সোহাগ আহমদে
সিনিয়র রিপোর্টার
দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের তীব্র হাহাকার
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। রাজধানীর তেজগাঁও থেকে শুরু করে ঢাকার বাইরে কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের জন্য চলছে হাহাকার। ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি দিনভর অপেক্ষা করেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ডিজেল বা অকটেন।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ের চিত্র
তেজগাঁওয়ের সিটি ফিলিং স্টেশন এলাকায় দেখা গেছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। তেলের পাম্পের সামনে থেকে শুরু হওয়া এই লাইন তেজগাঁও ছাড়িয়ে ফার্মগেট পর্যন্ত পৌঁছেছে। অনেক চালক আগের রাত ১২টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও পরের দিন দুপুর পর্যন্ত তেলের দেখা পাননি। দীর্ঘ সময় ইঞ্জিন চালু রেখে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকায় অনেকের গাড়ির তেল মাঝপথেই ফুরিয়ে যাচ্ছে, ফলে গাড়ি ধাক্কিয়ে পাম্পে নিতে দেখা গেছে অনেককে। আজ সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও এই দীর্ঘ লাইনের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
কুষ্টিয়ায় তেলের জন্য হাহাকার ও সিন্ডিকেট
ঢাকার বাইরের চিত্র আরও ভয়াবহ। কুষ্টিয়ার বড় বড় পাম্পগুলোতে ভোর ৬টা থেকে তেলের জন্য লম্বা লাইন দেখা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়েও সাধারণ মানুষ তেল পাচ্ছে না। কুষ্টিয়া তেলকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, সংকট ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। এরই মাঝে তেল নিয়ে এক ধরনের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট ও দালাল চক্র বিশেষ সুবিধার বিনিময়ে তেল সরবরাহের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে। পাম্প মালিকরা এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জনজীবনে প্রভাব
জ্বালানি সংকটের প্রভাবে গণপরিবহন ও পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ফলে সাধারণ কর্মদিবসগুলোতে ৩০ মিনিটের রাস্তা পার হতে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় লাগছে। মূলত ডিপো থেকে তেল সরবরাহে ঘাটতি থাকায় পাম্পগুলো চাহিদামতো তেল দিতে পারছে না। জ্বালানি তেলের এই ক্রমবর্ধমান সংকট দ্রুত সমাধান না হলে দেশের পরিবহন ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সোহাগ/
