এলএনজি গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তায়
নিজস্ব প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনার জেরে কাতারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন ও রপ্তানি সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরণের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আমদানিনির্ভর দেশ হওয়ায় এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশে। ফলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে।
জ্বালানি পরিস্থিতির বর্তমান চিত্র
পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৪ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বর্তমানে সরবরাহ করা হচ্ছে ২ হাজার ৬৬২ মিলিয়ন ঘনফুট, যার প্রায় ৩৫ শতাংশ মেটানো হয় আমদানি করা এলএনজি দিয়ে। কাতার এনার্জি উৎপাদন স্থগিত করায় এবং সৌদি আরবের রাস তানুরা রিফাইনারি সতর্কতামূলকভাবে বন্ধ রাখায় আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি পরিবহন পথ 'হরমুজ প্রণালি' দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে প্রভাবের শঙ্কা
বিপিডিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের অধিকাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাসভিত্তিক। এলএনজি সরবরাহ কমে গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন হ্রাস পাবে, যার ফলে লোডশেডিং বাড়তে পারে। পাশাপাশি পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ কমে গেলে শিল্পকারখানা, যানবাহন (সিএনজি) এবং আবাসিক গ্রাহকদের রান্নাবান্নায় চরম ভোগান্তি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমান সংকটে তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা ও বিকল্প উৎস
চলতি মার্চ মাসে কাতার ও ওমান থেকে ১১টি এলএনজি কার্গো আসার কথা রয়েছে। পেট্রোবাংলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির আওতায় এলএনজি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হলে তারা স্পট মার্কেট বা খোলাবাজার থেকে গ্যাস কেনার কথা ভাবছেন। তবে এতে আমদানিতে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে, যা দেশের অর্থনীতিতে ভর্তুকির চাপ বাড়াবে।
তবে আশার কথা শুনিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি জানিয়েছেন, চলতি মার্চ মাসে দেশে জ্বালানি বা বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি হবে না। সংঘাত দীর্ঘমেয়াদী হলে পুরো বিশ্বই সংকটে পড়বে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
তেল ও এলপিজির বর্তমান মজুদ
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে ১ লাখ ৩৬ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেলের মজুদ রয়েছে। বর্তমান মজুদ দিয়ে ডিজেল ১৪ দিন, অকটেন ২৮ দিন এবং জেট ফুয়েল ৫৫ দিন চলবে। পরিশোধিত তেল মূলত সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও চীন থেকে আসায় এ ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কম। তবে সৌদি আরব ও আমিরাত থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানিতে সমস্যা হতে পারে। অন্যদিকে, বেসরকারি খাতে আমদানিনির্ভর এলপিজির দাম বাড়লে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্লেষকদের অভিমত
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম মনে করেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে। দেশে পর্যাপ্ত মজুদ না থাকায় দ্রুত বিকল্প উৎস নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার প্রস্তুতি রাখা জরুরি।
আশা/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- ইরান সম্পর্কে ১০টি ভবিষ্যদ্বাণী: যা বলে গেছেন নবীজি (সা.)
- এলপি গ্যাসের নতুন দাম নির্ধারণ: সন্ধ্যা থেকে কার্যকর
- ১৯ থেকে ২৮ মার্চ টানা ছুটি; ঈদুল ফিতরে বড় সুখবর
- নবম পে স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে কর্মচারীদের ৫ যুক্তি
- নবম পে-স্কেল ৩ ধাপে কার্যকর: অর্থ প্রতিমন্ত্রীর বড় ঘোষণা
- ৩ মার্চ পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ: বাংলাদেশ থেকে দেখার সময়
- ১৮ মার্চ কি সাধারণ ছুটি
- আজ এক ভরি ১৮, ২১, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম
- জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়ল
- ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাড়ল স্বর্ণের দাম
- বাংলাদেশকে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা দিল সৌদি
- আজ পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ: বাংলাদেশ থেকে দেখার সময় জানুন
- পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে সর্বশেষ যা জানা গেল
- পে স্কেল: সরকারের ইতিবাচক সংকেত ও কর্মচারীদের আল্টিমেটাম
- প্রতিশোধ নিতে ইরানের পাশে দাঁড়াল যেসব পরাশক্তি
