ইরান সম্পর্কে হাদিসের ভবিষ্যৎবাণীগুলো কি তবে সত্যি হতে চলেছে
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বের মানচিত্রে আজ ইরান এক আলোচিত নাম। প্রায় দেড় হাজার বছর আগে যখন পারস্য সাম্রাজ্য ইসলামের ছায়াতলে আসে, ঠিক তখনই রাসুলুল্লাহ (সা.) এই অঞ্চলের মানুষের যোগ্যতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন কিছু কথা বলে গিয়েছিলেন, যা আজকের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অনেককে অবাক করছে। আধুনিক সমরাস্ত্র, পারমাণবিক সক্ষমতা আর মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মাঝে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—ইরান কি তবে সেই অমোঘ ভবিষ্যদ্বাণীর দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে?
নক্ষত্র ছোঁয়ার মেধা ও একাগ্রতা:
সহীহ মুসলিমের একটি হাদিসে পারস্যের মানুষের নিষ্ঠা ও মেধা সম্পর্কে এক অবিশ্বাস্য তথ্য পাওয়া যায়। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, একবার সূরা জুমার একটি আয়াত নাজিল হওয়ার পর সাহাবীগণ প্রশ্ন করেন, সেই জাতি কারা যারা ভবিষ্যতে মুমিনদের সাথে মিলিত হবে? রাসুলুল্লাহ (সা.) তখন পারস্যের সাহাবী সালমান ফারসী (রা.)-এর গায়ে হাত রেখে বলেন, ঈমান যদি সুরাইয়া নক্ষত্রের উচ্চতাতেও থাকে, তবে এই সম্প্রদায়ের লোকেরা সেখানে পৌঁছে তা অর্জন করে নেবে।
আজকের বিজ্ঞান বলছে, সুরাইয়া বা প্লিরাস নক্ষত্রপুঞ্জ পৃথিবী থেকে প্রায় ৪৪৪ আলোকবর্ষ দূরে। সেই যুগে এমন অকল্পনীয় দূরত্বের উপমা দিয়ে আসলে পারস্যের মানুষের অদম্য স্পৃহা ও মেধার প্রশংসা করা হয়েছিল। বর্তমান যুগে মহাকাশ গবেষণা বা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ইরানের যে অগ্রগতি, অনেকে সেখানে এই হাদিসের প্রতিফলন দেখতে পান।
ইসলামের নেতৃত্বে পারস্যের ভূমিকা:
সূরা মুহাম্মদের একটি আয়াতের ব্যাখ্যায় রাসুলুল্লাহ (সা.) ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, যদি তৎকালীন আরব জাতি ইসলামের পথ থেকে বিমুখ হয়, তবে আল্লাহ অন্য একটি জাতিকে তাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন। সাহাবীগণের প্রশ্নের উত্তরে নবীজি সালমান ফারসী (রা.) ও তার জাতির কথা উল্লেখ করেছিলেন। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, নবম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত ইমাম বুখারী, ইমাম মুসলিম, ইমাম গাজ্জালী, ইবনে সিনা ও আল-বিরুনীর মতো কালজয়ী মনীষীরা পারস্য অঞ্চল থেকেই জ্ঞান-বিজ্ঞানে মুসলিম বিশ্বকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
খোরাসান ও কালো পতাকাবাহী দল:
হাদিসে শেষ জামানায় খোরাসান অঞ্চল থেকে একটি কালো পতাকাবাহী দলের আগমনের কথা বলা হয়েছে, যারা জেরুজালেম অভিমুখী হবে। ঐতিহাসিক খোরাসান বলতে বর্তমান ইরানের উত্তর-পূর্ব অংশ, আফগানিস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তানের কিছু অংশকে বোঝায়। বর্তমান সময়ে ইরান ও তার মিত্রদের কুদস বা জেরুজালেম কেন্দ্রিক সামরিক তৎপরতা এই প্রাচীন আলোচনাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
দাজ্জালের অনুসারী ও ইসফাহান:
ভবিষ্যদ্বাণীর অন্য একটি দিকও হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। সহীহ মুসলিমের বর্ণনা অনুযায়ী, দাজ্জালের আগমনের সময় ইরানের ইসফাহান (তৎকালীন আজবাহান) অঞ্চলের ৭০ হাজার ইহুদি তার অনুসারী হবে। এটিও শেষ জামানার অন্যতম একটি বড় আলামত হিসেবে চিহ্নিত।
ইতিহাসের চাকা আজ এক নতুন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। পারস্যের সেই প্রাচীন গৌরব আজ আধুনিক প্রযুক্তির মোড়কে নতুন শক্তির জানান দিচ্ছে। ইরান সম্পর্কিত এই ভবিষ্যদ্বাণীগুলো কখন এবং কীভাবে পূর্ণ হবে, তা কেবল মহান আল্লাহই ভালো জানেন। তবে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, আমরা সম্ভবত ইতিহাসের এক চূড়ান্ত পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।
সোহাগ/
