১০,০০০mAh ব্যাটারির vivo Y600, দাম বাংলাদেশি টাকায় কত
নিজস্ব প্রতিবেদক: ১০,০০০mAh ব্যাটারি, ১২০Hz AMOLED ডিসপ্লে ও IP68/IP69 সুরক্ষা—নতুন vivo Y600 স্মার্টফোনে রয়েছে একাধিক আকর্ষণীয় ফিচার। চীনের বাজারে ফোনটি চারটি RAM ও স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্টে আনা হয়েছে। এর প্রাথমিক দাম ১ হাজার ৯৯৯ ইউয়ান, বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ৩৭ হাজার টাকা। তবে বাংলাদেশে ফোনটির আনুষ্ঠানিক দাম ও বাজারে আসার তারিখ এখনো নিশ্চিত নয়।
vivo Y600-এর দাম কত?
চীনে vivo Y600-এর দাম শুরু হয়েছে ১ হাজার ৯৯৯ ইউয়ান থেকে। সর্বোচ্চ ভ্যারিয়েন্টটির দাম ২ হাজার ৪৯৯ ইউয়ান। ২৬ অক্টোবর ২০২৬-এর কাছাকাছি মুদ্রা বিনিময় হার ধরে বাংলাদেশি টাকায় দামগুলো দাঁড়ায় আনুমানিক ৩৭ হাজার থেকে ৪৬ হাজার টাকা।
ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী চীনের দাম ও বাংলাদেশি টাকায় আনুমানিক মূল্য নিচে দেওয়া হলো।
ভ্যারিয়েন্ট
চীনের দাম
বাংলাদেশি টাকায় আনুমানিক
6GB RAM + 128GB
১,৯৯৯ ইউয়ান
৩৭,০০০ টাকা
8GB RAM + 128GB
২,০৯৯ ইউয়ান
৩৮,৮০০ টাকা
6GB RAM + 256GB
২,১৯৯ ইউয়ান
৪০,৭০০ টাকা
8GB RAM + 256GB
২,৪৯৯ ইউয়ান
৪৬,২০০ টাকা
মনে রাখবেন: এগুলো কেবল চীনের মূল্যের মুদ্রা রূপান্তর। বাংলাদেশে আমদানি খরচ, শুল্ক-কর, পরিবহন ও বিক্রেতার মার্জিন যুক্ত হলে প্রকৃত দাম বেশি হতে পারে। তাই এগুলোকে বাংলাদেশের অফিসিয়াল বাজারদর হিসেবে ধরা যাবে না।
১০,০০০mAh ব্যাটারি, চার্জিং ৪৪ ওয়াট
vivo Y600-এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর ১০,০০০mAh ব্যাটারি। সাধারণ স্মার্টফোনের তুলনায় বেশি ধারণক্ষমতার এই ব্যাটারি দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহারকারীদের জন্য আগ্রহের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা নিয়মিত বাইরে কাজ করেন, ভ্রমণ করেন কিংবা দীর্ঘ সময় ফোনে ভিডিও দেখেন, তাঁদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ ফিচার।
ফোনটিতে রয়েছে ৪৪ ওয়াটের তারযুক্ত ফাস্ট চার্জিং। এত বড় ব্যাটারি চার্জ দিতে কত সময় লাগবে, তা চার্জারের সক্ষমতা, ফোনের তাপমাত্রা ও চার্জিংয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের ওপর নির্ভর করবে। তাই শুধু ব্যাটারির ধারণক্ষমতা দেখে চার্জিংয়ের সময় নির্দিষ্ট করে বলা যায় না।
IP68 ও IP69 সুরক্ষা, বাইরে ব্যবহারে বাড়তি সুবিধা
ফোনটিতে IP68 ও IP69 রেটিংয়ের ধুলা ও পানি প্রতিরোধী সুরক্ষা রয়েছে বলে নির্মাতার প্রকাশিত তথ্য এবং পণ্যবিষয়ক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি এতে সামরিক মানের স্থায়িত্ব পরীক্ষার কথাও বলা হয়েছে।
