নতুন পে স্কেলে চলতি মাসের বেতন, যা জানতে চান কর্মচারীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক: নতুন পে স্কেল অনুযায়ী চলতি মাসের বেতন পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন সরকারি কর্মচারীদের অনেকে। বেতন বিল দাখিলের কার্যক্রম এবং সরকারি বেতন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি আইবাস++ (iBAS++)-এর প্রয়োজনীয় ফিচার চালু নিয়ে উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে একটি প্রতিবেদনে। ফলে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার সময় এবং চলতি মাসের বেতন কীভাবে নির্ধারিত হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
২৬ অক্টোবর প্রকাশিত যুগান্তরের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের তথ্যের বরাতে এ উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। তবে চলতি মাসেই নতুন পে স্কেল কার্যকর হবে কি না কিংবা নতুন কাঠামোয় বেতন দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত যাচাই করা জরুরি।
সরকারি কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় বেতন বিল প্রস্তুত, প্রয়োজনীয় যাচাই এবং দাখিল করতে হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট অনুমোদন ও অর্থ পরিশোধের কার্যক্রম সম্পন্ন হলে কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাবে বেতন জমা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেতন বিল দাখিলের প্রয়োজনীয় ফিচার চালু না হওয়া কিংবা আইবাস++ ব্যবস্থায় বিল জমা দিতে সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে কর্মচারীদের মধ্যে আলোচনা চলছে। এ কারণে বিল কখন জমা দেওয়া যাবে এবং জমা দেওয়ার পর বেতন পেতে কত সময় লাগবে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
তবে সিস্টেমের ফিচার চালু বা বেতন বিল দাখিলের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হালনাগাদ তথ্য ছাড়া বিলম্বের বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
সরকারি কর্মচারীদের কাছে এখন বড় প্রশ্ন—চলতি মাসের বেতন কি নতুন পে স্কেল অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে, নাকি আগের কাঠামো অনুসরণ করা হবে?
এ বিষয়ে নিশ্চিত উত্তর পেতে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের তারিখ, বেতন নির্ধারণের নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বাস্তবায়ন-প্রস্তুতি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রয়োজন। শুধু বেতন বিল দাখিলে সম্ভাব্য জটিলতার খবর থেকে নতুন পে স্কেল কার্যকর হওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
একইভাবে, চলতি মাসেই নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন দেওয়া হবে—এমন নিশ্চয়তাও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া দেওয়া ঠিক হবে না।
আইবাস++ সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা ও বেতন-সংক্রান্ত কার্যক্রমে ব্যবহৃত একটি ব্যবস্থা। বেতন বিল প্রস্তুত ও দাখিলের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য, অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া ঠিকভাবে সম্পন্ন হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হলে কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণ, প্রযোজ্য ভাতা এবং বকেয়া থাকলে তার হিসাব কীভাবে করা হবে, তা সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। এসব কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সিস্টেম-সুবিধা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অনেক সরকারি কর্মচারী মাসিক বেতনের ওপর নির্ভর করে বাড়িভাড়া, ঋণের কিস্তি, সন্তানদের পড়াশোনা এবং পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় পরিচালনা করেন। ফলে বেতন পরিশোধের সময় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে তাদের মাসিক আর্থিক পরিকল্পনায় চাপ পড়তে পারে।
এ কারণে বেতন বিল দাখিলের প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখা এবং নতুন পে স্কেল সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা প্রকাশের দাবি ও প্রত্যাশা কর্মচারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নতুন পে স্কেল নিয়ে বিভ্রান্তি এড়াতে সরকারি কর্মচারীদের কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা প্রয়োজন:
-
নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের আনুষ্ঠানিক তারিখ ঘোষণা হয়েছে কি না।
-
চলতি মাসের বেতন কোন কাঠামো অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে।
-
আইবাস++-এ বেতন বিল দাখিলের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চালু আছে কি না।
-
নতুন বেতন নির্ধারণ, ভাতা ও সম্ভাব্য বকেয়া পরিশোধের বিষয়ে কী নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, অর্থ বিভাগ এবং নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের হালনাগাদ তথ্য অনুসরণ করা উচিত।
সারকথা: নতুন পে স্কেলে চলতি মাসের বেতন পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বেতন বিল দাখিলের প্রক্রিয়া, নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের সময় এবং বেতন পরিশোধের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার অপেক্ষা করতে হবে।
সোহাগ/
