| ঢাকা, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

সরকারি চাকরিতে বাড়তে পারে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর

জাতীয় ডেস্ক . বিনোদন৬৯.কম
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৭ ১৬:০৩:২৩
সরকারি চাকরিতে বাড়তে পারে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি চাকরিতে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের পদে নিয়োগ পরীক্ষার মানবণ্টনে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত নতুন বিধিমালায় লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। গ্রেডভেদে মৌখিক পরীক্ষায় মোট নম্বরের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত রাখার প্রস্তাব রয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রক্সি পরীক্ষার্থী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে অসদুপায় ঠেকাতে এই পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের একটি অংশের আশঙ্কা, মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়লে নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির সুযোগও বাড়তে পারে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, দপ্তর ও সংস্থাগুলোর ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগের জন্য ‘পরীক্ষার মানবণ্টন (বিশেষ বিধান) বিধিমালা, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে বৈঠকে উপস্থিত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বর্তমান বিধান অনুযায়ী, কারিগরি পদ ছাড়া সরকারি চাকরির তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষায় ৭০ শতাংশ এবং মৌখিক পরীক্ষায় ৩০ শতাংশ নম্বর রয়েছে। নতুন প্রস্তাবে গ্রেড অনুযায়ী তিনটি স্তরে মানবণ্টন নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।

১১-১২তম গ্রেডের পদে মোট ১৫০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে লিখিত পরীক্ষায় থাকবে ১০০ নম্বর এবং মৌখিক পরীক্ষায় ৫০ নম্বর। লিখিত পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত এবং সংশ্লিষ্ট টেকনিক্যাল বিষয় বা সাধারণ জ্ঞানে ২৫ নম্বর করে থাকবে।

১৩-১৬তম গ্রেডের ক্ষেত্রে মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় লিখিত পরীক্ষায় ৬০ এবং মৌখিক পরীক্ষায় ৪০ নম্বর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। লিখিত পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত এবং সংশ্লিষ্ট টেকনিক্যাল বিষয় বা সাধারণ জ্ঞানে ১৫ নম্বর করে থাকবে।

অন্যদিকে, ১৭-২০তম গ্রেডের পদে মোট ৫০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে লিখিত পরীক্ষায় ২৫ এবং মৌখিক পরীক্ষায় ২৫ নম্বর থাকবে। লিখিত পরীক্ষায় বাংলায় ১০, ইংরেজিতে ৫, গণিতে ৫ এবং সংশ্লিষ্ট টেকনিক্যাল বিষয় বা সাধারণ জ্ঞানে ৫ নম্বর রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বিধিমালায় কারিগরি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও কিছু শর্ত রাখা হয়েছে। কোনো প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে তাকে ব্যবহারিক পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হতে হবে। লিখিত ও ব্যবহারিক উভয় পরীক্ষায় পাস করার পরই তিনি মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে তাকে নিয়োগের জন্য বিবেচনা করা হবে না।

তবে প্রস্তাবিত এই বিধিমালা শৃঙ্খলা বাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, আনসার ব্যাটালিয়ন, কোস্ট গার্ড, র‌্যাবসহ অন্যান্য বাহিনী এবং সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) আওতাভুক্ত পদে প্রযোজ্য হবে না।

নতুন বিধিমালা প্রণয়নের কারণ হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষায় কিছু প্রার্থী নিজে অংশ না নিয়ে প্রক্সি পরীক্ষার্থী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মতো অসদুপায় ব্যবহার করে চাকরি পাওয়ার চেষ্টা করছেন।

এ ধরনের প্রবণতার কারণে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীর পরিবর্তে অযোগ্য প্রার্থী চাকরি পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে মন্ত্রণালয়ের সার-সংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে নিয়োগের স্বাভাবিক ও সুষ্ঠু প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুক্তি অসদুপায় ঠেকানোর সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও প্রস্তাবিত মানবণ্টন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ। তাদের আশঙ্কা, মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বেশি হলে নিয়োগ বোর্ডের হাতে প্রার্থীদের নম্বর পরিবর্তনের তুলনামূলক বেশি সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে পছন্দের প্রার্থীকে সুবিধা দেওয়া, স্বজনপ্রীতি বা অনিয়মের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ মো. ফিরোজ মিয়ার মতে, মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানো হলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির সুযোগ বাড়তে পারে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বেশি থাকলে মেধাভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রশ্ন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এর আগে বিসিএস নিয়োগের ক্ষেত্রেও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ড. সা’দত হুসাইন সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান থাকার সময় বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ২০০ থেকে কমিয়ে ১০০ করা হয়েছিল। পরে তা আবার ২০০ নম্বরে উন্নীত করা হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর জারি করা বিশেষ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ২০০ থেকে কমিয়ে ১০০ করা হয়। বর্তমানে সেই কাঠামোই কার্যকর রয়েছে। একই সময়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগেও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ২০ থেকে কমিয়ে ১০ করা হয়েছিল।

সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা, সততা ও যোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে এসেছে। ফলে নতুন মানবণ্টন কার্যকর হলে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মধ্যে ভারসাম্য এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সোহাগ/

আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ

ক্রিকেট

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের দল ঘোষণা, অধিনায়ক লিটন

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের দল ঘোষণা, অধিনায়ক লিটন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০তম এশিয়ান গেমসে পুরুষ ক্রিকেট ইভেন্টের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ...

সাব্বিরের ব্যাটে অস্ট্রেলিয়ার টানা জয় বাংলাদেশের

সাব্বিরের ব্যাটে অস্ট্রেলিয়ার টানা জয় বাংলাদেশের

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাব্বির রহমানের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে হোবার্ট হারিকেন্স একাডেমিকে হারিয়েছে বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স ...

ফুটবল

৯০ মিনিটের খেলা শেষ; বার্সেলোনা-ভ্যালেন্সিয়া, জানুন ফলাফল

৯০ মিনিটের খেলা শেষ; বার্সেলোনা-ভ্যালেন্সিয়া, জানুন ফলাফল

নিজস্ব প্রতিবেদক: লা লিগায় নিজেদের দুর্দান্ত ফর্ম বজায় রেখে ভ্যালেন্সিয়াকে তাদেরই মাঠে ৫-০ গোলের বড় ...

৯০ মিনিটের খেলা শেষ; বাংলাদেশ-সিরিয়া অনূর্ধ্ব-২০, জানুন ফলাফল

৯০ মিনিটের খেলা শেষ; বাংলাদেশ-সিরিয়া অনূর্ধ্ব-২০, জানুন ফলাফল

নিজস্ব প্রতিবেদক: এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ ২০২৭ বাছাইপর্বে সিরিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ...