| ঢাকা, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

ইমাম নন, ফেনীর কিশোরীর সন্তানের জৈবিক বাবা আপন বড় ভাই

জাতীয় ডেস্ক . বিনোদন৬৯.কম
২০২৬ মে ০৮ ০৯:২৯:২১
ইমাম নন, ফেনীর কিশোরীর সন্তানের জৈবিক বাবা আপন বড় ভাই

নিজস্ব প্রতিবেদক: ফেনীর পরশুরামে ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত হয়ে এক মাসের বেশি সময় কারাভোগ করা মসজিদের ইমাম ও মক্তব শিক্ষক মোজাফফর আহমদ শেষ পর্যন্ত নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। ডিএনএ পরীক্ষায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ধর্ষণের শিকার কিশোরীর ভূমিষ্ঠ সন্তানের জৈবিক বাবা তারই আপন বড় ভাই মোরশেদ।

ফরেনসিক পরীক্ষা ও দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ১৭ এপ্রিল আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে মোজাফফর আহমদকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয় পুলিশ। একই সঙ্গে কিশোরীর বড় ভাই মোরশেদকে অভিযুক্ত করা হয়। পরে অব্যাহতির নথি হাতে পেয়ে বিষয়টি গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন মোজাফফর।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর ফেনীর পরশুরাম উপজেলার এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় জামে মসজিদের ইমাম ও মক্তব শিক্ষক মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। অভিযোগ ওঠার পর থেকেই নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও গ্রেফতার এড়াতে পারেননি তিনি। এমনকি মিথ্যা মামলার অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করতে গেলে আদালত প্রাঙ্গণ থেকেই তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে এক মাস দুই দিন কারাভোগ করতে হয় তাকে।

তদন্তের অংশ হিসেবে কিশোরী ও মোজাফফরের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তবে ফরেনসিক রিপোর্টে কিশোরীর ভ্যাজাইনাল সোয়াবে কোনো পুরুষের বীর্যের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। ফলে মোজাফফরের ডিএনএর সঙ্গে মিলিয়ে নিশ্চিত মতামত দেওয়া সম্ভব হয়নি।

এরপর তদন্ত আরও গভীরভাবে শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে জিজ্ঞাসাবাদে কিশোরী স্বীকার করে, তার আপন বড় ভাই মোরশেদ দীর্ঘদিন ধরে তাকে ধর্ষণ করেছে।

পরে মোরশেদকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতেও সে নিজের অপরাধ স্বীকার করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পরবর্তীতে কিশোরী, তার সদ্য ভূমিষ্ঠ সন্তান ও মোরশেদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। ফরেনসিক রিপোর্টে দেখা যায়, শিশুটির সঙ্গে মোরশেদের ডিএনএর ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ মিল রয়েছে। এতে নিশ্চিত হওয়া যায়, শিশুটির জৈবিক বাবা মোরশেদই।

এ ঘটনায় নির্দোষ প্রমাণিত হলেও ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছেন ইমাম মোজাফফর আহমদ। অভিযোগ ওঠার পর তিনি মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারান। মামলার খরচ চালাতে বিক্রি করতে হয়েছে নিজের জমিও। সামাজিকভাবে অপমান, মানসিক চাপ ও আর্থিক ক্ষতির কারণে তিনি ভেঙে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন।

মোজাফফর আহমদ বলেন, “অবশেষে সত্য প্রকাশ হয়েছে। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে আমি সামাজিকভাবে হেনস্তা হয়েছি, চাকরি হারিয়েছি এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।”

এ ঘটনায় নিরপরাধ একজনকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা। পুলিশও বলছে, এমন ঘটনা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং ভবিষ্যতে তদন্তে আরও সতর্কতা প্রয়োজন।

সোহাগ/

আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ

ক্রিকেট

বাংলাদেশের ম্যাচ কবে; ত্রিদেশীয় সিরিজের পূর্ণ সূচি

বাংলাদেশের ম্যাচ কবে; ত্রিদেশীয় সিরিজের পূর্ণ সূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সংযুক্ত আরব আমিরাতে আগামী ১৭ অক্টোবর শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে ...

আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তেই বিশ্বকাপে যায়নি বাংলাদেশ

আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তেই বিশ্বকাপে যায়নি বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি বাংলাদেশ। নিরাপত্তা শঙ্কার ...

ফুটবল

মেসির শেষ ম্যাচ ৬ অক্টোবর, প্রতিপক্ষ কারা!

মেসির শেষ ম্যাচ ৬ অক্টোবর, প্রতিপক্ষ কারা!

নিজস্ব প্রতিবেদক: আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচের তারিখ ও প্রতিপক্ষ জানা গেছে। ...

এশিয়ান গেমস; বাংলাদেশ বনাম দক্ষিণ কোরিয়া, লাইভ যেভাবে দেখবেন

এশিয়ান গেমস; বাংলাদেশ বনাম দক্ষিণ কোরিয়া, লাইভ যেভাবে দেখবেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: এশিয়ান গেমস ২০২৬-এর নারী ফুটবলে নিজেদের পরবর্তী ম্যাচে মাঠে নামছে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ...