পে স্কেলের গেজেটে কেন প্রতিটি শব্দ খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে
নিজস্ব প্রতিবেদক: নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট তৈরিতে একটি শব্দ বা একটি লাইনের ভুলও পরবর্তীতে সরকারি চাকরিজীবীদের কোনো সুবিধা আটকে দিতে বা বাতিল করতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবদুল মালেক।
তার মতে, পে-স্কেলের গেজেটের প্রতিটি শব্দ ও বাক্যের সুনির্দিষ্ট আইনি ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন। তাই আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের সময় পুরো নথিটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা সময় লাগতে পারে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন আবদুল মালেক।
গেজেট প্রকাশে কেন দেরি
আবদুল মালেক বলেন, গত ৩১ আগস্ট পে-স্কেল অনুমোদনের সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব এক সপ্তাহের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারির কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু এরপর দুই সপ্তাহের বেশি সময় পার হলেও গেজেট প্রকাশিত হয়নি।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত গেজেট প্রকাশের নির্দিষ্ট তারিখও জানানো হয়নি। এ কারণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে গেজেট প্রকাশে বিলম্বের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে সফটওয়্যারগত সমস্যা ও আইনগত ভেটিংয়ের বিষয়টি উঠে এসেছে।
একটি শব্দের ভুলেও কেন জটিলতা
পে-স্কেলের গেজেট শুধু বেতন নির্ধারণের নথি নয়। এর প্রতিটি শব্দ ও লাইনের ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন সুবিধা কীভাবে কার্যকর হবে, তার ব্যাখ্যা নির্ধারিত হতে পারে।
আবদুল মালেক বলেন, কোনো একটি লাইনে ভুল থাকলে বা কোনো শব্দের অর্থ ভিন্নভাবে দাঁড়ালে পরবর্তী সময়ে কোনো সুবিধা নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের সময় প্রতিটি শব্দ ও লাইন খুঁটিয়ে দেখা প্রয়োজন।
শুধু সরকারি কর্মচারীদের জন্য নয়
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তিনি। কারণ এই বেতন কাঠামোর আওতায় শুধু জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নন, বিভিন্ন শ্রেণির প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।
এর মধ্যে সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বিমা এবং বিচার বিভাগের মতো বিভিন্ন খাত রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে পে-স্কেল বাস্তবায়নের নিয়ম ও প্রক্রিয়ায় কিছু পার্থক্য থাকতে পারে।
ফলে গেজেট তৈরির সময় সংশ্লিষ্ট সব শ্রেণির জন্য বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
আগের পে-স্কেলেও সময় লেগেছিল
গেজেট প্রকাশে দুই সপ্তাহের বিলম্বকে খুব অস্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন না আবদুল মালেক। তিনি জানান, ২০১৫ সালের পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন অনুমোদনের প্রায় ৯৯ দিন পর জারি হয়েছিল। ২০০৯ সালের পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও সময় লেগেছিল।
তার মতে, এবারের ক্ষেত্রে এখনো মাত্র দুই সপ্তাহের মতো সময় পার হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে নতুন পে-স্কেলের অপেক্ষায় থাকায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে এবার আগ্রহ ও উদ্বেগ দুটোই বেশি।
১১ বছর পর নতুন পে-স্কেলের অপেক্ষা
আবদুল মালেক বলেন, সরকারি চাকরিজীবীরা প্রায় ১১ বছর ধরে নতুন পে-স্কেলের অপেক্ষায় রয়েছেন। অতীতে ২০০৫, ২০০৯ ও ২০১৫ সালে কয়েক বছরের ব্যবধানে নতুন পে-স্কেল দেওয়া হয়েছিল।
এবার দীর্ঘ সময় পর নতুন বেতন কাঠামোর অনুমোদন হওয়ায় কর্মচারীদের প্রত্যাশাও বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হওয়ায় গেজেট প্রকাশ নিয়ে আগ্রহ আরও বেড়েছে।
ফলে গেজেট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা থাকা স্বাভাবিক বলে মনে করছেন বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবদুল মালেক।
তবে গেজেটের চূড়ান্ত প্রকাশের সময় এবং এতে কী কী বিষয় কীভাবে অন্তর্ভুক্ত থাকবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
সোহাগ/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- সরকারি চাকরিজীবীদের ১১ সুবিধায় বড় পরিবর্তন
- পে স্কেলের গেজেট কবে, জানা গেল সম্ভাব্য সময়
- আজকের স্বর্ণের বাজারদর: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- নতুন পে স্কেলে যেসব সুবিধা কমছে, বাড়ি ভাড়ায় বড় পরিবর্তন
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ২৩ নাকি ২৪ সেপ্টেম্বর
- দেশের বাজারে আজ ১৮, ২১, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম
- দুর্গাপূজায় ২ দিনের সরকারি ছুটি, ছুটি পাবেন না যারা
- একদিন ছুটি নিলেই মিলবে টানা ৫ দিনের অবকাশ
- আজকের সকল দেশের টাকার রেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- ঢাকাসহ সারাদেশে আজকের আবহাওয়ার খবর
- পে-স্কেলের গেজেট জারি হচ্ছে না কেন, জানা গেল কারণ
- দেশের বাজারে আজ এক ভরি সোনার দাম
- নতুন পে-স্কেলে ইনক্রিমেন্টে বড় পরিবর্তন, কোন গ্রেডে কত
- টানা ৫ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস, বেশি বৃষ্টি যেসব এলাকায়
- আমেরিকার ভিসার নতুন নিয়ম
