নতুন পে-স্কেলে বেতন বাড়বে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ, বাস্তবায়ন ৪ ধাপে
নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। নতুন কাঠামোতে গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে একসঙ্গে পুরো বেতন কাঠামো কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতনকাঠামোর প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। বৈঠক শেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। পরে সংবাদ সম্মেলনে নতুন বেতনকাঠামোর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
২০টি গ্রেডই থাকছে
নতুন বেতন কাঠামোতেও আগের মতো ২০টি গ্রেড রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১ম গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ২০ হাজার টাকা।
অর্থাৎ সর্বোচ্চ গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন বাড়ছে ১০০ শতাংশ। আর সর্বনিম্ন গ্রেডে বাড়ছে ১৪২ শতাংশ। ফলে তুলনামূলকভাবে নিম্ন গ্রেডের সরকারি কর্মচারীরা বেশি হারে বেতন বৃদ্ধির সুবিধা পাবেন।
যেভাবে বাড়বে মূল বেতন
নতুন কাঠামো অনুযায়ী ১ম গ্রেডে প্রারম্ভিক বেতন হবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। ২য় গ্রেডে ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা এবং ৩য় গ্রেডে ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা।
এ ছাড়া ৪র্থ গ্রেডে ১ লাখ টাকা, ৫ম গ্রেডে ৮৬ হাজার টাকা, ৬ষ্ঠ গ্রেডে ৭১ হাজার টাকা, ৭ম গ্রেডে ৫৮ হাজার টাকা, ৮ম গ্রেডে ৪৬ হাজার টাকা এবং ৯ম গ্রেডে ৪৪ হাজার টাকা প্রারম্ভিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে।
১০ম গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন ১৬ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৩২ হাজার টাকা এবং ১১তম গ্রেডে ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ২৫ হাজার টাকা হবে।
নিম্ন গ্রেডগুলোতে বেতন বৃদ্ধির হার আরও বেশি। ১২তম গ্রেডে প্রারম্ভিক বেতন ১১ হাজার ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে ২৪ হাজার ৩০০ টাকা, ১৩তম গ্রেডে ১১ হাজার টাকা থেকে ২৪ হাজার টাকা এবং ১৪তম গ্রেডে ১১ হাজার টাকা থেকে ২৪ হাজার টাকা করা হয়েছে।
১৫তম গ্রেডে প্রারম্ভিক বেতন হবে ২৩ হাজার ৫০০ টাকা, ১৬তম গ্রেডে ২১ হাজার ৯০০ টাকা, ১৭তম গ্রেডে ২১ হাজার ৪০০ টাকা, ১৮তম গ্রেডে ২১ হাজার টাকা, ১৯তম গ্রেডে ২০ হাজার ৫০০ টাকা এবং ২০তম গ্রেডে ২০ হাজার টাকা।
তিন ধাপে বাড়বে মূল বেতন
নতুন পে-স্কেল একসঙ্গে কার্যকর হবে না। ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে এর বাস্তবায়ন করা হবে।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে মূল বেতনের ৪০ শতাংশ কার্যকর ধরা হয়েছে। এরপর ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে আরও ৩০ শতাংশ এবং একই বছরের জুলাইয়ে বাকি ৩০ শতাংশ কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে বিভিন্ন ধরনের ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। অবসরভোগীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের বাস্তবায়ন পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, একবারে পুরো বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন না করে ধাপে ধাপে কার্যকর করলে জাতীয় অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানো সম্ভব হবে।
কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিরা পাবেন বেশি সুবিধা
নতুন বেতন কাঠামোতে পেনশনভোগীদের জন্যও বাড়তি সুবিধা রাখা হয়েছে। মাসে ৯ হাজার টাকা বা তার কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন ১০০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বাড়বে ৭৫ শতাংশ। ২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশনে ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রে ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ ব্যবস্থা পর্যায়ক্রমে ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
সব গ্রেডের জন্য মোবাইল ভাতা
নতুন পে-স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের জন্য আরও কিছু সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথমবারের মতো বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত রয়েছে। প্রতি সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে।
এ ছাড়া সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারীর জন্য মোবাইল ভাতার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এতদিন নির্দিষ্ট কয়েকটি উচ্চ গ্রেডের কর্মচারীরা এই সুবিধা পেতেন।
উপকৃত হবেন প্রায় ৩৩ লাখ মানুষ
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও বেসামরিক সরকারি কর্মচারী উপকৃত হবেন। এর পাশাপাশি প্রায় সাড়ে ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগীও এর আওতায় আসবেন।
সব মিলিয়ে প্রায় ৩৩ লাখ মানুষ নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা পাবেন বলে জানিয়েছে সরকার।
নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামোর আওতায় এই অর্থের সংস্থান রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বিচার বিভাগের জন্য আলাদা বেতন কাঠামো
বিচার বিভাগের জন্য আলাদা বেতন কাঠামো করা হবে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হবে। এটিও ধাপে ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাড়তি অর্থের জোগান নিয়ে প্রশ্ন
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের বাড়তি অর্থের প্রয়োজন হবে। এ অর্থের জোগান দিতে রাজস্ব আদায় বাড়ানো জরুরি বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয় যাতে কমে না যায়, সেদিকেও নজর দিতে হবে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত অর্থের জোগান দিতে গিয়ে মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যায় কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ব্যবসা-বাণিজ্য ও বেসরকারি বিনিয়োগে গতি ফেরানো এবং রাজস্ব আদায় বাড়ানো সম্ভব হলে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের বাড়তি আর্থিক চাপ সামলানো সরকারের জন্য তুলনামূলক সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সোহাগ/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- ৭০ মিনিটের খেলা শেষ; বাংলাদেশ বনাম উজবেকিস্তান অনূর্ধ্ব-২০; লাইভ দেখুন এখানে
- বাংলাদেশ বনাম উজবেকিস্তান অনূর্ধ্ব-২০; লাইভ দেখুন এখানে
- ৯০ মিনিটের খেলা শেষ: বাংলাদেশ বনাম উজবেকিস্তান ম্যাচ, জানুন ফলাফল
- সামনে ৫ দিন সরকারি ছুটি, তবে থাকছে একটি দুঃসংবাদ
- ৯ম পে-স্কেলে কোন গ্রেডে কত বেতন, দেখুন পূর্ণ তালিকা
- নতুন পে-স্কেলে এমপিও শিক্ষকদের নিয়ে যা জানা গেল
- ৯ম পে-স্কেলে ১ম থেকে ২০তম গ্রেডে কত বেতন
- দেশের বাজারে আবারও কমল সোনার দাম
- ১১ বছর পর ৯ম পে-স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন
- সেপ্টেম্বরেও জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখল সরকার
- পেছাল এসএসসি পরীক্ষা, নতুন তারিখ জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
- আজকের স্বর্ণের বাজারদর: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
