| ঢাকা, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩

নতুন বাজেটে কমে যাচ্ছে এলপিজি গ্যাসের দাম

জাতীয় ডেস্ক . বিনোদন৬৯.কম
২০২৬ জুন ১০ ১০:৩৬:২০
নতুন বাজেটে কমে যাচ্ছে এলপিজি গ্যাসের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে দ্রুত সম্প্রসারিত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বাজারে সরাসরি অংশগ্রহণ বাড়াতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এতদিন পুরো বাজারের প্রায় পুরোটাই বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে থাকায় মূল্য নির্ধারণ, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং তদারকি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ ছিল। এই পরিস্থিতিতে সরকার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রতি মাসে প্রায় ৯০ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি করে বাজারে সরবরাহ করার পরিকল্পনা করেছে। লক্ষ্য ধরা হয়েছে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই কার্যক্রম শুরু করা।

জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাজারে সরকারের উপস্থিতি বাড়বে, প্রতিযোগিতা তৈরি হবে এবং ভোক্তারা তুলনামূলক কম দামে গ্যাস পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

দ্রুত বাড়ছে চাহিদা, সীমিত সরকারি অংশ

জ্বালানি খাতের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে বছরে প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে। ২০৩৫ সালের মধ্যে এই চাহিদা ৪০ লাখ মেট্রিক টনে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অথচ বাজারের প্রায় ৯৮ শতাংশই বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে, সরকারি অংশ মাত্র ২ শতাংশ।

এই অসম কাঠামোর কারণে বাজারে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও দাম নির্ধারণে সরকারের প্রভাব সীমিত হয়ে পড়েছে। তাই সরকারি আমদানি ও সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য ৯ সদস্যের একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ও সিদ্ধান্ত

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে এলপিজি আমদানি ও বাজার ব্যবস্থাপনায় সরকারের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, এটি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের অংশ। বাজারে স্থিতিশীলতা আনা এবং ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্য নিশ্চিত করাই এর মূল লক্ষ্য।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলপিজি আমদানির সম্ভাবনা

সরকারি সূত্র জানায়, একটি প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেছে। সেখানে জিটুজি (G2G) ভিত্তিতে এলপিজি আমদানি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে বড় জাহাজে করে এলপিজি আনা এবং গভীর সমুদ্রে সংরক্ষণ করে ছোট জাহাজের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা।

বড় জাহাজ ও আধুনিক অবকাঠামোর পরিকল্পনা

সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় রয়েছে ভেরি লার্জ গ্যাস কেরিয়ার (VLGC) ব্যবহার করে সরাসরি আমদানি। চট্টগ্রাম বন্দরের মাতারবাড়ী এলাকাকে কেন্দ্র করে এই কার্যক্রম পরিচালনার সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বড় জাহাজ ব্যবহারে পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। বর্তমান ছোট জাহাজের তুলনায় বড় জাহাজে আমদানি করলে প্রতি টনে প্রায় ৪০ ডলার পর্যন্ত খরচ কমার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এতে বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হতে পারে।

তিনটি বিকল্প নিয়ে কাজ

জ্বালানি বিভাগ তিনটি সম্ভাব্য কাঠামো নিয়ে কাজ করছে

সরাসরি VLGC পরিচালনা

ভাসমান সংরক্ষণ ব্যবস্থা ব্যবহার

শিপ টু শিপ ট্রান্সফার পদ্ধতি

প্রতিটি বিকল্পের কারিগরি ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

অবকাঠামো ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ

মাতারবাড়ী বন্দরের বিদ্যমান অবকাঠামো মূলত কয়লা পরিবহনের জন্য তৈরি। সেখানে এলপিজি পরিচালনা করতে হলে আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অগ্নিনির্বাপণ প্রস্তুতি এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় জাহাজ পরিচালনার আগে নেভিগেশন, মুরিং, নিরাপত্তা এবং ড্রেজিংসহ একাধিক প্রযুক্তিগত সমীক্ষা প্রয়োজন।

বাজার কাঠামো ও অভিযোগ

বর্তমানে এলপিজি বাজারে বেসরকারি কোম্পানিগুলোই প্রধান নিয়ন্ত্রক। তারা ছোট জাহাজে আমদানি করে, ফলে পরিবহন ব্যয় বেশি পড়ে এবং তা ভোক্তা পর্যায়ে প্রভাব ফেলে।

এছাড়া বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত মূল্য অনেক সময় বাজারে মানা হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ভোক্তারা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস কিনতে বাধ্য হন।

নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা উদ্বেগ

এলপিজি ব্যবহারের সঙ্গে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুর্ঘটনাও বেড়েছে। সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, গ্যাস লিকেজ এবং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা মাঝে মাঝে ঘটছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে রয়েছে নিম্নমানের যন্ত্রাংশ, অনিয়মিত ব্যবহার এবং নিরাপত্তা সচেতনতার অভাব।

বিশেষজ্ঞদের মত

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু মূল্য নির্ধারণ নয়, বাজার মনিটরিং এবং সরবরাহ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। সরকারের অংশগ্রহণ বাড়লে বাজারে স্থিতিশীলতা আসতে পারে, পাশাপাশি প্রতিযোগিতাও বাড়বে।

তাদের মতে, এলপিজি খাতে নিরাপত্তা, জবাবদিহি এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা গেলে এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

আশা/

আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ

ক্রিকেট

বিশ্বকাপে স্পেনের দুই ম্যাচে বেটিং সন্দেহ, তদন্তের মুখে বিশ্বচ্যাম্পিয়রা

বিশ্বকাপে স্পেনের দুই ম্যাচে বেটিং সন্দেহ, তদন্তের মুখে বিশ্বচ্যাম্পিয়রা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৬ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট জিতেছে স্পেন। ...

১৫ ওভারের খেলা শেষ; জিম্বাবুয়ে বনাম বাংলাদেশ ম্যাচ; লাইভ দেখুন এখানে

১৫ ওভারের খেলা শেষ; জিম্বাবুয়ে বনাম বাংলাদেশ ম্যাচ; লাইভ দেখুন এখানে

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের বিপক্ষে চলমান ম্যাচে টসে জিতে আগে ব্যাটিং করছে জিম্বাবুয়ে। ১৫.৬ ওভার শেষে ...

ফুটবল

মেসির অবসর নিয়ে নতুন তথ্য, যা জানা গেল

মেসির অবসর নিয়ে নতুন তথ্য, যা জানা গেল

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর থেকেই লিওনেল মেসির ...

আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনাল কি আবারও হতে পারে? ফিফার নিয়ম যা বলছে

আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনাল কি আবারও হতে পারে? ফিফার নিয়ম যা বলছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল শেষ হয়েছে। শিরোপা উঠেছে স্পেনের হাতে, ইতিহাসের পাতায় যুক্ত হয়েছে ...