দীর্ঘ ৬ মাস পর ভারতীয় ভিসা নিয়ে পাওয়া গেল নতুন খবর

ভারত রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা সেবা বন্ধ রেখেছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে অভাবনীয় প্রভাব পড়েছে। বিশেষত, বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে যাত্রী চলাচল উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে এই রুটে যাত্রী সংখ্যা ২০২৩ সালের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২ লাখ ৩৪ হাজার কমে গেছে। এই ঘটনা চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা এবং পর্যটন ক্ষেত্রে বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বেনাপোল থেকে ভারতের কলকাতার দূরত্ব মাত্র ৮৪ কিলোমিটার। তবুও ভিসা সেবা বন্ধ থাকায় এই সংক্ষিপ্ত দূরত্ব পাড়ি দিতে পারছেন না অনেক যাত্রী। বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ওসি ইমতিয়াজ মোহাম্মদ আহসানুল কাদের ভূঁইয়া জানান, “ভিসা বন্ধ থাকায় যাত্রী সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে গেছে। তবে, যারা ভিসা পেয়েছেন, তাদের সেবা দিতে আমরা সব সময় প্রস্তুত।”
এদিকে, বেনাপোল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক ফয়সাল আহসান সজীব বলেছেন, “বন্দরের আয়ে প্রভাব পড়েছে, তবে আমরা আশাবাদী যে শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। উভয় দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কও উন্নতি পাবে।”
ভিসা বন্ধ থাকার কারণে কেবল যাত্রী চলাচল নয়, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। চিকিৎসার জন্য ভারত যেতে না পারা রোগীরা যেমন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন, তেমনি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার সুযোগ হারাচ্ছেন। বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা তাদের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পাদন করতে পারছেন না, যা অর্থনীতিতে ধস নামাচ্ছে।
একজন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী বলেন, “ভারতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার ফলে আমাদের পণ্যের ক্রয়-বিক্রয় চুক্তিগুলো ঝুলে আছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেড়ে যাচ্ছে।”
বাংলাদেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ায় ভুক্তভোগীরা ভারতের প্রতি ভিসা সেবা পুনরায় চালুর আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে যারা চিকিৎসা ও শিক্ষার জন্য ভারতে নির্ভরশীল, তারা দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চান।
গত ১৯ জানুয়ারি বেনাপোল ইমিগ্রেশন দিয়ে মাত্র ১,৭৩৫ জন যাত্রী যাতায়াত করেছেন, যা ২০২৩ সালের তুলনায় অনেক কম। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী এবং রোগী সবাই ভারতীয় দূতাবাস ও দুই দেশের সরকারের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন।
ভারতীয় ভিসা বন্ধ থাকার বিষয়টি শুধু যাতায়াত বা ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর প্রভাব ফেলেনি; এটি দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কেও নেতিবাচক ছাপ ফেলছে। বাংলাদেশি জনগণ মনে করেন, ভিসা সেবা বন্ধ রাখা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, “ভিসা সেবা চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের গতিশীলতা ফিরবে এবং দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বাড়বে। এটি শুধু অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”
বাংলাদেশ ও ভারতের সাধারণ জনগণের আশা, দ্রুত ভিসা সেবা চালু করা হবে। এতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও মজবুত হবে এবং চিকিৎসা, শিক্ষা ও ব্যবসাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে। বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে এর নেতিবাচক প্রভাব আরও গভীর হতে পারে। এজন্য উভয় দেশের সরকারকে দ্রুত কার্যকর সমাধানের পথে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে।
আপনার ন্য নির্বািত নিউজ
- বদলে গেল ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটির তারিখ
- বাড়ল সোনার দাম, দেখে নিন আজকের দাম
- এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাড়িভাড়া বাড়ছে
- ঈদে মিলাদুন্নবীর সরকারি ছুটি পরিবর্তন, জেনে নিন নতুন তারিখ
- আজ এক ভরি ১৮, ২১, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম
- নতুন তেলের খনিতে বদলে যাবে বাংলাদেশ
- নির্বাচনের রোডম্যাপ: তফসিল-ভোটের তারিখ ঘোষণা
- সেনাবাহিনীর বিশেষ বিজ্ঞপ্তি: নির্বাচনে থাকছে না সেনা
- নবীজির যুগে যে চারজন সাহাবি বাংলাদেশে এসেছিলেন
- বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বাঁধ উড়িয়ে দিল পাকিস্তান
- বাংলাদেশের বাজারে বাড়লো স্বর্ণের দাম
- ৯০ মিনিটের খেলা শেষ: বাংলাদেশ বনাম ভুটানের ম্যাচ
- নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা: ১২ ফেব্রুয়ারি হতে পারে ভোট
- ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটি: কারা পাবেন না
- ৫ দিন বজ্রবৃষ্টি ও ভারি বর্ষণ হতে পারে যেসব অঞ্চলে