৯ম পে স্কেলের গেজেট কবে? ১৭, ২১ নাকি ২২ সেপ্টেম্বর—সর্বশেষ তথ্য
নিজস্ব প্রতিবেদক: নবম জাতীয় পে স্কেল–২০২৬ নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের অপেক্ষা এখন চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশকে ঘিরে। মন্ত্রিসভায় নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদনের পর প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। ফলে গেজেট কবে প্রকাশ হবে—এ নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে।
সর্বশেষ বিভিন্ন প্রতিবেদনে ১৭, ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর—এই তিনটি তারিখ সম্ভাব্য হিসেবে আলোচনায় এসেছে। তবে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোনো তারিখই সরকারিভাবে চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই গেজেট প্রকাশের দিন নির্ধারিত হবে বলে জানা যাচ্ছে।
গেজেট প্রকাশে দেরি হচ্ছে কেন?
মন্ত্রিসভায় কোনো বেতন কাঠামো অনুমোদন হলেই সঙ্গে সঙ্গে গেজেট প্রকাশ হয় না। অনুমোদিত সিদ্ধান্তকে প্রজ্ঞাপনের চূড়ান্ত ভাষায় রূপ দেওয়া, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের যাচাই-বাছাই এবং আইনগত ভেটিংসহ কয়েকটি প্রশাসনিক ধাপ সম্পন্ন করতে হয়।
এ ক্ষেত্রেও খসড়া প্রজ্ঞাপনের অবস্থান নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ১৫ সেপ্টেম্বরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, খসড়াটি এখনো আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়নি। ১৭ সেপ্টেম্বরের আরেক প্রতিবেদনে একই দাবি করা হয়েছে—খসড়া বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ে রয়েছে।
অন্যদিকে ১২ সেপ্টেম্বরের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, খসড়া প্রজ্ঞাপন আইনগত ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং ভেটিং শেষ হওয়ার পর গেজেট প্রকাশ করা হবে।
ফলে খসড়াটি ঠিক কোন পর্যায়ে রয়েছে, সে বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। এ কারণে নির্দিষ্ট কোনো দিনকে এখনই চূড়ান্ত গেজেটের তারিখ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
১৭, ২১ নাকি ২২ সেপ্টেম্বর?
বর্তমানে আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য তারিখ তিনটি হলো—
-
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
-
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
-
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, এই তিনটি তারিখ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে আইনগত ভেটিংসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই চূড়ান্ত দিন নির্ধারণ করা হবে।
অর্থাৎ ‘১৭ সেপ্টেম্বর গেজেট হবেই’ বা ‘২২ সেপ্টেম্বর নিশ্চিত গেজেট’—এ ধরনের বক্তব্য এখনো সরকারি সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় অনুমোদন
নবম জাতীয় পে স্কেল–২০২৬ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয় ৩১ আগস্ট। নতুন কাঠামোয় ২০টি গ্রেডই রাখা হয়েছে। সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ম গ্রেডের বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
অনুমোদনের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছিলেন, দ্রুত গেজেট প্রকাশ করা হবে। ২ সেপ্টেম্বর তিনি জানিয়েছিলেন, ওই সপ্তাহের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন জারির আশা রয়েছে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হয়েছে।
আগের পে স্কেলের ক্ষেত্রে কী হয়েছিল?
২০১৫ সালের অষ্টম জাতীয় পে স্কেলের উদাহরণও এ ক্ষেত্রে আলোচনায় আসছে। ওই পে স্কেল মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশে কয়েক মাস সময় লেগেছিল।
তাই মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর কিছুটা সময় নিয়ে গেজেট প্রকাশ হওয়া প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারে। তবে ২০২৬ সালের পে স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রত্যাশা বেশি থাকায় গেজেট প্রকাশের প্রতিটি ধাপ ও সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে।
গেজেটের পরও থাকবে আরও কয়েকটি ধাপ
চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ হলেই নতুন পে স্কেলের পুরো বাস্তবায়ন শেষ হবে না। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন শ্রেণি ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পৃথক সাতটি এসআরও জারির পরিকল্পনা রয়েছে। এসব এসআরওর মাধ্যমে বাস্তবায়নের বিস্তারিত বিষয় নির্ধারণ করা হবে।
পুরো প্রক্রিয়াটি মোটামুটি এভাবে এগোতে পারে—
মন্ত্রিসভায় অনুমোদন → চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন → পৃথক এসআরও → iBAS++-এ পে ফিক্সেশন → নতুন বেতন বিল
তাই গেজেট গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটিই পুরো বাস্তবায়নের শেষ ধাপ নয়।
নতুন বেতন নির্ধারণ হবে iBAS++-এ
নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের কাজ অনলাইনে করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য iBAS++-এ চাকরিসংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ ও যাচাই করা হবে।
পদ, গ্রেড, যোগদানের তারিখ, ইনক্রিমেন্ট, পদোন্নতি ও উচ্চতর গ্রেডের মতো তথ্যের ভিত্তিতে নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করা হবে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
মূল বেতন কার্যকর হবে ধাপে ধাপে
নতুন পে স্কেলের মূল বেতন একবারে পুরোপুরি কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত রয়েছে। সরকারি অনুমোদন অনুযায়ী, নতুন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে এবং মূল বেতন তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ কারণে গেজেট প্রকাশের পর প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য নতুন বেতন ফিক্সেশনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
১ জুলাই কার্যকর মানেই সঙ্গে সঙ্গে নতুন বেতন নয়
এখানে তিনটি বিষয় আলাদা করে দেখা দরকার—
১ জুলাই ২০২৬: নতুন পে স্কেলের কার্যকারিতার তারিখ।
গেজেট প্রকাশ: সরকারের চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ।
পে ফিক্সেশন ও বেতন বিল: গেজেট ও বাস্তবায়নসংক্রান্ত নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও iBAS++-এর প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর নতুন হারে বেতন প্রদানের ধাপ।
অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে কাঠামো কার্যকর হলেও নতুন হারে বেতন হাতে পাওয়ার জন্য পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করতে হবে।
বেতন-ভাতায় কী কী পরিবর্তন আসছে?
