বাংলাদেশের গ্রামের মানুষের জন্য দুঃসংবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের কর ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। রাজস্ব আহরণ বাড়াতে এবার ভ্যাট ব্যবস্থাকে শহরের বাইরে নিয়ে গ্রাম পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো বিশাল অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতিকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনা এবং দীর্ঘদিনের নিম্ন কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে প্রথমবারের মতো উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়ের ক্ষুদ্র ও অতি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও সরাসরি ভ্যাটের আওতায় আসবেন। তবে এ উদ্যোগে যেমন সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি রয়েছে বাস্তবায়নজনিত নানা চ্যালেঞ্জ।
এনবিআর ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য মাসিক ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার ‘টোকেন ভ্যাট’ চালুর পরিকল্পনা করছে। এর উদ্দেশ্য হলো সহজভাবে কর ব্যবস্থায় যুক্ত করা এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমানো। তবে অনেকের মতে, এটি আগের ‘প্যাকেজ ভ্যাট’ ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি হতে পারে, যা অতীতে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বাতিল হয়েছিল।
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা ও ট্রেড লাইসেন্স পেতে বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (বিআইএন) বাধ্যতামূলক করার চিন্তা রয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে কর প্রশাসনের আওতায় আনা সহজ হবে।
বর্তমানে দেশে প্রায় ৮ লাখ প্রতিষ্ঠানের বিআইএন থাকলেও নিয়মিত ভ্যাট রিটার্ন দেয় মাত্র ৫ লাখের কিছু বেশি। অন্যদিকে দেশে প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ অর্থনৈতিক ইউনিট রয়েছে, যার ৯৯ শতাংশই ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প—এবং এর বড় অংশই গ্রামভিত্তিক।
বাংলাদেশে কর-জিডিপি অনুপাত দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে অন্যতম কম। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর ঋণ কর্মসূচির শর্তেও রাজস্ব বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এনবিআর কর্মকর্তাদের মতে, কর অব্যাহতি কমানোর পাশাপাশি করদাতার সংখ্যা বাড়ানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা নীতিগতভাবে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও বাস্তবায়নে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি চাপ বা হয়রানি তৈরি হলে উদ্যোগটি ব্যর্থ হতে পারে। একইভাবে হঠাৎ করে বিআইএন বাধ্যতামূলক করলে অনেক ছোট উদ্যোক্তা ব্যবসা পরিচালনায় নিরুৎসাহিত হতে পারেন।
বর্তমানে দেশের মোট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বড় অংশ ঢাকার বাইরে হলেও রাজস্বের সিংহভাগ আসে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে। এই বৈষম্য কমাতে গ্রামীণ পর্যায়ে ভ্যাট সম্প্রসারণ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই উদ্যোগের বড় বাধা হতে পারে নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাব। দেশে বিপুলসংখ্যক ব্যাংক হিসাব থাকলেও কতগুলো ব্যবসায়িক—তার স্পষ্ট তথ্য নেই। একইভাবে সক্রিয় ট্রেড লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের সঠিক পরিসংখ্যানও অনির্দিষ্ট। তাই কার্যকর বাস্তবায়নের আগে একটি শক্তিশালী ডাটাবেজ তৈরি জরুরি।
গ্রামীণ অর্থনীতিকে কর ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে রাজস্ব বাড়বে এবং অর্থনীতির আনুষ্ঠানিকতা বাড়বে। তবে বাস্তবায়নে জটিলতা, দুর্নীতি বা অতিরিক্ত চাপ তৈরি হলে উল্টো প্রভাবও পড়তে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগ সফল করতে হলে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন, স্বচ্ছ ডিজিটাল প্রক্রিয়া এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় উচ্চাকাঙ্ক্ষী এই পরিকল্পনা মাঠপর্যায়ে গিয়ে নতুন জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে।
সোহাগ/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- ভেটিংয়ে নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন, আজই গেজেট
- ব্যাচেলর পয়েন্টের পাভেনের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল
- ৯ম পে স্কেলের গেজেট কবে? ১৭, ২১ নাকি ২২ সেপ্টেম্বর—সর্বশেষ তথ্য
- দুর্গাপূজায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ১৬ দিনের ছুটি!
- আজকের স্বর্ণের বাজারদর: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- নবম পে-স্কেলের গেজেট আজই? সন্ধ্যার পর আসতে পারে প্রজ্ঞাপন
- নতুন পে-স্কেলে বাতিল হচ্ছে যে বিশেষ সুবিধা
- নবম পে স্কেলের গেজেট নিয়ে বড় অগ্রগতি
- আজকের সকল দেশের টাকার রেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- একাদশে ভর্তির জন্য আবেদন শূন্য যে ১১ কলেজে
- অক্টোবরে স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসায় টানা ছুটি
- সিগারেটের দাম বাড়ল
- নতুন Bajaj Pulsar 125: দাম, ফিচার ও পারফরম্যান্স
- পে স্কেলে যেসব ভাতা বাড়ছে, কার্যকর ২০২৮ সালে
- ৫ বিভাগে ভারী বৃষ্টি, ২৫ জেলায় তাপপ্রবাহ
