তিন অধিবেশনে সংসদ পরিচালনায় খরচ প্রায় ৭০৩ কোটি টাকা
নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম তিন অধিবেশনে ৬০ কার্যদিবসে অধিবেশন পরিচালনায় ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭০৩ কোটি টাকা। হিসাব অনুযায়ী, সংসদ অধিবেশন চলার প্রতি মিনিটে গড়ে খরচ হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৮২৫ টাকা। অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ডে ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার ৯৪৭ টাকা।
এই হিসাবটি করা হয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)–এর ‘পার্লামেন্ট ওয়াচ’ গবেষণায় ব্যবহৃত পরিচালন ব্যয়ের পুরোনো হিসাবকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে। টিআইবির একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম ২২ অধিবেশনের হিসাবে প্রতি মিনিটের গড় পরিচালন ব্যয় ছিল ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৬৪ টাকা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় ১২ মার্চ এবং শেষ হয় ৩০ এপ্রিল। এতে ২৫ কার্যদিবস সংসদ বসে। এরপর দ্বিতীয় বা বাজেট অধিবেশন চলে ৭ জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত ২৬ কার্যদিবস।
তৃতীয় অধিবেশন শুরু হয় ২৭ আগস্ট এবং শেষ হয় ১০ সেপ্টেম্বর। এ অধিবেশনে কার্যদিবস ছিল নয়টি। জাতীয় সংসদের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় অধিবেশন ১০ সেপ্টেম্বর রাতে মুলতবি করা হয়।
সব মিলিয়ে প্রথম তিন অধিবেশনে সংসদ বসেছে ৬০ কার্যদিবস।
অধিবেশন কত ঘণ্টা চলেছে, তার সমন্বিত হিসাব সংসদ সচিবালয়ে না থাকায় প্রতিদিনের গড় অধিবেশন সময় ধরে হিসাব করা হয়েছে। গড়ে প্রতিটি কার্যদিবসে প্রায় ৫ ঘণ্টা ৪৭ মিনিট অধিবেশন চলেছে বলে ধরে নেওয়া হয়েছে।
এই হিসাবে তিন অধিবেশনে মোট অধিবেশন চলেছে প্রায় ৩২৮ ঘণ্টা ২০ মিনিট বা ১৯ হাজার ৭০০ মিনিট। প্রতি মিনিটে ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৮২৫ টাকা হিসাবে মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৭০২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।
চলতি বছরের ১২ মার্চ জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বর্ষ শুরুর ভাষণের ওপর প্রায় ৪০ ঘণ্টা ১৪ মিনিট আলোচনা হয়। এতে অংশ নেন ২৮০ জন সংসদ সদস্য।
প্রতি মিনিটে ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৮২৫ টাকা ব্যয়ের হিসাব ধরলে, শুধু রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৮৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা।
তবে এই অর্থকে শুধু আলোচনার ‘অপ্রয়োজনীয় ব্যয়’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা সংসদের নিয়মিত কার্যক্রমেরই অংশ।
দ্বিতীয় অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা হয়েছে ৪৮ ঘণ্টা ৫১ মিনিট। এতে অংশ নেন ৩১৬ জন সংসদ সদস্য।
মোট ২ হাজার ৯৩১ মিনিটের এই আলোচনায় প্রতি মিনিটের হিসাব অনুযায়ী ব্যয় হয়েছে প্রায় ১০৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।
সংসদের কার্যক্রমের মধ্যে বাজেট আলোচনা, প্রশ্নোত্তর, আইন প্রণয়ন, সংসদীয় কমিটির কাজ, নোটিশের নিষ্পত্তি এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমও রয়েছে।
সংসদের মূল দায়িত্বগুলোর একটি হলো আইন প্রণয়ন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ৯৪টি বিল পাস এবং ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপিত হয়।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীকে করা ৯৩টি প্রশ্নের মধ্যে ৩৫টির উত্তর দেওয়া হয়। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের জন্য পাওয়া ২ হাজার ৫০৯টি প্রশ্নের মধ্যে ১ হাজার ৭৭৮টির উত্তর দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় বা বাজেট অধিবেশনে ১০টি সরকারি বিল পাস হয়। তৃতীয় অধিবেশনের নয় কার্যদিবসে পাস হয়েছে ছয়টি বিল।
