কোটি টাকায় বাইকের কারখানা, বছরে তৈরি হবে ৫ লাখ
বিশ্ববাজারে ইলেকট্রিক মোটরসাইকেলের ব্যবসা বাড়াতে বড় পরিকল্পনা নিয়েছে ভারতের বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আল্ট্রাভায়োলেট অটোমোটিভ। তামিলনাড়ুর হোসুরে ৭৭৯ কোটি ভারতীয় রুপি বিনিয়োগে নতুন উৎপাদনকেন্দ্র গড়ে তুলছে প্রতিষ্ঠানটি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে কারখানাটির বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ৫ লাখ ইলেকট্রিক মোটরসাইকেলে উন্নীত করা হবে।
বাংলাদেশি মুদ্রায় ৭৭৯ কোটি ভারতীয় রুপি প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার সমান। তবে এটি ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগের পরিমাণ; বাংলাদেশে কারখানা স্থাপন বা এ দেশে বাইক বাজারজাতের কোনো ঘোষণা নয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ভারতের বাজারের পাশাপাশি দক্ষিণ ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। উন্নত প্রযুক্তি, ব্যাটারি সক্ষমতা ও উচ্চ পারফরম্যান্সের ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে চায় তারা।
আল্ট্রাভায়োলেট অটোমোটিভের নতুন কারখানাটি ভারতের তামিলনাড়ুর হোসুরে নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুরুতে কারখানাটির বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা থাকবে ২ লাখ ৫০ হাজার ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল। পরবর্তী পাঁচ বছরে তা বাড়িয়ে ৫ লাখ ইউনিটে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেলের বাজার সম্প্রসারণের প্রত্যাশা। আল্ট্রাভায়োলেটের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা নিরাজ রাজমোহনের দাবি, ভারতে গত কয়েক বছরে ইলেকট্রিক মোটরসাইকেলের বিক্রি দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। আগামী তিন বছরেও এ বাজারে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে।
২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত বিশ্ববাজারে ৭ হাজারের বেশি ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল বিক্রি করেছে বলে জানিয়েছেন রাজমোহন।
ইলেকট্রিক মোটরসাইকেলের প্রযুক্তি উন্নয়নে প্রায় ৫০০ কোটি ভারতীয় রুপি গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ করেছে আল্ট্রাভায়োলেট। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য, এমন প্রযুক্তি তৈরি করা, যা দীর্ঘ সময় ধরে কার্যকর থাকবে।
রাজমোহনের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের প্রযুক্তি প্রায় এক দশক ব্যবহারের উপযোগী করে নকশা করা হয়েছে। তবে এটি নির্দিষ্ট কোনো বাইকের ব্যাটারি বা সব যন্ত্রাংশের এক দশকের নিশ্চয়তা বোঝায় না।
প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের প্রযুক্তিনির্ভর নির্মাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। এ জন্য নতুন উৎপাদনকেন্দ্রের পাশাপাশি উন্নত বৈদ্যুতিক স্থাপত্য, ব্যাটারি প্রযুক্তি ও দ্রুত চার্জিং সুবিধার ওপর জোর দিচ্ছে তারা।
আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের উপস্থিতি বাড়ানোর অংশ হিসেবে আল্ট্রাভায়োলেট তাদের নতুন X-47 Venom ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল সামনে আনছে। ২০২৬ সালের নভেম্বরে ইতালির মিলানে অনুষ্ঠিতব্য EICMA আন্তর্জাতিক মোটরসাইকেল প্রদর্শনীতে মডেলটি প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
X-47 Venom তৈরি করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির নতুন VX-100 বৈদ্যুতিক আর্কিটেকচার ও SRB-11 ব্যাটারি প্রযুক্তির সমন্বয়ে। কোম্পানির দাবি, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত ত্বরণ, বেশি গতির সক্ষমতা, উন্নত রেঞ্জ ও দ্রুত চার্জিংয়ের সুবিধা পাওয়া যাবে।
বাইকটিতে ১২ কিলোওয়াট ডিসি ফাস্ট চার্জিং সমর্থনের কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিবেদনে মডেলটির দাম ৩ লাখ ভারতীয় রুপি উল্লেখ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ৪ লাখ ২৩ হাজার টাকা। প্রথম ৫ হাজার ক্রেতার জন্য ৩৫ হাজার রুপি ছাড়ের কথাও বলা হয়েছে।
এই দাম ভারতীয় বাজারের জন্য। বাংলাদেশে বাইকটির দাম, আমদানি, নিবন্ধন বা বিক্রির বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।
বাংলাদেশেও ইলেকট্রিক দুই চাকার যানবাহন নিয়ে আগ্রহ রয়েছে। তবে আল্ট্রাভায়োলেট অটোমোটিভের এই সম্প্রসারণ পরিকল্পনা সরাসরি বাংলাদেশের বাজারে নতুন বাইক আসার নিশ্চয়তা দেয় না।
প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে নতুন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করলে বাংলাদেশি ক্রেতাদের জন্য পণ্যটি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে কি না, তা নির্ভর করবে কোম্পানির বাজার সম্প্রসারণ পরিকল্পনা, আমদানি নীতি, স্থানীয় অনুমোদন, বিক্রয়োত্তর সেবা ও দামের ওপর।
সব মিলিয়ে, ৭৭৯ কোটি ভারতীয় রুপির নতুন উৎপাদনকেন্দ্র আল্ট্রাভায়োলেট অটোমোটিভের বৈশ্বিক সম্প্রসারণ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বছরে ৫ লাখ ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিষ্ঠানটির উপস্থিতি আরও বাড়তে পারে।
আশা/