এই সুরক্ষা বৃষ্টি, ধুলাবালি কিংবা নির্দিষ্ট পরীক্ষার শর্তে পানির সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে IP রেটিং থাকলেই ফোন সম্পূর্ণ পানিরোধী হয়ে যায় না। সমুদ্রের পানি, সাবান-পানি বা দীর্ঘ সময় পানিতে ডুবিয়ে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
১২০Hz AMOLED ডিসপ্লে ও Dimensity প্রসেসর
vivo Y600-এ রয়েছে ৬.৮৩ ইঞ্চির 1.5K AMOLED ডিসপ্লে। এর রেজল্যুশন ১,২৬০ × ২,৮০০ পিক্সেল এবং রিফ্রেশ রেট সর্বোচ্চ ১২০Hz। ফলে সমর্থিত কনটেন্টে স্ক্রলিং ও অ্যানিমেশন তুলনামূলক মসৃণ দেখানোর কথা।
পারফরম্যান্সের জন্য ফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে MediaTek Dimensity 7300e প্রসেসর। সঙ্গে রয়েছে LPDDR4X RAM এবং UFS 3.1 স্টোরেজ। ফোনটি Android 16-ভিত্তিক OriginOS 6 সফটওয়্যারে চলে।
ক্যামেরায় কী থাকছে?
ছবি তোলার জন্য vivo Y600-এর পেছনে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা। সেলফি ও ভিডিও কলের জন্য সামনে দেওয়া হয়েছে ৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা।
এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ক্যামেরার মেগাপিক্সেল সংখ্যা বেশি হলেই ছবি ভালো হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। ছবির মান নির্ভর করে সেন্সর, সফটওয়্যার প্রসেসিং, আলো ও অন্যান্য বিষয়ের ওপর।
আরও যেসব ফিচার রয়েছে
vivo Y600-এ পাওয়া যাবে বেশ কিছু বাড়তি সুবিধা। এর মধ্যে রয়েছে—
5G নেটওয়ার্ক সাপোর্ট
ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর
স্টেরিও স্পিকার
NFC
ইনফ্রারেড রিমোট
Bluetooth 5.4
USB Type-C পোর্ট
GPS ও উন্নত অবস্থান নির্ণয় সুবিধা
ফোনটিতে দুর্বল নেটওয়ার্ক এলাকায় সংযোগ উন্নত করার জন্য বিশেষ সিগন্যাল প্রযুক্তির কথাও বলা হয়েছে। তবে বাস্তবে নেটওয়ার্কের মান অপারেটর, অবস্থান ও পরিবেশের ওপর নির্ভর করবে।
বাংলাদেশে vivo Y600 কবে আসবে?
বাংলাদেশি ক্রেতাদের জন্য বড় প্রশ্ন হলো, ফোনটি দেশে কবে পাওয়া যাবে এবং এর দাম কত হবে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, vivo Y600 চীনের বাজারের জন্য ঘোষণা করা হয়েছে এবং সেখানে ৩০ অক্টোবর থেকে বিক্রি শুরু হওয়ার কথা। অন্য বাজারে এর আনুষ্ঠানিক প্রাপ্যতা নিশ্চিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশে ফোনটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারজাত করা হলে দাম চীনের মূল্যের সমান থাকবে—এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। তাই কেনার আগে vivo বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা, স্থানীয় বিক্রেতার মূল্য এবং ওয়ারেন্টির তথ্য যাচাই করে নেওয়া উচিত।
সব মিলিয়ে, vivo Y600-এর ১০,০০০mAh ব্যাটারি, বড় AMOLED ডিসপ্লে এবং IP68/IP69 সুরক্ষা একে আলাদা করে তুলেছে। তবে বাংলাদেশের বাজারে ফোনটি আসবে কি না এবং এলে কত দামে পাওয়া যাবে, সেটিই এখন সম্ভাব্য ক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
আশা/
