হিমালয়ের ঝুঁকি বাড়ছে, বাংলাদেশসহ ৮ দেশের জন্য সতর্কবার্তা
নিজস্ব প্রতিবেদক: হিমালয় অঞ্চলে দ্রুত পরিবর্তন ও হিমবাহ গলে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশসহ আটটি দেশের জন্য বড় ধরনের প্রাকৃতিক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকরা। তালিকায় রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, চীন, আফগানিস্তান ও মিয়ানমারও।
সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণা ও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহের বরফ দ্রুত কমছে। একই সঙ্গে পারমাফ্রস্ট বা দীর্ঘদিন জমাট থাকা মাটির স্তরও উষ্ণ হয়ে নরম হয়ে যাচ্ছে। ফলে ভূমিধস, হিমবাহ হ্রদ থেকে আকস্মিক বন্যা এবং নদীর পানির প্রবাহে বড় পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়ছে।
আগস্টের শেষ দিকে নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী হিমালয় এলাকায় ভয়াবহ শিলা-বরফ ধসের পর এই ঝুঁকি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশ্ব আবহাওয়া অ্যাট্রিবিউশন (WWA)-এর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ বলছে, দ্রুত উষ্ণায়নের কারণে হিমবাহ পাতলা হওয়া ও পাহাড়ের জমাট মাটি গলে যাওয়ার মতো পরিবর্তন ওই ধরনের বিপর্যয়কে আরও সম্ভাব্য করে তুলছে।
গবেষকদের উদ্বেগের বড় কারণ হলো, হিমবাহ গলে যাওয়ার ফলে পাহাড়ি এলাকায় একের পর এক অস্থিতিশীল হিমবাহ হ্রদ তৈরি হচ্ছে। এসব হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে নিচের দিকে হঠাৎ বন্যা বা প্রবল পানির স্রোত নেমে আসতে পারে। Systemiq-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের অংশেই প্রায় ২০০টি হিমবাহ হ্রদ উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে ৫৬টি খুব উচ্চ ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো নজরদারির সীমাবদ্ধতা। হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলে আনুমানিক ৪০ হাজার হিমবাহ থাকলেও মাটিতে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে মাত্র ২১টি। ফলে এত বিশাল একটি অঞ্চলে পরিবর্তনের গতি ও ঝুঁকি সম্পর্কে সরাসরি তথ্য এখনও সীমিত।
এই পর্বতমালা শুধু পাহাড়ি দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়। হিন্দুকুশ-হিমালয় থেকে এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নদী ব্যবস্থার উৎপত্তি হয়েছে। এর পানি পাহাড়ি অঞ্চল ছাড়িয়ে ভাটির বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষি, পানীয় জল, বিদ্যুৎ ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ICIMOD-এর তথ্য অনুযায়ী, হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলের পানি ও বরফনির্ভর ব্যবস্থার ওপর পাহাড় ও ভাটি মিলিয়ে দুইশ কোটির বেশি মানুষ নির্ভরশীল।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রসহ বড় নদী ব্যবস্থার পানিপ্রবাহ হিমালয় অঞ্চলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। তাই উজানে হিমবাহ, তুষার ও নদীর প্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন হলে তার প্রভাব ভাটির দেশ বাংলাদেশেও পড়তে পারে।
গবেষকদের মতে, হিমালয়ের পরিবর্তন শুধু আকস্মিক বন্যা বা ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে না; দীর্ঘমেয়াদে পানির নিরাপত্তার ওপরও চাপ তৈরি করতে পারে। Systemiq-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অঞ্চলটি চলতি শতকের মাঝামাঝি সময়ে ‘পিক ওয়াটার’-এর দিকে এগোতে পারে—অর্থাৎ একটি পর্যায়ের পর হিমবাহ গলনের কারণে নদীর প্রবাহ আর বাড়বে না, বরং কমতে শুরু করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা তাই হিমবাহ, পাহাড়ি ঢাল ও হিমবাহ হ্রদের ওপর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সীমান্ত পেরিয়ে তথ্য বিনিময়, কার্যকর আগাম সতর্কবার্তা এবং দ্রুত মানুষ সরিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। ICIMOD-ও হিমবাহ, তুষার ও পারমাফ্রস্ট পর্যবেক্ষণে আঞ্চলিকভাবে সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে।
হিমালয়ের পরিবর্তনের প্রভাব তাই শুধু পাহাড়ি অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। উজান থেকে ভাটির দেশ পর্যন্ত বিস্তৃত এই জল ও পরিবেশব্যবস্থার পরিবর্তন বাংলাদেশসহ পুরো দক্ষিণ এশিয়ার পানি, কৃষি ও জনজীবনের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
সোহাগ/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- আজকের সোনার দাম: ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেটের দর
- ১৭ সেপ্টেম্বরের আপডেট: নবম পে-স্কেলের গেজেট ভেটিংয়ে
- নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন ভেটিংয়ে, আজই গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা
- আজকের স্বর্ণের বাজারদর: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- আজকের সকল দেশের টাকার রেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- পে-স্কেলের গেজেট এখনো হয়নি, ১১ সুবিধায় পরিবর্তনের তথ্য
- দেশের কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টির আভাস, জানাল আবহাওয়া অফিস
- সিগারেটের প্যাকেটে নতুন নিয়ম
- একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরুর তারিখ পরিবর্তন, নতুন দিন ঘোষণা
- বিচার প্রশাসনে বড় রদবদল, ৯৯ বিচারক বদলি
- Galaxy A08-এ বড় ব্যাটারি, পারফরম্যান্সে বড় পরিবর্তন
- ব্যালন ডি’অর ২০২৬: বিশ্বকাপের পর বদলে গেছে হিসাব
- আজ যেসব এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে, জানাল আবহাওয়া অফিস
- বাড়ল সৌদি রিয়ালের বিনিময় হার
- আটা-ময়দার দাম বাড়ল, মুরগি-ডিমে নেই স্বস্তি
