সোহাগ আহমদে
সিনিয়র রিপোর্টার
বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের দামামা: তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নাকি হাদিসে বর্ণিত ‘মালহামা’র সূচনা
নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্তমান বিশ্ব এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ভয়াবহ সংঘাত, অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা। অনেকেই বর্তমান পরিস্থিতিকে হাদিসে বর্ণিত শেষ জামানার মহাযুদ্ধ বা ‘মালহামা’র পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে ইরানকে কেন্দ্র করে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দেওয়া ১৪০০ বছর আগের ভবিষ্যৎবাণীগুলো বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনায় আসছে।
ইরানের গুরুত্ব ও নবীজির ভবিষ্যৎবাণী
ইসলামের ইতিহাসে ইরান বা পারস্যের ভূমিকা অনস্বীকার্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) পারস্যের অধিবাসীদের জ্ঞান ও ঈমানি দৃঢ়তা নিয়ে একাধিক ভবিষ্যৎবাণী করেছেন। একটি প্রসিদ্ধ হাদিসে তিনি সালমান ফারসি (রা.)-এর ওপর হাত রেখে বলেছিলেন, যদি ঈমান থুরাইয়া তারকায় (মহাকাশের দূরতম নক্ষত্র) থাকত, তবে পারস্যের কিছু লোক সেখান থেকেও তা অর্জন করত। বর্তমানে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং সামরিক শক্তিতে ইরানের এগিয়ে যাওয়াকে অনেক আলেম এই হাদিসের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।
শেষ জামানার আলামত ও বর্তমান সংঘাত
হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, কেয়ামতের আগে বড় ধরনের হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞ বৃদ্ধি পাবে। আধুনিক মারণাস্ত্র, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি আজ মুহূর্তের মধ্যে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিতে সক্ষম। ইরানে বর্তমান যে হামলা চলছে এবং তার বিপরীতে তাদের যে সামরিক প্রস্তুতি, তা হাদিসে বর্ণিত সেই কঠিন সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, এই সংঘাতই সম্ভবত ইমাম মাহদীর আগমনের পূর্ববর্তী সেই বিশৃঙ্খলা, যার পর এক ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে।
খোরাসান ও কালো পতাকার ইঙ্গিত
হাদিসে খোরাসান (বর্তমান ইরান, আফগানিস্তান ও এর আশপাশের অঞ্চল) থেকে কালো পতাকাধারী এক বাহিনীর আগমনের কথা বলা হয়েছে। এই বাহিনী ইমাম মাহদীর আগমনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই অঞ্চলের অস্থিতিশীলতা এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর উত্থানকে অনেক গবেষক শেষ জামানার এই নিদর্শনের সাথে মেলাচ্ছেন।
দাজ্জালের ফিতনা ও আসফাহান
দাজ্জালের আবির্ভাব সম্পর্কে হাদিসে বলা হয়েছে, ইরানের আসফাহান শহরের ৭০ হাজার ইহুদি দাজ্জালের অনুসারী হবে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, আজও ইরানের আসফাহানে একটি বিশাল ইহুদি সম্প্রদায় বসবাস করে। এই ভৌগোলিক ও ধর্মীয় বাস্তবতা মুসলিম উম্মাহকে শেষ সময়ের ফিতনা সম্পর্কে আরও বেশি সজাগ করে তুলছে।
সম্পদের বণ্টন ও ইমাম মাহদীর শাসন
ইমাম মাহদীর আগমনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হবে সম্পদের ন্যায়সংগত বণ্টন। ইরানের বিশাল তেল ও গ্যাস সম্পদ যদি বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়, তবে তা হাদিসে বর্ণিত সেই প্রাচুর্যের সংকেত হতে পারে। তবে এর আগে পৃথিবীতে বড় ধরনের পরীক্ষা ও যুদ্ধের কথা বলা হয়েছে, যা বর্তমানে আমরা মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে দেখতে পাচ্ছি।
ঐক্যই বাঁচার পথ
ইরানের বর্তমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দ বরাবরই মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের ওপর জোর দিয়েছেন। হাদিস অনুযায়ী, আরব ও অনারবদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই, শ্রেষ্ঠত্বের একমাত্র মাপকাঠি হলো তাকওয়া। বর্তমানের এই যুদ্ধাবস্থায় শিয়া-সুন্নি বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়াই হচ্ছে মুসলমানদের জন্য বড় শক্তি।
বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের এই আগুন কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নাকি মালহামার সূচনা, তার নিশ্চিত জ্ঞান কেবল আল্লাহর কাছেই রয়েছে। তবে বর্তমান ঘটনাপ্রবাহ আমাদের ঈমানকে শক্তিশালী করার এবং কেয়ামতের আলামতগুলো নিয়ে ভাববার সুযোগ করে দিচ্ছে। আমাদের উচিত ফিতনা থেকে বাঁচার দোয়া করা এবং সত্যের পথে অবিচল থাকা।
সোহাগ/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- ইরান সম্পর্কে মহানবী (সাঃ) এর ১০ টি ভবিষ্যদ্বাণী!
- বাংলাদেশকে বড় নিষেধাজ্ঞা দিল সৌদি আরব
- আজকের সোনার বাজারদর: ১ মার্চ ২০২৬
- দেশে জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা
- আজকের সোনার বাজারদর: ২ মার্চ ২০২৬
- এলপি গ্যাসের নতুন দাম নির্ধারণ: সন্ধ্যা থেকে কার্যকর
- ইরান সম্পর্কে ১০টি ভবিষ্যদ্বাণী: যা বলে গেছেন নবীজি (সা.)
- West Indies Vs India; লাইভ দেখুন এখানে
- নবম পে স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে কর্মচারীদের ৫ যুক্তি
- নবম পে-স্কেল ৩ ধাপে কার্যকর: অর্থ প্রতিমন্ত্রীর বড় ঘোষণা
- আজ ১৮, ২১, ২২ ক্যারেট এক ভরি স্বর্ণের দাম
- বাংলাদেশকে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা দিল সৌদি
- ৩ মার্চ পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ: বাংলাদেশ থেকে দেখার সময়
- যেভাবে খামেনিকে হত্যা করা হলো
- পে-স্কেল: সচিবালয়ে অর্থ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কর্মচারী নেতাদের বৈঠক
