সোহাগ আহমদে
সিনিয়র রিপোর্টার
১৪০ বছর পর যে বিপদে পড়তে যাচ্ছে পৃথিবী
নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ ১৪০ বছরের আবহাওয়ার ইতিহাস ওলটপালট করে দিয়ে ধেয়ে আসছে এক দানবীয় প্রাকৃতিক শক্তি—সুপার এল নিনো। বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের যে সতর্কবার্তা বিজ্ঞানীরা এতদিন দিয়ে আসছিলেন, তাকে ছাড়িয়ে এক চরম ও অসহনীয় উষ্ণতার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে পৃথিবী। এর প্রভাবে আগামী বছর বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হতে পারে, যার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়বে ভয়াবহ ঝড়, খরা ও বন্যার মতো দুর্যোগ।
সুপার এল নিনো আসলে কী?
প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব অংশের পানির তাপমাত্রা যখন স্বাভাবিকের চেয়ে অন্তত ০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যায়, তখন তাকে ‘এল নিনো’ বলা হয়। কিন্তু এই তাপমাত্রা বৃদ্ধি যখন ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়, তখন তাকে বলা হয় ‘সুপার এল নিনো’। বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রশান্ত মহাসাগরে ঠিক এমনই এক শক্তিশালী এল নিনো দানা বাঁধছে।
বৈশ্বিক প্রভাবের চরম রূপ:
মার্কিন জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এবারের এল নিনো গত ১৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী হতে পারে। এর প্রভাব হবে বৈচিত্র্যময় ও চরম:
* তীব্র খরা: অস্ট্রেলিয়া, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা ও আমাজন রেইন ফরেস্টে দেখা দিতে পারে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ ও খরা।
* অতিবৃষ্টি ও বন্যা: যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চল ও মধ্য দক্ষিণ এশিয়ায় অতিবৃষ্টির ফলে হঠাৎ বন্যার ঝুঁকি বাড়বে।
বাংলাদেশের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?
কৃষিপ্রধান দেশ হওয়ায় বাংলাদেশের জন্য এল নিনোর প্রভাব অত্যন্ত উদ্বেগের। এর ফলে:
১. বৃষ্টিপাত হ্রাস: মৌসুমী বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ায় বর্ষাকালে বৃষ্টি কমে যাবে, যা আমন ও আউশ ধানের চাষাবাদকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে।
২. চরম তাপমাত্রা: শীতকালে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি গরম অনুভূত হবে এবং গ্রীষ্মকালে দীর্ঘমেয়াদী ও তীব্র হিটওয়েভ বা তাপপ্রবাহ দেখা দেবে।
৩. খাদ্য নিরাপত্তা: দীর্ঘ খরা ও অনাবৃষ্টি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি এবং খাদ্য নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
অতীতের অভিজ্ঞতা:
ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ২০১৫ সালের সুপার এল নিনোর প্রভাবে ইথিওপিয়ায় চরম খরা এবং পুয়ের্তো রিকোয় তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছিল। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, প্রকৃতির এই সম্ভাব্য রুদ্রমূর্তি মোকাবিলায় এখনই বিশ্বজুড়ে প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এর ভয়াবহতা সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্টি হওয়া সুপার এল নিনোর কারণে আগামী বছর বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সব রেকর্ড ভেঙে যেতে পারে। বাংলাদেশের কৃষিখাত ও জনজীবনে এর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সোহাগ/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- পে-স্কেল ২০২৬: প্রথম ধাপে স্বস্তির আভাস, অগ্রাধিকার পাচ্ছেন যারা
- শনিবারের ছুটি বাতিল সরকারি চাকরিজীবীদের
- সর্বনিম্ন ২০ হাজার, সর্বোচ্চ ১.৬০ লাখ প্রস্তাব
- আজকের সোনার বাজারদর: ০৭ মে ২০২৬
- ১০৮ আসন পেয়েও মুখ্যমন্ত্রী হতে পারছেন না থালাপতি বিজয়
- ৫ দিনের পূর্বাভাস: তাপমাত্রা বাড়বে, আসছে বৃষ্টি
- নবম পে-স্কেল: সর্বনিম্ন ২০ হাজার, সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার
- পে-স্কেল পরিবর্তন: প্রথম ধাপে বড় সুবিধা কারা পাচ্ছেন
- নবম পে-স্কেল: সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন কত
- দেশের বাজারে আজকের স্বর্ণের দাম
- আজকের সকল দেশের টাকার রেট: ০৭ মে ২০২৬
- সিদ্ধ ডিম আসল নাকি নকল? সহজ কিছু উপায়ে চিনে নিন
- আজকের সোনার বাজারদর: ০৮ মে ২০২৬
- একদিনের ব্যবধানে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
- ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা, বাংলাদেশে কবে হতে পারে কোরবানি ঈদ
