যুদ্ধের অজুহাতে সয়াবিন তেলের বাজারে অস্থিরতা
নিজস্ব প্রতিবেদক: বৈশ্বিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের অজুহাতে রাজধানীর বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সপ্তাহখানেকের ব্যবধানে খোলা তেলের দাম লিটারে ৪ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, ঈদ ও রমজানকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তেলের দাম বাড়াচ্ছেন।
বাজারের বর্তমান চিত্র
রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও মহাখালীসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকানে পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ নেই। খুচরা ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ডিলাররা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত কম পণ্য সরবরাহ করছেন। সপ্তাহখানেক আগে পাঁচ লিটারের এক বোতল তেলের দাম ৯৩০ থেকে ৯৫০ টাকা থাকলেও এখন তা সরকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৯৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে এর চেয়েও বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ব্যবসায়ীদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, কোম্পানিগুলো দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে ডিলাররা বলছেন, তারা কোম্পানি থেকে পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছেন না। কারওয়ান বাজারের এক ডিলার জানান, যেখানে প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে আড়াইশ কার্টন তেল আসত, সেখানে এখন মাত্র ৫০ কার্টন তেল পাওয়া যাচ্ছে। তবে কোম্পানিগুলো আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশ্বস্ত করেছে।
আমদানিকারক ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য
সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পেছনে ভিন্ন ভিন্ন কারণ দেখাচ্ছেন আমদানিকারকরা। টি কে গ্রুপের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডিজেল সংকটের কারণে তেলবাহী ট্রাক পাওয়া যাচ্ছে না, যার ফলে সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া বিশ্ববাজারে পাম অয়েলের দাম বৃদ্ধি এবং ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি শুল্ক আরোপকেও সংকটের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মেঘনা গ্রুপ দাবি করেছে, তাদের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক আছে; কিছু মানুষ গুজবে কান দিয়ে অতিরিক্ত তেল কেনায় বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
খোলা তেলের বাজারেও আগুন
বোতলজাত তেলের সংকটে চাপ বেড়েছে খোলা তেলের বাজারে। গত সপ্তাহে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১৭৬ থেকে ১৭৮ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। পাম অয়েলের দামও সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে লিটারে অন্তত ৪ থেকে ৫ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ভোক্তা অধিকার ও ক্যাবের প্রতিক্রিয়া
কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) বলছে, যুদ্ধের প্রভাবে বাজারে দাম বাড়তে কিছুটা সময় লাগার কথা থাকলেও ব্যবসায়ীরা আগাম মুনাফা লোটার কৌশল নিয়েছেন। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে তারা নিয়মিত তদারকি করছে এবং নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সোহাগ/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- সরকারি চাকরিতে বড় পরিবর্তন: ৩ বছরের ‘ব্যাকডেট’ সুবিধা
- জুলাই ২০২৬ থেকে নবম পে স্কেল কার্যকর
- ৮ মার্চ থেকে নতুন নিয়মে তেল বিক্রি
- সরকারি চাকরিতে বড় সুখবর: নতুন পে স্কেলের পথে সরকার
- আজকের সোনার বাজারদর: ৭ মার্চ ২০২৬
- আরব আমিরাত ও বাংলাদেশে ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা
- জাতীয়করণ যেভাবে করা হবে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
- ২০২৬ সালের জুলাই থেকে নবম পে স্কেল কার্যকরের পরিকল্পনা
- জুলাই ২০২৬ থেকে নবম পে স্কেল; ১২ই মার্চ আসছে বড় সিদ্ধান্ত
- আজ এক ভরি স্বর্ণের দাম
- বাংলাদেশে ঈদ ২০ মার্চ না ২১ মার্চ! জ্যোতির্বিজ্ঞানের চুড়ান্ত সময় ঘোষণা
- তেলের দাম এক সপ্তাহে বাড়লো ২০ শতাংশ
- বাংলাদেশে আজ এক ভরি ১৮, ২১, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম
- রাজধানীর বাস কাউন্টারগুলোতে টিকিট বিক্রি বন্ধ
- দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ জ্বালানি তেলের দাম
