কবে কমবে লোডশেডিং: যা জানা গেলো
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে তীব্র গরমে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লেও উৎপাদন সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জাতীয় গ্রিডে চাহিদা ও জোগানের মধ্যে দৈনিক গড়ে আড়াই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। মূলত তিনটি বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বড় একটি অংশ উৎপাদনে না থাকায় মফস্বল ও প্রান্তিক পর্যায়ে লোডশেডিংয়ের মাত্রা চরমে পৌঁছেছে।
বিদ্যুৎ সংকটের নেপথ্যে:
আদানি পাওয়ার, এসএস পাওয়ার এবং আরএনপিএলের সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা ৪ হাজার ২৪০ মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১ হাজার ৬৮৯ মেগাওয়াট। যান্ত্রিক ত্রুটি এবং জ্বালানি সংকটের কারণে এই কেন্দ্রগুলোর একটি করে ইউনিট বন্ধ রয়েছে। এছাড়া গত বুধবার রাতে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদনও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে?
বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব উম্মে রেহানা জানান, আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে বন্ধ থাকা ইউনিটগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
* ২৬ এপ্রিল: আদানির বন্ধ থাকা ইউনিটটি উৎপাদনে ফিরতে পারে।
* ২৮ এপ্রিল: বাঁশখালীর এসএস পাওয়ারের একটি ইউনিট (৬৬০ মেগাওয়াট) চালুর কথা রয়েছে।
* মে মাসের প্রথম সপ্তাহ: জ্বালানি সংকটে বন্ধ থাকা আরএনপিএলের ইউনিটটি চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই কেন্দ্রগুলো সচল হলে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ১ হাজার ৯৮২ মেগাওয়াট বাড়তি বিদ্যুৎ যুক্ত হবে, যা বর্তমান সংকট অনেকটা কমিয়ে আনবে।
অর্থনৈতিক ও কারিগরি চ্যালেঞ্জ:
বড় কেন্দ্রগুলো চালুর ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বকেয়া বিল। এসএস পাওয়ারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিপিডিবির কাছে তাদের বকেয়া ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। পর্যাপ্ত অর্থ না পাওয়ায় জ্বালানি আমদানি এবং ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, আরএনপিএল কর্তৃপক্ষ কয়লা আমদানিতে টেন্ডার জটিলতার কথা জানিয়েছে।
শহর ও গ্রামের বৈষম্য নিরসনে নতুন সিদ্ধান্ত:
গতকাল জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, শহর ও গ্রামের মধ্যে লোডশেডিংয়ের বৈষম্য কমাতে এখন থেকে ঢাকা শহরেও পরীক্ষামূলকভাবে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হবে। জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা অনুযায়ী বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে এবং কৃষকদের সেচ কাজে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মত:
লোডশেডিংয়ের সঠিক তথ্য নিয়ে সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্যের গরমিল থাকায় বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম মনে করেন, জনগণের কাছে লোডশেডিংয়ের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা উচিত যাতে মানুষ প্রস্তুতি নিতে পারে।
সারকথা: যান্ত্রিক ত্রুটি ও জ্বালানি সংকটে বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর অর্ধেক সক্ষমতা অব্যবহৃত থাকায় লোডশেডিং বেড়েছে। মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে নতুন ইউনিটগুলো চালু হলে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হতে পারে।
সোহাগ/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- শনিবারের ছুটি বাতিল সরকারি চাকরিজীবীদের
- দেশের বাজারে আজকের সোনার দাম: ০৮ মে ২০২৬
- শনিবার টানা ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- আজকের সোনার বাজারদর: ০৮ মে ২০২৬
- টানা ৫ দিনের বৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া অফিসের নতুন পূর্বাভাস
- বাড়ল স্বর্ণ ও রুপা দাম : ০৮ মে ২০২৬
- ৯ম পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি সরকারি কর্মচারীদের
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ঈদ ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি, কোথায় কত দিন বন্ধ থাকবে
- রাতে ৭ জেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের শঙ্কা, ১ নম্বর সতর্ক সংকেত
- আজকের সোনার বাজারদর: ০৯ মে ২০২৬
- ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা, বাংলাদেশে কবে হতে পারে কোরবানি ঈদ
- দেশে টানা ৫ দিন ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস
- টানা ৭ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা
- ইমাম নন, ফেনীর কিশোরীর সন্তানের জৈবিক বাবা আপন বড় ভাই
- দেশের প্রশাসনিক কাঠামোয় যুক্ত হলো নতুন পাঁচ উপজেলা