নতুন পে স্কেলে শুধু মূল বেতন নয়, বিভিন্ন ভাতা ও আর্থিক সুবিধার কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন কাঠামোয় মূল বেতন গ্রেডভেদে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ছে। ২০তম গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং ১ম গ্রেডে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত, মোবাইলসহ বিভিন্ন ভাতার কাঠামো পরিবর্তনের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। তবে এসব সুবিধার চূড়ান্ত প্রয়োগের নিয়ম গেজেট ও সংশ্লিষ্ট এসআরওতে স্পষ্ট হবে।
নতুন কাঠামোয় বিভিন্ন ভাতা ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে কার্যকর করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
ইনক্রিমেন্টেও বড় পরিবর্তন
নতুন পে স্কেলে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হার গ্রেডভেদে আলাদা করার প্রস্তাব রয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গ্রেড ২০ থেকে ৬ পর্যন্ত ৫ শতাংশ, গ্রেড ৫-এ ৪ শতাংশ, গ্রেড ৪ ও ৩-এ ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং গ্রেড ২-এ ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।
ফলে বর্তমান কাঠামোর তুলনায় উচ্চতর গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হার কমে আসবে।
গেজেট প্রকাশ হলে যেসব বিষয় পরিষ্কার হবে
চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আরও স্পষ্ট হবে। এর মধ্যে রয়েছে—
১. প্রতিটি গ্রেডের চূড়ান্ত মূল বেতন২. ধাপে ধাপে বেতন বাস্তবায়নের পদ্ধতি৩. বিভিন্ন ভাতার চূড়ান্ত হার৪. ইনক্রিমেন্টের নিয়ম৫. উচ্চতর গ্রেডের হিসাব৬. পেনশন ও অবসর সুবিধার হিসাব৭. iBAS++-এ পে ফিক্সেশনের নিয়ম৮. বকেয়া বা এরিয়ার পরিশোধের পদ্ধতি
এ কারণে সরকারি চাকরিজীবীদের কাছে গেজেটটি নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি।
তাহলে গেজেট কবে?
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৭, ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর—এই তিনটি তারিখ সম্ভাব্য হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। তবে কোনো তারিখই এখনো চূড়ান্ত সরকারি ঘোষণা নয়।
সবচেয়ে নিরাপদভাবে বলা যায়, নবম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া চলমান এবং সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। তবে আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট তারিখ নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না।
এক নজরে সর্বশেষ আপডেট
-
মন্ত্রিসভায় অনুমোদন: ৩১ আগস্ট ২০২৬
-
কার্যকর তারিখ: ১ জুলাই ২০২৬
-
সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন: ২০,০০০ টাকা
-
সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন: ১,৫৬,০০০ টাকা
-
সম্ভাব্য গেজেটের আলোচিত তারিখ: ১৭, ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর
-
চূড়ান্ত গেজেটের তারিখ: এখনো সরকারি ঘোষণা হয়নি
-
পরবর্তী বাস্তবায়ন: পৃথক এসআরও ও iBAS++-এ পে ফিক্সেশন
-
বিভিন্ন ভাতা কার্যকরের পরিকল্পনা: ১ জানুয়ারি ২০২৮
নবম জাতীয় পে স্কেল এখন অনুমোদনের পর্যায় পেরিয়ে বাস্তবায়নের প্রস্তুতি পর্যায়ে রয়েছে। তাই এখন সরকারি চাকরিজীবীদের মূল অপেক্ষা চূড়ান্ত গেজেটের জন্য। গেজেট প্রকাশের পরই নতুন বেতন কাঠামোর বাস্তব প্রয়োগ, এসআরও জারি এবং পে ফিক্সেশনের পরবর্তী ধাপগুলো আরও স্পষ্ট হবে।
সিদ্দিকা/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- পে স্কেলের গেজেট কবে, জানা গেল সম্ভাব্য সময়
- নতুন পে-স্কেলে ইনক্রিমেন্টে বড় পরিবর্তন, কোন গ্রেডে কত
- দুর্গাপূজায় ২ দিনের সরকারি ছুটি, ছুটি পাবেন না যারা
- দেশের বাজারে আজ ১৮, ২১, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম
- আজকের স্বর্ণের বাজারদর; ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- একদিন ছুটি নিলেই মিলবে টানা ৫ দিনের অবকাশ
- টানা ৫ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস, বেশি বৃষ্টি যেসব এলাকায়
- নতুন পে স্কেলে ইনক্রিমেন্ট কমছে উচ্চপদে, বাড়িভাড়াতেও পরিবর্তন
- সোনার দাম কমে এক মাসের সর্বনিম্ন, ভরি কত
- আজকের সকল দেশের টাকার রেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- নতুন Bajaj Pulsar 150-এ বড় পরিবর্তন, থাকছে TFT ডিসপ্লে ও নতুন ইঞ্জিন
- সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৫ দিনের ছুটির সুযোগ
- লাফিয়ে বাড়ল মালয়েশিয়ান রিংগিতের বিনিময় হার
- পে স্কেলের গেজেটে কেন প্রতিটি শব্দ খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে
- নবম পে স্কেলে বাড়িভাড়া ভাতার হার কমছে, তবে বাড়বে টাকার অঙ্ক
