলনা করা যায়। এতে বৈদ্যুতিক চার্জ থাকলে সেটিকে ‘১’ এবং চার্জ না থাকলে ‘০’ হিসেবে ধরা হয়। এভাবেই কম্পিউটার বাইনারি ডেটা সংরক্ষণ করে।

তবে ক্যাপাসিটরের চার্জ স্থায়ী নয়। সময়ের সঙ্গে চার্জ কমে যায়। তাই ডেটা ধরে রাখতে মেমোরি কন্ট্রোলারকে নিয়মিত রিফ্রেশ করতে হয়। এই কারণেই DRAM-কে ‘ডায়নামিক’ বলা হয়।

র‍্যাম না থাকলে কী সমস্যা হবে?

ধরুন, আপনি স্মার্টফোনে ফেসবুক ব্যবহার করছেন। হঠাৎ হোয়াটসঅ্যাপে একটি মেসেজ এল। আপনি ফেসবুক থেকে বের হয়ে হোয়াটসঅ্যাপ খুললেন এবং পরে আবার ফেসবুকে ফিরে গেলেন।

পর্যাপ্ত র‍্যাম থাকলে ফেসবুকের প্রয়োজনীয় ডেটা র‍্যামে থেকে যেতে পারে। ফলে আবার অ্যাপটিতে ফিরে গেলে আগের অবস্থান থেকে দ্রুত কাজ শুরু করা সম্ভব হয়।

র‍্যাম খুব কম হলে ডিভাইসকে বারবার স্টোরেজ থেকে ডেটা লোড করতে হয়। স্টোরেজ র‍্যামের তুলনায় ধীর হওয়ায় এতে অ্যাপ চালু হতে সময় বেশি লাগতে পারে এবং ডিভাইসের পারফরম্যান্স কমে যেতে পারে।

র‍্যামের ধারণক্ষমতা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

র‍্যামের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এর ধারণক্ষমতা ও গতি।

ধারণক্ষমতা বেশি হলে একসঙ্গে বেশি অ্যাপ ও প্রোগ্রাম চালু রাখা সহজ হয়। যেমন, বড় পড়ার টেবিলে একসঙ্গে বেশি বই রাখা যায়, তেমনি বেশি র‍্যাম থাকলে ডিভাইস একসঙ্গে বেশি ডেটা নিয়ে কাজ করতে পারে।

অন্যদিকে র‍্যাম কম থাকলে অপারেটিং সিস্টেম ভার্চ্যুয়াল মেমোরির সাহায্য নিতে পারে। তখন স্টোরেজের একটি অংশকে অস্থায়ী মেমোরি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু স্টোরেজ র‍্যামের চেয়ে ধীর হওয়ায় পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়তে পারে।

র‍্যামের গতি কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

শুধু র‍্যামের পরিমাণ বেশি হলেই হবে না, এর গতিও ডিভাইসের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলে। আধুনিক র‍্যামের গতি সাধারণত MT/s বা কার্যকর ডেটা ট্রান্সফার রেট দিয়ে প্রকাশ করা হয়, যদিও বাজারে অনেক সময় MHz শব্দটিও ব্যবহার করা হয়।

DDR বা Double Data Rate প্রযুক্তিতে ক্লক সিগন্যালের উভয় প্রান্তে ডেটা আদান-প্রদান করা হয়। ফলে একই ক্লক গতিতে আগের প্রযুক্তির তুলনায় বেশি ডেটা ট্রান্সফার করা সম্ভব হয়।

র‍্যাম আসলে কী কাজ করে?

সহজ করে বললে, র‍্যাম হলো প্রসেসর ও ধীরগতির স্টোরেজের মাঝখানে একটি দ্রুত কাজের জায়গা। স্টোরেজে থাকা প্রয়োজনীয় ডেটা র‍্যামে আসে, আর প্রসেসর সেখান থেকে দ্রুত সেই ডেটা ব্যবহার করে।

তাই একটি ডিভাইসের র‍্যাম যত উপযুক্ত ক্ষমতার ও দ্রুতগতির হবে, একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ চালানো, অ্যাপের মধ্যে দ্রুত পরিবর্তন এবং বিভিন্ন কাজ করার অভিজ্ঞতা তত ভালো হতে পারে।

তবে ডিভাইসের সামগ্রিক গতি শুধু র‍্যামের ওপর নির্ভর করে না। প্রসেসর, স্টোরেজের ধরন, সফটওয়্যার অপ্টিমাইজেশন এবং অন্যান্য হার্ডওয়্যারও পারফরম্যান্সে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সোহাগ/

আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ

ক্রিকেট

সেপ্টেম্বরে নয়, ভারত আসতে পারে আগামী বছরের জানুয়ারিতে

সেপ্টেম্বরে নয়, ভারত আসতে পারে আগামী বছরের জানুয়ারিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে ভারতের ক্রিকেট দলের প্রস্তাবিত সফর নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আগামী ...

সাব্বিরের ব্যাটে অস্ট্রেলিয়ার টানা জয় বাংলাদেশের

সাব্বিরের ব্যাটে অস্ট্রেলিয়ার টানা জয় বাংলাদেশের

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাব্বির রহমানের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে হোবার্ট হারিকেন্স একাডেমিকে হারিয়েছে বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স ...

ফুটবল

আগামীকাল সিরিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ; লাইভ যেভাবে দেখবেন

আগামীকাল সিরিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ; লাইভ যেভাবে দেখবেন

খেলাধুলা ডেস্ক: এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ...

এক নজরে লিওনেল মেসির বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার

এক নজরে লিওনেল মেসির বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর ঘোষণা দিয়েছেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসি। দুই দশকের বেশি ...