নতুন Bajaj Pulsar 150 বনাম পুরোনো মডেল, কী কী পরিবর্তন হলো
নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ অপেক্ষার পর নতুন প্রজন্মের ক্লাসিক Pulsar 150 বাজারে এনেছে Bajaj। নতুন মডেলে ইঞ্জিন, চেসিস, সাসপেনশন ও ফিচারে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে নতুন বাইকে সব দিক থেকে উন্নতি হয়েছে এমন নয়। পুরোনো Pulsar 150-এর কিছু সুবিধা নতুন মডেলে আর থাকছে না।
দাম ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের দিক থেকে নতুন ও পুরোনো Pulsar 150-এর মধ্যে পার্থক্যগুলো দেখে নেওয়া যাক।
ইঞ্জিনে বড় পরিবর্তন
নতুন ও পুরোনো দুই Pulsar 150-তেই ১৪৯.৫ সিসির সিঙ্গেল-সিলিন্ডার ইঞ্জিন রয়েছে। তবে ইঞ্জিনের প্রযুক্তিতে পার্থক্য আছে। পুরোনো মডেলে ছিল এয়ার-কুলড ইঞ্জিন, আর নতুন মডেলে যুক্ত হয়েছে অয়েল-কুলিং প্রযুক্তি।
নতুন Pulsar 150-এর সর্বোচ্চ ক্ষমতা ১৪ hp, যা পাওয়া যায় ৮ হাজার rpm-এ। পুরোনো মডেলেও ক্ষমতা ছিল ১৪ hp, তবে সেটি পাওয়া যেত ৮ হাজার ৫০০ rpm-এ।
টর্কের ক্ষেত্রে নতুন মডেল এগিয়ে। এতে সর্বোচ্চ ১৪.১ Nm টর্ক পাওয়া যায় ৬ হাজার ৫০০ rpm-এ। পুরোনো মডেলে টর্ক ছিল ১৩.২ Nm।
দুই মডেলেই রয়েছে ৫-স্পিড গিয়ারবক্স। Bajaj-এর দাবি, নতুন মডেলের উন্নত পাওয়ার-টু-ওয়েট অনুপাতের কারণে ০ থেকে ৬০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছানোর সময়ও আগের তুলনায় ভালো হয়েছে।
চেসিস ও সাসপেনশনে পরিবর্তন
নতুন Pulsar 150-এ চেসিসেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। পুরোনো মডেলের ডুয়াল-ক্র্যাডল ফ্রেমের পরিবর্তে নতুন বাইকে সিঙ্গেল-ক্র্যাডল বা ডায়মন্ড ফ্রেম ব্যবহার করা হয়েছে। এখানে ইঞ্জিন চেসিসের স্ট্রেসড মেম্বার হিসেবে কাজ করে।
Bajaj-এর মতে, নতুন ফ্রেম বাইকের দৃঢ়তা বাড়িয়েছে। ফলে হ্যান্ডলিং ও স্থিতিশীলতাও আগের তুলনায় উন্নত হওয়ার কথা।
সামনের দিকে নতুন Pulsar 150-এ রয়েছে ৩৩ মিমি ব্যাসের টেলিস্কোপিক ফর্ক, যার ট্রাভেল ১২৫ মিমি। পুরোনো মডেলের টপ ভ্যারিয়েন্টে ছিল ৩৭ মিমি ফর্ক এবং ১৩০ মিমি ট্রাভেল। বেস ভ্যারিয়েন্টে ছিল ৩১ মিমি ফর্ক এবং ১৩৫ মিমি ট্রাভেল।
পেছনের সাসপেনশনে অবশ্য নতুন মডেলে বড় পরিবর্তন এসেছে। পুরোনো টুইন-শক সেটআপের পরিবর্তে নতুন Pulsar 150-এ মনোশক ব্যবহার করা হয়েছে। এর ট্রাভেলও ৮ মিমি বেড়ে হয়েছে ১১০ মিমি। Bajaj-এর দাবি, এতে সোজা পথে ও কর্নারিংয়ের সময় বাইকের স্থিতিশীলতা বাড়বে।
লাইটিংয়েও পরিবর্তন
নতুন Pulsar 150-এর হেডলাইট ও টেললাইটে LED প্রযুক্তি থাকছে। তবে ফেয়ারিংয়ের ডিজাইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
পুরোনো মডেলে স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে থাকা LED ইন্ডিকেটর এখন নতুন মডেলের শুধু ওপরের দুটি ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যাবে। একইভাবে হ্যাজার্ড লাইট ও বেলি প্যানও শুধু টপ দুই ভ্যারিয়েন্টে রাখা হয়েছে।
চাকা, টায়ার ও ব্রেকে পুরোনো মডেল এগিয়ে
নতুন Pulsar 150-এর একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে টায়ারের ক্ষেত্রে। নতুন মডেলের তিনটি ভ্যারিয়েন্টেই ৮০/১০০-১৭ সামনের এবং ১০০/৯০-১৭ পেছনের টায়ার ব্যবহার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পুরোনো Pulsar 150-এর টপ ভ্যারিয়েন্টে বড় টায়ার ছিল। সেখানে সামনের টায়ার ছিল ৯০/৯০-১৭ এবং পেছনের ১২০/৮০-১৭।
ব্রেকের ক্ষেত্রেও কিছু পার্থক্য রয়েছে। নতুন মডেলের বেস ভ্যারিয়েন্টে সামনে ২৬০ মিমি ডিস্ক ও পেছনে ১৩০ মিমি ড্রাম ব্রেক রয়েছে। মাঝারি ও টপ ভ্যারিয়েন্টে পেছনে ২৩০ মিমি ডিস্ক ব্রেক দেওয়া হয়েছে।
পুরোনো মডেলের টপ ভ্যারিয়েন্টে সামনে ২৮০ মিমি ডিস্ক ব্রেক ছিল। দুই প্রজন্মের বাইকেই সিঙ্গেল-চ্যানেল ABS স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে রয়েছে।
নতুন Pulsar 150-এ ফিচার বেড়েছে অনেক
ফিচারের দিক থেকে নতুন Pulsar 150 পুরোনো মডেলকে অনেকটাই ছাড়িয়ে গেছে। পুরোনো মডেলের বেস ভ্যারিয়েন্টে ছিল সেমি-ডিজিটাল ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার এবং টপ ভ্যারিয়েন্টে ছিল নেগেটিভ LCD ইউনিট।
নতুন মডেলে বেস ভ্যারিয়েন্টে ৫ ইঞ্চির LCD ক্লাস্টার এবং মাঝারি ও টপ ভ্যারিয়েন্টে ৫ ইঞ্চির TFT ডিসপ্লে দেওয়া হয়েছে। তিনটি ভ্যারিয়েন্টেই Bluetooth কানেক্টিভিটি স্ট্যান্ডার্ড।
এর মাধ্যমে মিউজিক কন্ট্রোল, কল ও SMS অ্যালার্টসহ বিভিন্ন কানেক্টেড ফিচার ব্যবহার করা যাবে। টপ ভ্যারিয়েন্টে রয়েছে Wi-Fi সুবিধাও।
TFT ডিসপ্লেতে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও RC-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ নথি সংরক্ষণের সুবিধা রয়েছে। টপ ভ্যারিয়েন্টে Google Maps মিররিংয়ের মাধ্যমে নেভিগেশন ব্যবহার করা যাবে। অন্য দুই ভ্যারিয়েন্টে রয়েছে টার্ন-বাই-টার্ন নেভিগেশন।
চার্জিংয়ের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। নতুন Pulsar 150-এর ওপরের দুটি ভ্যারিয়েন্টে USB Type-C পোর্ট রয়েছে, যা পুরোনো মডেলের USB Type-A পোর্টের তুলনায় আধুনিক।
তিনটি রাইডিং মোড
নতুন Pulsar 150-এ Road, Rain ও Sport এই তিনটি রাইডিং মোড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে Crawl Tech এবং Integrated Starter Generator বা ISG।
Crawl Tech যানজটের মতো ধীরগতির চলাচলে বাইক নিয়ন্ত্রণ সহজ করে। ISG সাইলেন্ট স্টার্ট এবং স্টপ-স্টার্ট সুবিধা দেয়, যা জ্বালানি সাশ্রয়ে সহায়তা করতে পারে। তবে ISG সুবিধাটি শুধু ওপরের দুটি ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যাবে।
নতুন Pulsar 150-এর দাম কত?
নতুন Pulsar 150-এর দাম শুরু হয়েছে ১.১৫ লাখ রুপি থেকে এবং টপ ভ্যারিয়েন্টের দাম ১.২৩ লাখ রুপি পর্যন্ত।
অন্যদিকে, পুরোনো Pulsar 150-এর দাম ছিল ১.১১ লাখ থেকে ১.১৮ লাখ রুপির মধ্যে। অর্থাৎ নতুন মডেলটি ভ্যারিয়েন্টভেদে অন্তত ৪ হাজার রুপি বেশি দামে এসেছে।
সব মিলিয়ে নতুন Pulsar 150-এ ইঞ্জিন, চেসিস, সাসপেনশন, ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার, কানেক্টিভিটি ও রাইডিং ফিচারে বেশ কিছু আধুনিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে বড় টায়ার, বড় ফ্রন্ট ব্রেক ও কিছু হার্ডওয়্যার সুবিধার ক্ষেত্রে পুরোনো মডেল কিছুটা এগিয়ে।
তাই নতুন Pulsar 150 সত্যিই পুরোনো মডেলের চেয়ে কতটা ভালো, সেটি শুধু স্পেসিফিকেশন দেখে নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। বাস্তব রাইডিং অভিজ্ঞতা এবং টেস্ট রাইডের পরই এ বিষয়ে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
সোহাগ/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- সেপ্টেম্বরে নবম পে স্কেলের গেজেট, অক্টোবর থেকে নতুন বেতন
- ২৬ আগস্টের সরকারি ছুটি, যারা পাবেন না
- সেপ্টেম্বরে নবম পে স্কেলের গেজেট, অক্টোবরে নতুন বেতন
- বাংলাদেশ-ব্রাজিল ম্যাচের সম্ভাব্য তারিখ জানা গেল
- আজকের স্বর্ণের বাজারদর: ভরিতে বাড়ল ৫,৪৮২ টাকা
- আজকের স্বর্ণের বাজারদর; ২৪ আগস্ট ২০২৬
- আজকের সকল দেশের টাকার রেট: ২৪ আগস্ট ২০২৬
- সনি নতুন Xperia ফোন আনছে, আসছে Xperia 10 VIII
- চলতি সপ্তাহেই মিলবে টানা ৪ দিনের ছুটি, যেভাবে
- ৯০ মিনিটের খেলা শেষ; বার্সেলোনা বনাম এলচে
- ২৬ আগস্ট থেকে টানা ৪ দিনের ছুটি, কারা পাবেন না
- টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে ইতিহাসের সেরা অবস্থানে বাংলাদেশ
- গুগল প্রতি মিনিটে কত টাকা আয় করে জানেন
- সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে নবম পে-স্কেলের গেজেট
- আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স কবে আসছে, জানুন সম্ভাব্য সময়
