যেকোন সময় ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের শঙ্কায় বাংলাদেশ: কতটা ঝুঁকিতে কোন জেলা
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ভৌগোলিকগতভাবেই প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ একটি দেশ। ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো দুর্যোগের সাথে আমরা পরিচিত হলেও নতুন করে সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে ভূমিকম্প। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে হালকা ও মাঝারি মাত্রার কম্পন ঘন ঘন অনুভূত হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, এটি বড় কোনো বিপর্যয়ের পূর্বাভাস হতে পারে। বিশেষ করে দেশের অভ্যন্তরে যে পরিমাণ শক্তি জমা হয়ে আছে, তাতে ৮.২ থেকে ৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প যেকোনো সময় আঘাত হানতে পারে।
কেন এই ঝুঁকি? টেকটোনিক প্লেটের অবস্থান
ভূতত্ত্ববিদদের মতে, বাংলাদেশ তিনটি সক্রিয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। এগুলো হলো: ইন্ডিয়ান প্লেট, ইউরেশিয়ান প্লেট এবং বার্মা মাইক্রো প্লেট।
১. উত্তরে হিমালয় বরাবর ইউরেশিয়ান প্লেট।
২. পশ্চিমে ইন্ডিয়ান প্লেট।
৩. পূর্বে বার্মা মাইক্রো প্লেট।
এই প্লেটগুলো প্রতি বছর গড়ে ৫ সেন্টিমিটার করে উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে। যখন এই প্লেটগুলো একে অপরের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং শক্তি নির্গত হতে পারে না, তখনই সেখানে বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা তৈরি হয়।
সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল: সাবডাকশন জোন
সিলেট থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত পার্বত্য এলাকা এবং কিশোরগঞ্জের হাওর হয়ে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত একটি কাল্পনিক রেখা টানলে যে অঞ্চলটি পাওয়া যায়, তাকে বলা হয় সাবডাকশন জোন। এখানে ইন্ডিয়ান প্লেটটি বার্মা প্লেটের নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। এই অঞ্চলটি বর্তমানে লকড বা অবরুদ্ধ অবস্থায় আছে, যেখানে গত ৮০০ থেকে ১০০০ বছর ধরে বিপুল পরিমাণ শক্তি জমা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সঞ্চিত শক্তি ৯ মাত্রার ভূমিকম্প ঘটানোর জন্য যথেষ্ট।
সাম্প্রতিক ভূকম্পন ও বড় বিপদের আভাস
চলতি বছরে (ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত) দেশে বেশ কয়েকটি হালকা ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১০টি উল্লেখযোগ্য কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ঘটনা হলো:
* ১৬ ফেব্রুয়ারি: সিলেটে ৩.৯ মাত্রা।
* ৩০ এপ্রিল: চট্টগ্রামে ৪.৬ মাত্রা।
* ৫ মে: ঢাকার দোহারে ৪.৩ মাত্রা।
* ১৭ সেপ্টেম্বর: টাঙ্গাইলে ৪.২ মাত্রা।
* ২৭ ফেব্রুয়ারি: খুলনা ও সাতক্ষীরা অঞ্চলে ৫.৪ মাত্রা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ছোট ছোট কম্পনগুলো প্রমাণ করে যে ভূ-অভ্যন্তরের ফল্ট লাইনগুলো অত্যন্ত সক্রিয়।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রাজধানী ঢাকা
যদিও বড় ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল সিলেট বা পার্বত্য অঞ্চলে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকার হতে পারে ঢাকা শহর। এর কারণগুলো হলো:
* অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও ঘনবসতি।
* বিল্ডিং কোড না মেনে তৈরি করা দুর্বল ভবন।
* ভূ-তাত্ত্বিক গঠন (নরম মাটি)।
* জনসচেতনতার অভাব।
অধ্যাপক ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতারের মতে, উৎসস্থল ১০০ কিলোমিটার দূরে হলেও ঢাকার মাটির গঠন এবং দুর্বল অবকাঠামোর কারণে এটি মৃত্যুপুরীতে পরিণত হতে পারে।
অতীতের ইতিহাস যা বলছে
ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, ১৭৬২ সালের ভূমিকম্পে সেন্টমার্টিন দ্বীপ ৩ মিটার ওপরে উঠে এসেছিল। আবার ১৭৮৭ সালের ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে বর্তমান যমুনা নদী দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে। ১৮৯৭ সালের গ্রেট ইন্ডিয়া ভূমিকম্পও এই অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসলীলা চালিয়েছিল।
প্রস্তুতি ও করণীয়
ভূমিকম্পের কোনো আগাম পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়। তাই ক্ষয়ক্ষতি কমাতে নিচের পদক্ষেপগুলো জরুরি:
১. নতুন ভবন নির্মাণের সময় কঠোরভাবে ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (BNBC) মেনে চলা।
২. পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করে সংস্কার বা ভেঙে ফেলা।
৩. প্রতিটি ভবনে সিসমিক অ্যালার্ম সিস্টেম স্থাপন করা।
৪. ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করা এবং ভূমিকম্পের সময় কী করণীয় সে বিষয়ে মহড়া পরিচালনা করা।
বিজ্ঞানীদের মতে, বড় দুর্যোগটি আজ হতে পারে বা ৫০ বছর পর, তবে এর প্রস্তুতি এখনই নেওয়া বাধ্যতামূলক।
সোহাগ/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- ৩ ধাপে আসছে নবম পে-স্কেল: লাখো কর্মচারীর স্বপ্নে নতুন আলো
- ৩ ধাপে কার্যকর হতে যাচ্ছে নবম পে-স্কেল: সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় বার্তা
- মহার্ঘ ভাতা কার্যকর: ৪ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা কে কত টাকা পাবেন
- আজকের সোনার বাজারদর: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
- ঢাকায় শক্তিশালী ভূমিকম্প; মাত্রা ও উৎপত্তিস্থল কত
- দেশের বাজারে আজকের স্বর্ণের দাম
- শনিবার ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- সয়াবিন তেলের দাম তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন
- শনিবার ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না দেশের যেসব এলাকা
- দেশে আবারও ভূমিকম্প; উৎপত্তিস্থল ও মাত্রা কত
- এলপিজি গ্যাসের দাম নিয়ে বড় সুখবর
- Bou Result: বিএ ও বিএসএস পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ, ফল দেখুন একক্লিকে
- রাজধানীসহ সারা দেশে অনুভূত হলো ভূমিকম্প
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬: যে ৩ সমীকরণে সেমিফাইনালে উঠতে পারে ভারত
- ঢাকা আবারও শক্তিশালী ভূমিকম্প