তবে তৃতীয় অধিবেশনে মাত্র নয় কার্যদিবসে ছয়টি বিল উত্থাপন ও পাসের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালও বিল সংসদে পাঠানোর ক্ষেত্রে নির্বাহী বিভাগকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
টিআইবির বিভিন্ন ‘পার্লামেন্ট ওয়াচ’ গবেষণায় সংসদ পরিচালনার ব্যয় সময়ের সঙ্গে বৃদ্ধির চিত্র পাওয়া যায়। একাদশ সংসদের প্রথম ২২ অধিবেশনের গবেষণায় প্রতি মিনিটের গড় পরিচালন ব্যয় ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৬৪ টাকা ধরা হয়েছিল।
এর আগের সংসদগুলোর গবেষণাতেও ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা গেছে। টিআইবির দশম সংসদ নিয়ে করা গবেষণায় প্রতি মিনিটের গড় পরিচালন ব্যয় ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৮৬ টাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
তবে বিভিন্ন সময়ের এই হিসাব সরাসরি তুলনা করার ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতি, বাজেটের আকার এবং সংসদ পরিচালনার আওতাভুক্ত ব্যয়ের পরিবর্তন বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মোট প্রস্তাবিত বাজেট ২৯০ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর মধ্যে পরিচালন খাতে ২৮৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন খাতে ৭০ লাখ টাকা রাখার কথা বলা হয়েছে।
তবে সংসদ পরিচালনার প্রকৃত ব্যয় শুধু অধিবেশন চলাকালীন সময় দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ, সম্প্রচার, রক্ষণাবেক্ষণ, সরঞ্জাম ও বিভিন্ন সেবার ব্যয়ও এর সঙ্গে যুক্ত থাকে।
জাতীয় সংসদ ভবনের রক্ষণাবেক্ষণেও প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হয়। ভবনের ভৌত ও ইলেকট্রোমেকানিক্যাল রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ, অগ্নিনিরাপত্তা, সম্প্রচার এবং গণপূর্তের বিভিন্ন সেবার খরচ রয়েছে।
সংসদ বিষয়ক গবেষকদের মতে, আইন প্রণয়নে বিলের প্রতিটি ধারা পর্যাপ্ত সময় নিয়ে পর্যালোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ থাকলে আইন আরও কার্যকর ও টেকসই হওয়ার সুযোগ থাকে।
অন্যদিকে সংসদের সাবেক কর্মকর্তাদের মতে, শুধু অধিবেশনভিত্তিক ব্যয় দিয়ে সংসদের সামগ্রিক পরিচালন ব্যয় নির্ধারণ করলে পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে না। নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ, সম্প্রচার, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য সেবার ব্যয়ও বিবেচনায় নিতে হবে।
ফলে তিন অধিবেশনে প্রায় ৭০৩ কোটি টাকার হিসাবটি মূলত অধিবেশন চলার সময় ও নির্দিষ্ট প্রতি-মিনিট ব্যয়ের ভিত্তিতে করা একটি আনুমানিক হিসাব; এটি সংসদের ওই তিন অধিবেশনের পৃথক ও চূড়ান্ত হিসাব নয়।
সোহাগ/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- পে স্কেলের গেজেট কবে, জানা গেল সম্ভাব্য সময়
- নতুন পে-স্কেলে ইনক্রিমেন্টে বড় পরিবর্তন, কোন গ্রেডে কত
- দুর্গাপূজায় ২ দিনের সরকারি ছুটি, ছুটি পাবেন না যারা
- আজকের স্বর্ণের বাজারদর; ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- দেশের বাজারে আজ ১৮, ২১, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম
- টানা ৫ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস, বেশি বৃষ্টি যেসব এলাকায়
- এশিয়ান গেমস; বাংলাদেশ বনাম দক্ষিণ কোরিয়া, লাইভ যেভাবে দেখবেন
- নতুন পে স্কেলে ইনক্রিমেন্ট কমছে উচ্চপদে, বাড়িভাড়াতেও পরিবর্তন
- সোনার দাম কমে এক মাসের সর্বনিম্ন, ভরি কত
- আজকের সকল দেশের টাকার রেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- নতুন Bajaj Pulsar 150-এ বড় পরিবর্তন, থাকছে TFT ডিসপ্লে ও নতুন ইঞ্জিন
- ২৫ জেলায় তাপপ্রবাহ, যেসব অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির আভাস
- সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৫ দিনের ছুটির সুযোগ
- পে স্কেলের গেজেটে কেন প্রতিটি শব্দ খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে
- ৯ম পে স্কেলের গেজেট কবে? ১৭, ২১ নাকি ২২ সেপ্টেম্বর—সর্বশেষ তথ্য
