| ঢাকা, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩

মায়ের গর্ভেই বিক্রি হতো শিশু! চাঞ্চল্যকর শিশু পাচার চক্রের তথ্য ফাঁস

বিশ্ব ডেস্ক . বিনোদন৬৯.কম
২০২৫ জুলাই ১৮ ১৬:৫৭:৩০
মায়ের গর্ভেই বিক্রি হতো শিশু! চাঞ্চল্যকর শিশু পাচার চক্রের তথ্য ফাঁস

ইন্দোনেশিয়ায় ভয়ংকর এক শিশু পাচার চক্রের পর্দাফাঁস করেছে পুলিশ। পন্টিয়ানাক ও টাংগেরাং শহরে অভিযান চালিয়ে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং উদ্ধার করা হয়েছে ছয়টি শিশুকে। অভিযোগ উঠেছে, এই চক্রটি ২০২৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫টি শিশুকে সিঙ্গাপুরে বিক্রি করেছে!

পুলিশের অপরাধ তদন্ত শাখার পরিচালক সুরাওয়ান জানিয়েছেন, পাচারকারীরা শিশুদের প্রথমে পন্টিয়ানাকে রাখত, যেখানে তাদের ইমিগ্রেশন কাগজপত্র তৈরি করা হতো। এরপর তাদের সিঙ্গাপুরে পাচার করা হতো।

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, এই চক্রের প্রধান লক্ষ্য ছিল এমন মা-বাবারা যারা তাদের সন্তানদের রাখতে ইচ্ছুক ছিলেন না। প্রাথমিকভাবে ফেসবুকের মাধ্যমে যোগাযোগ শুরু হলেও, পরবর্তীকালে হোয়াটসঅ্যাপের মতো ব্যক্তিগত প্ল্যাটফর্মে লেনদেন চূড়ান্ত করা হতো।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, কিছু শিশু তো মায়ের গর্ভে থাকাকালীনই বিক্রি করে দেওয়া হতো! জন্ম হওয়ার পর প্রসবের খরচ মিটিয়ে দেওয়া হতো এবং সামান্য কিছু ক্ষতিপূরণ দিয়েই সন্তানকে নিয়ে নেওয়া হতো পাচারকারীদের হাতে।

এই চক্রের সদস্যরা সন্তান বিক্রির জন্য উপযুক্ত পরিবারের সন্ধান করত, আবার কিছু সদস্য শিশুদের দেখাশোনা করার দায়িত্বে থাকত। ভুয়া জন্ম সনদ, পারিবারিক কার্ড এবং পাসপোর্ট তৈরির কাজেও অনেকে জড়িত ছিল।

মায়েদের কাছ থেকে নেওয়ার পর শিশুদের ২-৩ মাস ধরে পালন করা হতো। এরপর তাদের জাকার্তা ও পন্টিয়ানাকে পাঠানো হতো, যেখানে তাদের জন্ম সনদ ও পাসপোর্ট তৈরি করা হতো।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি শিশু ১১ থেকে ১৬ মিলিয়ন ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়ায় (প্রায় ৬৭৩ থেকে ৯৭৮ মার্কিন ডলার) বিক্রি করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, এই চক্রের মাধ্যমে মোট ১২ জন ছেলে ও ১৩ জন মেয়ে শিশুকে বিক্রি করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই পশ্চিম জাভার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আনা হয়েছিল।

বর্তমানে পুলিশের মূল লক্ষ্য হলো সিঙ্গাপুরে যেসব পরিবার এই শিশুদের কিনেছে, তাদের শনাক্ত করা। সুরাওয়ান বলেন, "আমরা প্রতিটি শিশুর কবে, কে নিয়েছে, কে গ্রহণ করেছে—সব তথ্য খুঁজে বের করব। আমাদের ধারণা, অধিকাংশ শিশুরই জাতীয়তা পরিবর্তন করা হয়েছে।"

সুরাওয়ান আরও জানান যে, অধিকাংশ শিশুই মা-বাবার সম্মতিতে পাচারকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। যদিও কেউ কেউ পরবর্তীকালে 'শিশু অপহরণের' অভিযোগ করেছেন, কারণ পাচারকারীরা তাদের পুরো টাকা দেয়নি। যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে মা-বাবারা সম্মতিতে সন্তান বিক্রি করেছেন, তবে তাদের বিরুদ্ধেও শিশু সুরক্ষা আইন ও মানব পাচার আইনে মামলা করা হবে।

ইন্দোনেশিয়া এই চক্রের আরও সদস্য এবং সিঙ্গাপুরে থাকা ক্রেতাদের ধরতে ইন্টারপোল ও সিঙ্গাপুর পুলিশের সাহায্য চেয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রেড নোটিস জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সুরাওয়ান আরও উল্লেখ করেন, অনেক সময় মায়েরা এই চক্রের ফাঁদে পড়েন। ক্লিনিকগুলোতে তাদের প্রথমে বলা হয়—শিশুকে জন্ম দাও, বাড়ি নিয়ে যাও। পরে টাকার লোভ দেখিয়ে অবৈধভাবে শিশু বিক্রি করে দেওয়া হয়।

আশঙ্কাজনকভাবে, অবৈধ দত্তক নেওয়ার মাধ্যমে শিশু পাচারের ঘটনা ২০২০ সালে যেখানে ১১টি নথিভুক্ত হয়েছিল, ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৯টিতে। ২০২৪ সালের একটি সাম্প্রতিক ঘটনায় দেখা যায়, পশ্চিম জাভার দেপোক এবং বালিতেও শিশু পাচার হচ্ছিল, সেই সময়ও একাধিক শিশু উদ্ধার করা হয়েছিল।

আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ

ক্রিকেট

টস হারল বাংলাদেশ; দেখুন একাদশ

টস হারল বাংলাদেশ; দেখুন একাদশ

স্পোর্টস ডেস্ক: মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার তিন ম্যাচ ...

চলছে বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড ম্যাচ; LIVE দেখুন এখানে

চলছে বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড ম্যাচ; LIVE দেখুন এখানে

স্পোর্টস ডেস্ক: মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গড়িয়েছে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার তিন ম্যাচ সিরিজের ...

ফুটবল

৯০ মিনিটের খেলা শেষ; ব্রাজিল বনাম কলম্বিয়া সেমি ফাইনাল; জানুন ফলাফল

৯০ মিনিটের খেলা শেষ; ব্রাজিল বনাম কলম্বিয়া সেমি ফাইনাল; জানুন ফলাফল

স্পোর্টস ডেস্ক: দক্ষিণ আমেরিকান অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপে বড় অঘটনের শিকার হলো ফুটবল পরাশক্তি ব্রাজিল। টুর্নামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ ...

চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল চূড়ান্ত: শেষ চারে কে কার মুখোমুখি

চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল চূড়ান্ত: শেষ চারে কে কার মুখোমুখি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইউরোপীয় ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালিস্ট চার দল চূড়ান্ত হয়েছে। ...