ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’: কোথায় আঘাতের আশঙ্কা, বাংলাদেশে বৃষ্টি কবে
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ ঘিরে আবহাওয়ার পরিস্থিতি নিয়ে নজর রাখছেন আবহাওয়াবিদেরা। ঝড়টি ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে অগ্রসর হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এর প্রভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও বৃষ্টি, বজ্রসহ বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া দেখা দিতে পারে।
আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৬টার দিকে গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়। পরে সকাল ৯টার পর্যবেক্ষণে এটি পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছিল বলে জানানো হয়।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৯টায় ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র ছিল প্রায় ১৬ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। সে সময় কেন্দ্রের কাছে বাতাসের গড় গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ৬৫ কিলোমিটার ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৩ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে বলেও জানানো হয়।
তবে ঘূর্ণিঝড়ের অবস্থান, শক্তি ও গতিপথ সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের হালনাগাদ বুলেটিন অনুসরণ করা জরুরি।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আরও শক্তিশালী হতে পারে। দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে, সোমবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাতের মধ্যে ঝড়টির শক্তি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আরও একটি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি শক্তি বাড়িয়ে আগামী বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার মধ্যবর্তী উপকূলীয় এলাকায় স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে। তবে সম্ভাব্য স্থলভাগে আঘাতের স্থান ও সময় নিশ্চিত নয়; সর্বশেষ সরকারি পূর্বাভাসে পরিবর্তন আসতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়টি সরাসরি বাংলাদেশে আঘাত না করলেও এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে বলে দেওয়া পূর্বাভাসে উল্লেখ রয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের আবহাওয়ায় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী স্থানীয়ভাবে দমকা হাওয়া বা বজ্রসহ বৃষ্টিও হতে পারে।
বুধবার ও বৃহস্পতিবার খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকাতেও ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
শুক্রবার রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কিছু জায়গায় এবং অন্যান্য বিভাগের দু-এক জায়গায় মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টি হতে পারে বলে দেওয়া পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। তবে বর্ধিত পূর্বাভাসের শেষ দিকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা কমে আসতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ ও প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত হতে নিয়মিত আবহাওয়া অধিদপ্তরের বুলেটিন দেখুন। উপকূলীয় এলাকায় অবস্থান করলে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করুন। দমকা হাওয়া বা বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গা, গাছের নিচ ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা থেকে দূরে থাকুন।
মনে রাখবেন: ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথ, স্থলভাগে আঘাতের সময় এবং বৃষ্টির পূর্বাভাস পরিবর্তিত হতে পারে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের পরিবর্তে সরকারি ও নির্ভরযোগ্য আবহাওয়া সূত্রের সর্বশেষ আপডেটের ওপর নির্ভর করুন।
সিদ্দিকা/
