সাগরে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ, বিপাকে জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক: সাগরে আশানুরূপ ইলিশ না পাওয়ায় কক্সবাজারের জেলে, ট্রলার মালিক ও মাছ ব্যবসায়ীরা চরম সংকটে পড়েছেন। বৈরী আবহাওয়া ও সমুদ্রে মাছের স্বল্প উপস্থিতির কারণে বড় ট্রলারগুলোও কাঙ্ক্ষিত শিকার নিয়ে ফিরতে পারছে না। ফলে মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের লোকসান বাড়ছে।
কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, ঘাটে মূলত ছোট ট্রলারই ভিড়ছে। এসব ট্রলার থেকে লইট্টা, চিংড়ি, পোপা, ছুরি ও রূপচাঁদাসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ নামানো হলেও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশ মিলছে না।
জেলেদের ভাষ্য, উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় এক থেকে দুই দিনের জন্য জাল ফেললে কিছু সামুদ্রিক মাছ পাওয়া যাচ্ছে। সরবরাহ কম থাকায় এসব মাছের দামও তুলনামূলক বেশি রয়েছে।
জেলে কামাল সিকদার জানান, বর্তমানে ছোট ট্রলারগুলো স্বল্প সময়ের জন্য মাছ ধরতে যাচ্ছে। মাছের পরিমাণ কম হলেও বাজারে ভালো দাম মিলছে। বর্তমানে এক ড্রাম মাছ ২২ থেকে ২৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
জেলে রকিবুল ইসলাম বলেন, ছোট ট্রলারগুলোতে মূলত লইট্টা, চিংড়ি ও পোপা মাছ ধরা পড়ছে। ঘাটে চিংড়ি প্রতি কেজি ২০০ টাকা এবং লইট্টা ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে জেলে ইকবাল হোসেন জানান, ছোট ট্রলারে আনা মাছ দ্রুত বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। পরে সেগুলো ড্রামে ভরে চট্টগ্রামে পাঠানো হচ্ছে। মাছের আকার ও মানভেদে প্রতি ড্রাম ১৭ হাজার থেকে ২৬ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সরকারি ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও বড় ট্রলারগুলো বারবার বৈরী আবহাওয়া ও সতর্ক সংকেতের কারণে গভীর সমুদ্রে নিয়মিত মাছ ধরতে পারছে না। ব্যবসায়ীদের দাবি, সমুদ্রে ইলিশের সংকট থাকায় চাহিদা অনুযায়ী মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেক ট্রলার অলস পড়ে রয়েছে এবং লোকসানের পরিমাণ বাড়ছে।
মৎস্য ব্যবসায়ী হারুন-উর-রশীদ বলেন, ঘাটে ইলিশ ও অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় অনেক কম। বিরূপ আবহাওয়ার কারণে জেলেরা নিয়মিত ইলিশ শিকার করতে পারছেন না।
মৎস্য ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানান, পর্যাপ্ত ইলিশ না পাওয়ায় অনেক ট্রলার মালিক ট্রলার উপকূলে রেখে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। আয় না থাকলেও রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা ব্যয় বহন করতে হচ্ছে, ফলে লোকসান বাড়ছে।
মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ব্যবসায়ী ঐক্য সমবায় সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জয়নাল আবেদীন বলেন, বর্তমানে অন্যান্য মাছ কিছুটা মিললেও তা দিয়ে ট্রলার পরিচালনার ব্যয় ওঠে না। অনেক মালিকের নতুন করে সমুদ্রে যাওয়ার মতো মূলধনও নেই। যেসব ট্রলার যাচ্ছে, সেগুলোতেও মাত্র ১০ থেকে ২৫টি ইলিশ ধরা পড়ছে।
তবে ব্যবসায়ী ও ট্রলার মালিকদের আশা, বৈরী আবহাওয়া কেটে গেলে আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইলিশের মৌসুম পুরোদমে শুরু হবে।
কক্সবাজার জেলা মৎস্য ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি শওকত ওসমান ফারুক বলেন, বর্ষাকাল ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মাছ ধরা ব্যাহত হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও সতর্ক সংকেতের কারণে ট্রলারগুলো বারবার ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছে। তবে আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে আশানুরূপ ইলিশ ধরা পড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ মে থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত কেন্দ্রে ১৩৪ টন ইলিশ এবং ৯৬৮ টন অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ অবতরণ হয়েছে।
আশা/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- পে স্কেলের গেজেট কবে, জানা গেল সম্ভাব্য সময়
- নতুন পে-স্কেলে ইনক্রিমেন্টে বড় পরিবর্তন, কোন গ্রেডে কত
- দুর্গাপূজায় ২ দিনের সরকারি ছুটি, ছুটি পাবেন না যারা
- দেশের বাজারে আজ ১৮, ২১, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম
- আজকের স্বর্ণের বাজারদর; ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- একদিন ছুটি নিলেই মিলবে টানা ৫ দিনের অবকাশ
- টানা ৫ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস, বেশি বৃষ্টি যেসব এলাকায়
- নতুন পে স্কেলে ইনক্রিমেন্ট কমছে উচ্চপদে, বাড়িভাড়াতেও পরিবর্তন
- সোনার দাম কমে এক মাসের সর্বনিম্ন, ভরি কত
- আজকের সকল দেশের টাকার রেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- নতুন Bajaj Pulsar 150-এ বড় পরিবর্তন, থাকছে TFT ডিসপ্লে ও নতুন ইঞ্জিন
- সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৫ দিনের ছুটির সুযোগ
- পে স্কেলের গেজেটে কেন প্রতিটি শব্দ খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে
- লাফিয়ে বাড়ল মালয়েশিয়ান রিংগিতের বিনিময় হার
- নবম পে স্কেলে বাড়িভাড়া ভাতার হার কমছে, তবে বাড়বে টাকার অঙ্ক
