১১ ঘণ্টার ব্যবধানে দ্বিতীয়বার বাড়ল সোনার দাম
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বাজারে সোনার দামে এক নজিরবিহীন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। শনিবার সকালে একবার দাম বাড়ানোর পর মাত্র ১১ ঘণ্টার ব্যবধানে রাতেই ফের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন ঘোষণায় ভরিতে আরও ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৬৮ হাজার ৬৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মূল্যবৃদ্ধির কারণ ও কার্যকারিতা
বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এই জরুরি সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন এই দাম রবিবার ১ মার্চ থেকে সারাদেশে কার্যকর হবে। উল্লেখ্য, শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালেই এক দফা দাম বাড়ানো হয়েছিল, যা একই দিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে কার্যকর ছিল। একদিনে দুই দফায় দাম বাড়ার এমন ঘটনা দেশের ইতিহাসে বিরল।
সোনার নতুন বাজারদর (প্রতি ভরি)
১. ২২ ক্যারেট: ২ লাখ ৬৮ হাজার ৬৮০ টাকা।
২. ২১ ক্যারেট: ২ লাখ ৫৬ হাজার ৪৩৩ টাকা।
৩. ১৮ ক্যারেট: ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা।
৪. সনাতন পদ্ধতি: ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮৫৯ টাকা।
বাজুস জানিয়েছে, এই মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত করতে হবে। গহনার নকশা ও মান অনুযায়ী মজুরির হার ভিন্ন হতে পারে।
রুপার দামেও বড় পরিবর্তন
সোনার পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রুপার দামও। এক দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় রুপার দাম ভরিতে ১১৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এতে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৯৯৮ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট ৬ হাজার ৭০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৫ হাজার ৭১৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৪ হাজার ৩১৬ টাকায় কেনাবেচা হবে।
বাজারের অস্থির চিত্র
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসেই এখন পর্যন্ত ৩৪ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ২২ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালেও মোট ৯৩ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং স্থানীয় চাহিদার কারণে সোনার বাজারে এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
রাকিব/
