| ঢাকা, শুক্রবার, ৭ অক্টোবর ২০২২, ২২ আশ্বিন ১৪২৯

২২ বছরের টেস্ট জীবনে বাংলাদেশের পাওয়া না পাওয়া

২০২২ জুন ২৬ ১২:৩৯:৫৭
২২ বছরের টেস্ট জীবনে বাংলাদেশের পাওয়া না পাওয়া

আরমান হোসেন: জগমোহন ডালমিয়া অনন্তলোকে পাড়ি জমিয়েছেন সাত বছর আগে ভারতীয় এই প্রয়াত ক্রীড়া সংগঠকের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২২ বছর আগে আইসিসির পূর্ণ সদস্য হয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেটের কাঠামো পরিপূর্ণ ছিল না, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের চর্চাও দীর্ঘদিনের নয়, তার পরও

খেলাটার প্রতি বিপুলসংখ্যক দর্শকের নিখাদ ভালোবাসা, অপার সম্ভাবনাকে পুঁজি করে টেস্ট স্ট্যাটাস পেয়েছিল বাংলাদেশ। ২২ বছর আগের এই দিনে ক্রিকেটের অভিজাত আঙিনায় পা রাখে টাইগার বাহিনী ২০০০ সালের ২৬ জুন আইসিসির পূর্ণ সদস্য হওয়ার গৌরবের খবরটা পেয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

তৎকালীন বিসিবি সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী ও সবার চেষ্টায় পাঁচ মাস পরই টেস্ট খেলতে নেমে যায় বাংলাদেশ দল। নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের নেতৃত্বে ২০০০ সালের ১০ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে অভিষেক টেস্ট খেলেছিল টাইগাররা। সৌরভ গাঙ্গুলির দলকে প্রথম ইনিংসে চমকে দিয়েছিল বাংলাদেশ আমিনুল ইসলাম বুলবুলের গৌরবময়, ঐতিহাসিক সেঞ্চুরিতে ৪০০ রান করেছিল স্বাগতিকেরা। যদিও দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিং ব্যর্থতায় ম্যাচটা হেরে যায় দুর্জয় বাহিনী। তারপর গত ২২ বছরের পথ চলায় টেস্টে বাংলাদেশের সংগ্রাম অব্যাহত রয়ে। এত বছরেও প্রতিষ্ঠিত শক্তি হতে পারেনি বরং এখনো নবীশ দলের প্রতিচ্ছবি মাঝেমধ্যেই ফুটে উঠছে। কালে-ভদ্রে কিছু অর্জন-সাফল্য এসেছে বটে, কিন্তু মোটা দাগে সাদা পোশাকের লড়াইয়ে ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশকেই বারবার দেখেছে ক্রিকেট বিশ্ব।

চলমান ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের টেস্ট সিরিজটাই এর জলজ্যান্ত প্রমাণ। ক্যারিবিয়ানে দুই টেস্টের আগেও দক্ষিণ আফ্রিকায়, ঘরের মাঠে লাল বলের ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ বাংলাদেশ দল। ব্যাটিং ব্যর্থতার রাহু পিছু ছাড়ছে না দলের। সেন্ট লুসিয়া টেস্টের আগে ১৩৩ টেস্টে টাইগারদের জয় মাত্র ১৬টি, হার ৯৯টি এবং ড্র হয়েছে ১৮টি ম্যাচ। টেস্ট স্ট্যাটাস প্রাপ্তির ২২ বছর পূর্তির দিনে বাংলাদেশকে চোখ রাঙাচ্ছে পরাজয়ের সেঞ্চুরি!

দেশের মাটিতে লড়াই করতে পারলেও বিদেশের মাটিতে বেশির ভাগ সময় টাইগারদের খেলা দেখে দর্শক মহল হতাশ হয়ে জান।

এই ২২ বছরে যে ১৬ টা টেস্টে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ তার বেশিরভাগই এসেছে নিচের সারির দল জিম্বাবুয়ে আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ এর বিপক্ষে। এই তো সেদিন সাদা বলে খেলতে নামা আফগানিস্তান বলে কয়ে দেশের মাটিতে হারিয়ে দিয়ে গেছে বাংলাদেশ কে। বড় দলগুলো এখনও সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ কে খুব কমই ডাকে। তাইতো আলিস্টার কুক আর সাকিব একই সময়ে টেস্ট খেলেও কুক ১৫০ এর উপর টেস্ট খেলে অবসরে চলে গেছেন আর সাকিব এখনও ৭০ টেস্ট ম্যাচের গন্ডি পার হতে পারে নি।

২২ বছর টেস্ট খেলে ঘরের মাঠের সুবিধা নিয়ে একবার করে অস্ট্রেলিয়া আর ইংল্যান্ড কে হারানো আর চলতি বছর নিউজিল্যান্ডের মাটিতে একটি টেস্ট জয় পাওনা বলতে এইটুকুই। দেশের বাহিরে পেস সহায়ক কন্ডিশনে বল করার মত ভালো পেসার এখনও তৈরি করতে পারেনি বিসিবি। খেলোয়ারদের টেকনিক এবং ফিটনেস এর মারাত্মক অভাব তো রয়েছেই।

সঠিক পরিকল্পনার অভার। মানহীন পিচ যথাযত পাইপলাইন না থাকায় টেস্ট লেভেলের খেলোয়াড়ও উঠে আসছে না। তাই গুটি কয়েক খেলোয়ারের উপরই ভরশা করতে হচ্ছে বছরের পর বছর।ঘরোয়া ক্রিকেটের মান নিয়ে বরাবরই অসন্তুষ্ট সবাই। আর তার ফলে ২২ বছর আগে বাংলাদেশ যেখান থেকে শুরু করেছিলো ২২ বছর পর সেখানেই আছে। এখনো বেশির ভাগ ম্যাচেই ইনিংস পরাজয় আর ৩-৪ দিনে টেস্ট ম্যাচের পরিসমাপ্তি দেখে এদেশের কোটি ক্রিকেট পাগল ভক্ত হয়তো আকাশ পানে চেয়ে বলে এই টেস্ট স্টেটাস লইয়া আমরা কি করিব

পাঠকের মতামত:

ক্রিকেট এর সর্বশেষ খবর

ক্রিকেট - এর সব খবর



রে