আটা-ময়দার দাম বাড়ল, মুরগি-ডিমে নেই স্বস্তি
নিজস্ব প্রতিবেদক: নিত্যপণ্যের বাজারে আবারও বেড়েছে আটা ও ময়দার দাম। এক মাসের ব্যবধানে খোলা ও মোড়কজাত দুই ধরনের পণ্যের দামই বেড়েছে। পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। একই সঙ্গে ব্রয়লার মুরগি, ডিম ও বিভিন্ন ধরনের মাছও বিক্রি হচ্ছে তুলনামূলক চড়া দামে।
তবে সবজির বাজারে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এসব তথ্য জানা গেছে।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনন্দিন বাজারদরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে খোলা আটার দাম কেজিতে ৩ টাকা এবং খোলা ও মোড়কজাত ময়দার দাম কেজিতে ৫ টাকা করে বেড়েছে।
তবে খুচরা বাজারে দাম বৃদ্ধির পরিমাণ আরও বেশি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। তাদের হিসাবে, এক মাসে খোলা আটার দাম কেজিতে প্রায় ৫ টাকা এবং খোলা ও মোড়কজাত ময়দার দাম কেজিতে প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর তিনটি খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি খোলা আটা ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগে এর দাম ছিল প্রায় ৪৫ টাকা। অন্যদিকে খোলা ময়দার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, যা এক মাস আগে ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা।
মোড়কজাত ময়দার দামও বেড়েছে। বাজারে দুই কেজির একটি প্যাকেট ময়দা ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতি কেজির দাম পড়ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা। এক মাস আগে মোড়কজাত ময়দার কেজি ছিল ৭০ থেকে ৭৫ টাকা।
মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের এক মুদিদোকানি জানান, আগে ৫০ কেজির এক বস্তা ময়দা ২ হাজার ৫০০ টাকায় কিনতেন। গত সপ্তাহে একই বস্তার দাম বেড়ে ২ হাজার ৮০০ টাকা হয়েছে। পাইকারি ও ডিলার পর্যায়ে দাম বাড়ায় খুচরা বাজারেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
আটা-ময়দার পাশাপাশি অন্যান্য কাঁচামালের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে বেকারি পণ্যের বাজারেও। সম্প্রতি বানরুটি ও বিভিন্ন বেকারি পণ্যের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। পরে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতাদের বৈঠকে উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের খরচ যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত হয়। এরপর রুটি ও বিস্কুটসহ বেকারি পণ্যের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখার বিষয়ে সম্মত হন ব্যবসায়ীরা।
আটা-ময়দার পাশাপাশি বাজারে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দামও কমেনি। বৃহস্পতিবার প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। প্রায় দেড় মাস আগে এই মুরগির দাম কেজিতে প্রায় ২০ টাকা কম ছিল। এর আগে অবশ্য ব্রয়লার মুরগি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজিতেও বিক্রি হয়েছে।
ফার্মের বাদামি ডিমের এক ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। সাদা ডিমের এক ডজন পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১০ টাকা কমে। দেড় মাস আগেও ডিমের দাম প্রায় একই ছিল।
এ ছাড়া সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা কেজি দরে। হাইব্রিড বা কালারবার্ড সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা। গত এক থেকে দুই সপ্তাহে এসব মুরগির দামেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।
বিক্রেতাদের ভাষ্য, গত কয়েক মাসে বন্যা, অতিবৃষ্টি ও অতিরিক্ত গরমের কারণে অনেক খামারে ডিম উৎপাদন এবং ব্রয়লার মুরগির সংখ্যা কমেছে। ফলে বাজারে সরবরাহের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় ডিম ও মুরগির দামও কমছে না।
মুরগি ও ডিমের পাশাপাশি মাছের বাজারেও বেশ কিছু পণ্যের দাম তুলনামূলক বেশি। বাজারে প্রতি কেজি আড়াই থেকে তিন কেজি ওজনের রুই মাছ ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা এবং কাতলা ৪২০ থেকে ৪৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া আকারভেদে চাষের পাঙাশ প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা এবং পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
তবে বাজারে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে সবজিতে। সবজির দাম আগের তুলনায় মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা।
সিদ্দিকা/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- ভেটিংয়ে নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন, আজই গেজেট
- নতুন পে-স্কেলে ইনক্রিমেন্টে বড় পরিবর্তন, কোন গ্রেডে কত
- ব্যাচেলর পয়েন্টের পাভেনের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল
- ৯ম পে স্কেলের গেজেট কবে? ১৭, ২১ নাকি ২২ সেপ্টেম্বর—সর্বশেষ তথ্য
- আজকের স্বর্ণের বাজারদর: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- দুর্গাপূজায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ১৬ দিনের ছুটি!
- নবম পে-স্কেলের গেজেট আজই? সন্ধ্যার পর আসতে পারে প্রজ্ঞাপন
- নতুন পে-স্কেলে বাতিল হচ্ছে যে বিশেষ সুবিধা
- আজকের সকল দেশের টাকার রেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- সোনার দাম কমে এক মাসের সর্বনিম্ন, ভরি কত
- নবম পে স্কেলের গেজেট নিয়ে বড় অগ্রগতি
- একাদশে ভর্তির জন্য আবেদন শূন্য যে ১১ কলেজে
- পে স্কেলের গেজেটে কেন প্রতিটি শব্দ খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে
- সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৫ দিনের ছুটির সুযোগ
- নতুন পে-স্কেলে চিকিৎসা, যাতায়াত ও মোবাইল ভাতা কত
