| ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

বজ্রপাত থেকে বাঁচতে ‘৩০-৩০ নিয়ম’

জাতীয় ডেস্ক . বিনোদন৬৯.কম
২০২৬ মে ০৬ ০৯:৫৫:২২
বজ্রপাত থেকে বাঁচতে ‘৩০-৩০ নিয়ম’

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে প্রতি বছর বজ্রপাতে প্রাণহানির সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খুব সাধারণ একটি নিরাপত্তা কৌশল—‘৩০-৩০ নিয়ম’—ঠিকভাবে মেনে চললে অনেক প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত বজ্রপাতে ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের বড় অংশই খোলা মাঠে কাজ করা কৃষক। গত ২৬ এপ্রিল একদিনেই ১৪ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম (এসএসটিএফ)।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস ব্যবস্থা উন্নত হলেও, তাৎক্ষণিক সঠিক পদক্ষেপ না নেওয়ায় অনেকেই ঝুঁকিতে পড়ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু সতর্কতা শোনা নয়, কী করতে হবে তা জানা আরও জরুরি।

বিএমডির স্টর্ম ওয়ার্নিং সেন্টারের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ড. মোহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, বজ্রপাত থেকে নিরাপদ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি হলো ‘৩০-৩০ নিয়ম’।

এই নিয়মটি দুই ধাপে কাজ করে—

* বজ্রপাতের আলো দেখা মাত্র সেকেন্ড গণনা শুরু করতে হবে* যদি ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে বজ্রধ্বনি শোনা যায়, তাহলে বুঝতে হবে ঝড় খুব কাছে—তৎক্ষণাৎ নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে* ঘরে ঢোকার পর শেষ বজ্রধ্বনি শোনার অন্তত ৩০ মিনিট পর বাইরে বের হওয়া উচিত

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রথম ৩০ সেকেন্ড বিপদের দূরত্ব বোঝায়, আর পরের ৩০ মিনিট নিশ্চিত করে ঝুঁকি কেটে গেছে।

দেশে বজ্রপাতে মৃত্যুর বড় কারণ হলো সতর্কতা উপেক্ষা করা। অনেকেই বজ্রপাতের আলো দেখেও মাঠে কাজ চালিয়ে যান বা গবাদিপশু আনতে বাইরে থাকেন। গ্রামীণ এলাকায় খোলা মাঠে অবস্থান করা কৃষকদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

অনেক ক্ষেত্রে মানুষ গাছের নিচে আশ্রয় নেয়, যা বজ্রপাতের সময় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোর একটি। খোলা মাঠ পার হওয়া বা ঝড়ের সময় বাইরে থাকা প্রাণঘাতী হতে পারে।

কর্তৃপক্ষ একটি সহজ বার্তা প্রচার করছে—“বজ্রধ্বনি শুনলেই ঘরে যান।” কারণ ঘরই সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়।

বজ্রপাতজনিত মৃত্যু বাড়তে থাকায় ২০১৬ সালে এটিকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর শত শত মানুষ বজ্রপাতে প্রাণ হারান। ২০২০ সালে সর্বোচ্চ ৪২৭ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতার পাশাপাশি বাস্তব উদ্যোগও জরুরি। বিশেষ করে হাওরসহ খোলা মাঠপ্রধান এলাকায় বজ্রপাত-নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

এসএসটিএফ কৃষকদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছে—

* কালো মেঘ দেখামাত্র নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়া* বৃষ্টির সময় কোনোভাবেই গাছের নিচে না দাঁড়ানো* মাঠে কাজের সময় জুতা ব্যবহার করা

রেডিও, টেলিভিশন ও মাঠপর্যায়ের প্রচারণার মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগও জোরদার করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বজ্রপাত থামানো সম্ভব নয়, কিন্তু সঠিক সচেতনতা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিলে প্রাণহানি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ

ক্রিকেট

বাংলাদেশের ম্যাচ কবে; ত্রিদেশীয় সিরিজের পূর্ণ সূচি

বাংলাদেশের ম্যাচ কবে; ত্রিদেশীয় সিরিজের পূর্ণ সূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সংযুক্ত আরব আমিরাতে আগামী ১৭ অক্টোবর শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে ...

আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তেই বিশ্বকাপে যায়নি বাংলাদেশ

আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তেই বিশ্বকাপে যায়নি বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি বাংলাদেশ। নিরাপত্তা শঙ্কার ...

ফুটবল

মেসির শেষ ম্যাচ ৬ অক্টোবর, প্রতিপক্ষ কারা!

মেসির শেষ ম্যাচ ৬ অক্টোবর, প্রতিপক্ষ কারা!

নিজস্ব প্রতিবেদক: আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচের তারিখ ও প্রতিপক্ষ জানা গেছে। ...

এশিয়ান গেমস; বাংলাদেশ বনাম দক্ষিণ কোরিয়া, লাইভ যেভাবে দেখবেন

এশিয়ান গেমস; বাংলাদেশ বনাম দক্ষিণ কোরিয়া, লাইভ যেভাবে দেখবেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: এশিয়ান গেমস ২০২৬-এর নারী ফুটবলে নিজেদের পরবর্তী ম্যাচে মাঠে নামছে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ...