৩ ফুট বাই ৪ ফুটের ‘আয়নাঘর’ সেল, টয়লেটের জন্য ছিল মাত্র ৮ ইঞ্চি জায়গা
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর উত্তরায় র্যাব-১ কার্যালয়ের ভেতরে অবস্থিত টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলের কথিত ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন করে ভয়াবহ চিত্রের মুখোমুখি হয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিরা। সরেজমিনে দেখা যায়, ছোট ছোট অন্ধকার কক্ষ, আলো-বাতাস প্রবেশের কোনো ব্যবস্থা নেই, আর মাত্র ৩ ফুট বাই ৪ ফুটের সেলে টয়লেট হিসেবে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছিল মাত্র ৮ ইঞ্চি জায়গা।
শনিবার (১ আগস্ট) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের সঙ্গে টিএফআই সেল পরিদর্শন করেন। তারা স্থাপনাটির ২৯টি কক্ষ ঘুরে দেখেন। পরে গণমাধ্যমকর্মীদেরও সেখানে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়।
পরিদর্শনে দেখা যায়, পুরো স্থাপনাটি ঘুটঘুটে অন্ধকার। কোনো কক্ষেই জানালা বা ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা নেই। টর্চলাইট ছাড়া ভেতরে চলাচল করাই কঠিন। প্রবেশপথের কাছেই রয়েছে সাতটি ক্ষুদ্রাকৃতির কক্ষ, প্রতিটির আয়তন মাত্র ৩ ফুট বাই ৪ ফুট। এর একটি কক্ষের উচ্চতা মাত্র ৪২ ইঞ্চি, যেখানে একজন মানুষ সোজা হয়ে দাঁড়াতেও পারতেন না।
প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কক্ষ ‘ডেথ সেল’ বা ‘যম সেল’ নামে পরিচিত ছিল। প্রতিটি কক্ষের শেষ প্রান্তে মাত্র ৮ ইঞ্চি জায়গার একটি ড্রেনেজ লাইন ছিল, সেটিই বন্দিদের টয়লেট হিসেবে ব্যবহার করতে বাধ্য করা হতো।
প্রথম তলায় আরও ১০টি কক্ষ রয়েছে, যেগুলোর আয়তন প্রায় ৫ ফুট বাই ৮ ফুট। এখানেও টয়লেট হিসেবে ব্যবহার করা হতো ছোট একটি ড্রেনেজ অংশ। একই তলায় র্যাব সদস্যদের থাকার জন্য ব্যারাকসদৃশ অংশও রয়েছে।
দ্বিতীয় তলায় রয়েছে আরও ১০টি তুলনামূলক বড় কক্ষ, যার গড় আয়তন প্রায় ১৪ ফুট বাই সাড়ে ৪ ফুট। এছাড়া দুটি বড় কক্ষ রয়েছে, যেগুলো বিভিন্ন সাক্ষ্যের ভিত্তিতে ‘ভিআইপি সেল’ হিসেবে পরিচিত। এসব কক্ষে ছোট আকারের পৃথক টয়লেটও রয়েছে। একই তলায় টিএফআই ও র্যাবের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কয়েকটি অফিস কক্ষও দেখা গেছে।
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এই বন্দিশালার বিভিন্ন আলামত নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কোথাও দেয়াল ভাঙা হয়েছে, কোথাও নতুন দেয়াল তুলে কিছু অংশ আড়াল করা হয়েছে। পরে তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশন সেসব আলামত উদ্ধার করে।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তদন্তে উঠে এসেছে যে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকেও ভারতে পাঠানোর আগে এই টিএফআই সেলে রাখা হয়েছিল। এছাড়া বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী এবং বর্তমান সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান) এখানেই আটক ছিলেন বলেও তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
চিফ প্রসিকিউটরের দাবি, এসব ছোট কক্ষে দিনের পর দিন, এমনকি বছরের পর বছর মানুষকে আটকে রাখা হতো। এতটাই সংকীর্ণ ছিল কক্ষগুলো যে সেখানে শুয়ে থাকার সুযোগও ছিল না। অনেককে দীর্ঘ সময় আটকে রেখে পরে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হতো। তিনি আরও জানান, গুম হওয়া প্রায় ২৫০ জনের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী তবারক হোসেন ভূঁইয়া বলেন, তারা আইন অনুযায়ী পরিদর্শনে অংশ নিয়েছেন। তবে এটি প্রকৃতপক্ষে কথিত ‘আয়নাঘর’ কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তার দাবি, গুম কমিশনের সদস্যরা আগে পরিদর্শনে এসে নির্দিষ্ট সময় পরপর বিমান বা ট্রেন চলাচলের শব্দ পাননি, যা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। তার মতে, এটি একটি পরিত্যক্ত ভবনও হতে পারে।
আসামিপক্ষের আরেক আইনজীবী এ বি এম হামিদুল মেসবাহ বলেন, কাউকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করতে ব্যর্থ হলে সেটি বিভাগীয় অপরাধ হতে পারে, তবে তা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যায় না। তিনি বলেন, বিচার অবশ্যই হতে হবে, তবে তা হতে হবে নিরপেক্ষ ও ন্যায়ভিত্তিক, যাতে প্রকৃত অপরাধী শাস্তি পায় এবং নির্দোষ কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হন।
সিদ্দিকা/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- ঘরে বসেই একক্লিকে এখানে দেখুন এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল
- আজকের সকল দেশের টাকার রেট: ৩১ জুলাই ২০২৬
- দেশের বাজারে আজ এক ভরি স্বর্ণের
- ভারতের বিপক্ষে খেলবে ব্রাজিল, প্রকাশ হলো ম্যাচের তারিখ
- আজকের স্বর্ণের বাজারদর: ৩১ জুলাই ২০২৬
- গ্যাস নিয়ে বড় দুঃসংবাদ দিলেন জ্বালানিমন্ত্রী
- ১০ আগস্ট এসএসসির ফল প্রকাশ, যে বিষয়ে ফেলের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি
- ঘোষণা পিছালেও জুলাই থেকেই কার্যকর হতে পারে নতুন পে-স্কেল
- মেসিকে ২০৩০ বিশ্বকাপে খেলাতে অভিনব প্রস্তাব
- দেশের বাজারে আজ এক ভরি সোনার দাম
- আজকের স্বর্ণের বাজারদর: ০১ আগস্ট ২০২৬
- নবম পে-স্কেল নিয়ে সর্বশেষ তথ্য জানালেন অর্থমন্ত্রী
- স্বর্ণের দাম আবারও বাড়ল, নতুন দরে ভরি কত
- এসএসসির ফল ১০ আগস্ট, পাস-ফেল নিয়ে নতুন তথ্য; যে বিষয়ে বাড়তে পারে ফেল
- নবম পে-স্কেল: গেজেটে দেরি কেন, সুপারিশে কাটছাঁটের ইঙ্গিত
