স্ত্রী থেকে স্বামী কতদিন দূরে থাকতে পারেন? ইসলাম কী বলে
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিয়ে ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত এবং পারিবারিক জীবনের ভিত্তি। স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও একে অপরের অধিকার রক্ষা করেই একটি সুন্দর পরিবার গড়ে ওঠে। তাই ইসলাম দাম্পত্য সম্পর্ককে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত, তাদের বিয়ে সম্পন্ন করে দাও। তারা যদি অভাবগ্রস্তও হয়, আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের সচ্ছল করে দেবেন।’ (সুরা আন-নূর: ৩২)
রাসুলুল্লাহ (সা.) যুবকদের উদ্দেশে বলেন, ‘যার বিয়ের সামর্থ্য আছে, সে যেন বিয়ে করে। কারণ, বিয়ে দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে হেফাজত করে।’ (সহিহ বুখারি: ৫০৬৬, সহিহ মুসলিম: ১৪০০)
দাম্পত্য জীবনে উভয়ের অধিকার
ইসলামে স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই একে অপরের ওপর নির্দিষ্ট অধিকার রয়েছে। বিদায় হজের ভাষণে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের নারীদের ওপর যেমন তোমাদের অধিকার রয়েছে, তেমনি তোমাদের ওপরও তাদের অধিকার রয়েছে।’ (সুনানে তিরমিজি)
স্ত্রীর ভরণ-পোষণ, নিরাপত্তা, সম্মান ও ন্যায়সঙ্গত আচরণের দায়িত্ব স্বামীর ওপর অর্পিত। এসব দায়িত্বে অবহেলা করলে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
কতদিন স্ত্রী থেকে দূরে থাকা যায়?
সাধারণভাবে ইসলাম চায় স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে বসবাস করুক। তবে জীবিকা, দায়িত্ব বা বিশেষ প্রয়োজনের কারণে স্বামীকে দূরে থাকতে হলে শরিয়তের আলোকে একটি সময়সীমার কথা ইসলামী ফকিহরা উল্লেখ করেছেন।
হজরত উমর (রা.)-এর সময়কার একটি ঘটনার ভিত্তিতে অধিকাংশ ইসলামী আইনবিদের মতে, চার মাসের বেশি সময় স্ত্রীকে একা রেখে দূরে থাকা উচিত নয়, যদি না স্ত্রীর সম্মতি থাকে।
বর্ণিত আছে, এক রাতে নগর পরিদর্শনের সময় হজরত উমর (রা.) এক নারীর কণ্ঠে স্বামীর বিচ্ছেদের কষ্টের কথা শুনতে পান। পরে তিনি নিজের কন্যা হজরত হাফসা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করেন, একজন নারী কতদিন স্বামীর অনুপস্থিতি সহ্য করতে পারেন। উত্তরে তিনি বলেন, প্রায় চার মাস। এরপর থেকেই হজরত উমর (রা.) মুজাহিদদের চার মাস পরপর পরিবারে ফিরে আসার ব্যবস্থা করেন। (মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক, হাদিস: ১২৫৯৪)
চার মাসের বেশি দূরে থাকতে চাইলে
ইসলামী ফকিহদের মতে, প্রয়োজনের কারণে চার মাসের বেশি সময় বাইরে থাকতে হলে স্ত্রীর সম্মতি নেওয়া উচিত। স্ত্রী যদি এতে সন্তুষ্ট থাকেন এবং উভয়ের জন্য ফিতনা বা গুনাহে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা না থাকে, তাহলে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও বেশি সময় দূরে থাকা বৈধ হতে পারে।
তবে যদি দীর্ঘ বিচ্ছেদের কারণে স্বামী বা স্ত্রীর গুনাহে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়, তাহলে চার মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই ফিরে আসা জরুরি।
আলেমদের মতামত
প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ আল্লামা তাকি উসমানি (রহ.) বলেন, চার মাসের কম সময়ের সফরের জন্য স্ত্রীর অনুমতি প্রয়োজন হয় না। কিন্তু চার মাসের বেশি সময়ের সফর হলে, তা হজ, দাওয়াত, তাবলিগ বা অন্য যেকোনো নেক কাজের উদ্দেশ্যেই হোক না কেন, স্ত্রীর সম্মতি নেওয়া আবশ্যক।
ইসলামের মূল শিক্ষা
ইসলামে দাম্পত্য সম্পর্কের ভিত্তি হলো পারস্পরিক ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ, সম্মান ও সহযোগিতা। তাই প্রয়োজন ছাড়া দীর্ঘদিন আলাদা থাকা নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি ভেদে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক বোঝাপড়া, সম্মতি এবং শরিয়তের নির্দেশনাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আশা/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- আজকের সকল দেশের টাকার রেট: ১৭ আগস্ট ২০২৬
- আজকের স্বর্ণের বাজারদর ১৮ আগস্ট ২০২৬
- আজকের স্বর্ণের বাজারদর: ১৭ আগস্ট ২০২৬
- দেশের বাজারে আজ ২১ ক্যারেট সোনার দাম
- র্যাব বিলুপ্ত করে নতুন বাহিনী এসআরবি, পুলিশের অধীনে থাকবে
- নবম পে স্কেলে বড় সুখবর, দুই ধাপে বাড়বে বেতন
- সামনে ৬ দিন সরকারি ছুটি, তবে আছে দুঃসংবাদও
- মাতৃত্বকালীন ভাতা ২০২৬: অনলাইনে আবেদন, শর্ত ও কত টাকা পাবেন
- ২০২৬ সালেই পে-স্কেল ঘোষণা করা হবে: অর্থমন্ত্রী
- অর্থবছরের সময়সীমায় বড় পরিবর্তন, নতুন হিসাব এপ্রিল-মার্চ
- আজকের সকল দেশের টাকার রেট: ১৮ আগস্ট ২০২৬
- বাড়ল সৌদি রিয়ালের বিনিময় হার
- এসএসসি খাতা চ্যালেঞ্জে রেকর্ড আবেদন, ফল প্রকাশ কবে
- বাংলাদেশে ২০৩০ সালে ২১ ক্যারেট সোনার দাম কত হতে পারে
- Xiaomi 18 নিয়ে বড় ফাঁস, স্ট্যান্ডার্ড মডেল আসছে ডিসেম্বরে
