সোহাগ আহমদে
সিনিয়র রিপোর্টার
৭ মার্চ নিয়ে খোলামেলা যা বললেন ফারুকী
নিজস্ব প্রতিবেদক: ইতিহাসে যার যেখানে প্রাপ্য স্থান, তাকে সেই মর্যাদা দেওয়া উচিত—এমন এক সাহসী অবস্থান থেকে নিজের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা। ৭ মার্চের ভাষণের প্রশংসা করায় অতীতে তাকে নির্দিষ্ট দলের সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা হলেও, বর্তমান প্রেক্ষাপটে তিনি ইতিহাসের ব্যবচ্ছেদ করেছেন নতুন আঙ্গিকে।
ব্যক্তিগত অবস্থান ও দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে
নির্মাতা স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের চিরস্থায়ী সমর্থক নন। তার কাছে জুলাই গণহত্যা, গুম, খুন ও লুণ্ঠন কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি মনে করেন, ৭ মার্চের প্রশংসা করার অর্থ এই নয় যে পরবর্তী সময়ের ফ্যাসিবাদ বা অন্যায়কে সমর্থন দিতে হবে। তিনি অতীতেও যেমন বাঙালি ও ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের নামে গড়ে ওঠা ফ্যাসিবাদী কাঠামোর বিপদ নিয়ে লিখেছেন, তেমনি বর্তমানের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় ইতিহাসের অসংগতিগুলো সামনে এনেছেন।
ইতিহাসের একক বয়ান ও ফ্যাসিবাদের জন্ম
নির্মাতা আত্মালোচনার সুরে স্বীকার করেছেন যে, অতীতে ৭ মার্চকে কেন্দ্র করে স্বাধীনতার যে একক ইতিহাস রচনায় অনেকে সাহায্য করেছিলেন, তা দীর্ঘমেয়াদে দেশে এক নিষ্ঠুর ফ্যাসিবাদ কায়েমে সহায়তা করেছে। তিনি মনে করেন, ৭ মার্চের মহিমা দিয়ে পরবর্তী সময়ের অনেক বিতর্কিত অধ্যায় ঢাকা দেওয়া সম্ভব নয়। ২৫শে মার্চ পরবর্তী নেতৃত্বে সিদ্ধান্তহীনতা, জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা, রক্ষীবাহিনীর হাতে গুম-খুন, কিংবা স্বাধীনতার পর বিহারি-চাকমা-জাসদ কর্মীদের ওপর চালানো দমনপীড়নকে আড়াল করার সুযোগ নেই। এমনকি গণতন্ত্রের নামে বাকশাল গঠন বা পত্রিকা নিষিদ্ধ করার মতো ঘটনাগুলোকেও ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা যায় না।
ইতিহাসকে প্রশ্ন করার নতুন পাঠ
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ইতিহাসের অন্ধকার অধ্যায়গুলোকে প্রশ্ন করতে শিখিয়েছে। নির্মাতা প্রশ্ন তুলেছেন, কেন আমাদের ইতিহাসের আলোচনা কেবল ৫২ থেকে শুরু হয়? কেন ৪৭-এর দেশভাগ বা এর প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা হয় না? তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন যে, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের মতো নেতা, যিনি আমাদের পূর্বপুরুষদের জমিদারি শোষণ থেকে মুক্ত করেছিলেন, তাকে মূলধারার ইতিহাস ও মিডিয়া থেকে প্রায় মুছে ফেলা হয়েছে।
সাংস্কৃতিক ব্লু-প্রিন্ট ও অবহেলিত নায়ক
মওলানা ভাসানী বা তিতুমীরের মতো বিপ্লবীরা কেন মধ্যবিত্তের হৃদয়ে জায়গা পেলেন না, কিংবা কেন জিয়াউর রহমানকে একটি বিশেষ গোষ্ঠী নেতিবাচক হিসেবে চিত্রিত করল—এই প্রশ্নগুলো এখন তোলা জরুরি বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, গুম হওয়া মানুষদের প্রতি মধ্যবিত্ত সমাজের এই যে উদাসীনতা, তা দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত সাংস্কৃতিক ব্লু-প্রিন্টের ফল।
৭ মার্চে শেখ মুজিবুর রহমানকে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে স্মরণ করার পাশাপাশি ইতিহাসের সামগ্রিক সত্যকে অনুসন্ধানের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। তার মতে, ফ্যাসিবাদ আকাশ থেকে পড়ে না, এটি একটি সাংস্কৃতিক নকশার মাধ্যমে তৈরি হয়। তাই ৭ মার্চকে কেবল ৭ মার্চ হিসেবে রাখাই শ্রেয়, একে ২৬ মার্চের সমতুল্য করার চেষ্টা ইতিহাসের বিকৃতি ছাড়া আর কিছুই নয়।
সোহাগ/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- সরকারি চাকরিতে বড় পরিবর্তন: ৩ বছরের ‘ব্যাকডেট’ সুবিধা
- সরকারি চাকরিতে বড় সুখবর: নতুন পে স্কেলের পথে সরকার
- জুলাই ২০২৬ থেকে নবম পে স্কেল কার্যকর
- ৮ মার্চ থেকে নতুন নিয়মে তেল বিক্রি
- আরব আমিরাত ও বাংলাদেশে ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা
- আজকের সোনার বাজারদর: ৭ মার্চ ২০২৬
- ২০২৬ সালের জুলাই থেকে নবম পে স্কেল কার্যকরের পরিকল্পনা
- জুলাই ২০২৬ থেকে নবম পে স্কেল; ১২ই মার্চ আসছে বড় সিদ্ধান্ত
- জাতীয়করণ যেভাবে করা হবে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
- আজ এক ভরি স্বর্ণের দাম
- বাংলাদেশে ঈদ ২০ মার্চ না ২১ মার্চ! জ্যোতির্বিজ্ঞানের চুড়ান্ত সময় ঘোষণা
- বাংলাদেশে আজ এক ভরি ১৮, ২১, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম
- তেলের দাম এক সপ্তাহে বাড়লো ২০ শতাংশ
- সোনার দামে বড় পতন: আজ থেকে নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে ভরি
- রাজধানীর বাস কাউন্টারগুলোতে টিকিট বিক্রি বন্ধ
