সোহাগ আহমদে
সিনিয়র রিপোর্টার
৫ কারণে বাংলাদেশে সোনা কেনার সেরা সময় এখনই
নিজস্ব প্রতিবেদক: বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও মূল্যস্ফীতির এই সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে সোনার চাহিদা বিশ্বজুড়ে বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশের বাজারে বর্তমানে প্রতি ভরি (২২ ক্যারেট) সোনার দাম ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার ঘরে ওঠানামা করছে। আপাতদৃষ্টিতে দাম বেশি মনে হলেও বাজার বিশ্লেষক ও বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)-এর দীর্ঘমেয়াদী সমীকরণ অনুযায়ী সোনা কেনার জন্য এখনই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।
অর্থনৈতিক ও বাজার বিশেষজ্ঞদের চুলচেরা বিশ্লেষণে সোনা কেনার সেরা সময় কেন এখনই, তার প্রধান ৫টি কারণ নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ২০৩০ সালের মধ্যে ৪ থেকে ১০ লাখ টাকা ছোঁয়ার দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাস
আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষক সংস্থা জেপি মরগ্যান ও গোল্ডম্যান স্যাক্স-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্ববাজারে প্রতি ট্রয় আউন্স সোনার দাম ৬,২০০ ডলার থেকে ৮,৫০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই ধারাবাহিকতা এবং ডলারের বিপরীতে টাকার চলমান অবমূল্যায়ন বজায় থাকলে বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বনিম্ন ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা হওয়া স্বাভাবিক। এমনকি কোনো কোনো বিশ্লেষকের অতি-উচ্চ পূর্বাভাস অনুযায়ী এটি সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকার মাইলফলকও স্পর্শ করতে পারে। ফলে দীর্ঘমেয়াদী লাভের জন্য এখনই বিনিয়োগের সেরা সুযোগ।
২. বৈশ্বিক হাইপার-ইনফ্লেশন ও টাকার অবমূল্যায়ন
টাকার ক্রমাগত অবমূল্যায়ন এবং স্থানীয় বাজারে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির কারণে কাগজের মুদ্রার মান দিন দিন কমছে। সোনা এমন একটি সম্পদ যা সবসময় মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে ঢাল হিসেবে কাজ করে। কাগজের টাকা ব্যাংকে অলস ফেলে রাখার চেয়ে সোনায় রূপান্তর করে রাখলে তা ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক ঝুঁকি থেকে আমানতকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখবে।
৩. আন্তর্জাতিক বাজারে প্রোপেন-বিউটেন ও জ্বালানির প্রভাব
বিশ্ববাজারে সৌদি আরামকোর নতুন চুক্তি মূল্য (সৌদি সিপি) অনুযায়ী প্রোপেন ও বিউটেনের দাম প্রতি টনে গড়ে ৬৩৩ মার্কিন ডলারে উন্নীত হওয়াসহ আন্তর্জাতিক জ্বালানি খাতের অস্থিরতা বাড়ছে। জ্বালানি ও এলপিজির মতো নিত্যপণ্যের এই মূল্যবৃদ্ধি পরোক্ষভাবে সোনার খনি উত্তোলন ও পরিবহন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। যার প্রভাব আগামী দিনগুলোতে সোনার আন্তর্জাতিক দামকে আরও উস্কে দেবে।
৪. কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর রেকর্ড সোনা মজুত
বিশ্বজুড়ে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মন্দা মোকাবিলার জন্য বিশ্বের বড় বড় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো কাগজের ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রেকর্ড পরিমাণে সোনা মজুত করছে। বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর এই আগ্রাসী চাহিদা সোনার দামকে কখনো বড় ধরণের পতনের মুখে পড়তে দেবে না, বরং এর তলানি মূল্যকে সবসময় শক্তিশালী অবস্থানে রাখবে।
৫. স্থানীয় বাজারে বিশুদ্ধ সোনার ক্রমবর্ধমান সংকট
বাংলাদেশে বাজুস নির্ধারিত দাম সবসময় বিশ্ববাজারের চেয়ে কিছুটা বেশি থাকে, কারণ স্থানীয় বাজারে ব্যাগেজ রুলস বা বৈধ আমদানির অতিরিক্ত খরচ এবং বিশুদ্ধ সোনার এক ধরণের কাঠামোগত সংকট রয়েছে। উৎস সংকটের কারণে ভবিষ্যতে দেশীয় বাজারে সোনার সরবরাহ আরও সীমিত হতে পারে, যা স্থানীয় পর্যায়ে এর প্রিমিয়াম ও পুনর্বিক্রয় মূল্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এটি সম্পূর্ণই বাজার বিশ্লেষকদের গাণিতিক পূর্বাভাসের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক অর্থনীতি, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং সুদের হারের পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে এই দাম যেকোনো সময় কম-বেশি হতে পারে।
সোহাগ/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- পে স্কেলের গেজেট কবে, জানা গেল সম্ভাব্য সময়
- সরকারি চাকরিজীবীদের ১১ সুবিধায় বড় পরিবর্তন
- নতুন পে-স্কেলে ইনক্রিমেন্টে বড় পরিবর্তন, কোন গ্রেডে কত
- আজকের স্বর্ণের বাজারদর: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- নতুন পে স্কেলে যেসব সুবিধা কমছে, বাড়ি ভাড়ায় বড় পরিবর্তন
- দেশের বাজারে আজ ১৮, ২১, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম
- দুর্গাপূজায় ২ দিনের সরকারি ছুটি, ছুটি পাবেন না যারা
- একদিন ছুটি নিলেই মিলবে টানা ৫ দিনের অবকাশ
- আজকের স্বর্ণের বাজারদর; ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- আজকের সকল দেশের টাকার রেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- ঢাকাসহ সারাদেশে আজকের আবহাওয়ার খবর
- টানা ৫ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস, বেশি বৃষ্টি যেসব এলাকায়
- নতুন Bajaj Pulsar 150-এ বড় পরিবর্তন, থাকছে TFT ডিসপ্লে ও নতুন ইঞ্জিন
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৪ দিনের টানা ছুটি, যেভাবে মিলবে
- অর্থ মন্ত্রণালয়ে আটকে আছে পে স্কেল, বাড়ছে হতাশা
