ইউরোপের বাইরে খেলেও কি ব্যালন ডি’অর জিততে পারবেন মেসি
নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। গোল ও অ্যাসিস্ট, দুই বিভাগেই শীর্ষে থাকা এই মহাতারকাকে ঘিরে এখন নতুন প্রশ্ন, ইউরোপের বাইরে খেলেও কি ব্যালন ডি’অর জেতা সম্ভব?
বিশ্বকাপে মেসির ধারাবাহিক নৈপুণ্যের পর ক্রীড়া বিশ্লেষক ও বিভিন্ন বুকমেকারের মূল্যায়নে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে উঠে এসেছে তার নাম। আর্জেন্টিনা যদি বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে, তাহলে নবমবারের মতো এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জয়ের সম্ভাবনা আরও জোরালো হতে পারে।
সম্প্রতি ব্যালন ডি’অরের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি প্রশ্ন তোলা হয়, “ইউরোপের কোনো ক্লাবে না খেলেও কি ব্যালন ডি’অর জেতা সম্ভব?” এর উত্তরে আয়োজকরা স্পষ্টভাবে জানান, হ্যাঁ, এটি সম্ভব।
আয়োজকদের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ১৯৫৬ সালে ফ্রান্স ফুটবল ব্যালন ডি’অর চালু করলে পুরস্কারটি শুধু ইউরোপীয় লিগে খেলা ইউরোপীয় ফুটবলারদের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল। ১৯৯৫ সালে নিয়ম পরিবর্তন করে ইউরোপের যেকোনো লিগে খেলা বিশ্বের সব দেশের ফুটবলারকে বিবেচনায় আনা হয়। পরে ২০০৭ সাল থেকে সেই সীমাবদ্ধতাও তুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে বিশ্বের যেকোনো লিগে খেলা সেরা ফুটবলারই ব্যালন ডি’অরের জন্য বিবেচিত হন।
এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ লিওনেল মেসি নিজেই। ২০২৩ সালে তিনি যখন অষ্টম ব্যালন ডি’অর জেতেন, তখন যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামির ফুটবলার ছিলেন। যদিও সেই পুরস্কারের মূল্যায়নে তার প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) এবং ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে করা পারফরম্যান্সই মূল ভূমিকা রেখেছিল।
আয়োজকরা আরও মনে করিয়ে দিয়েছেন, ২০২২ সাল থেকে ব্যালন ডি’অর নির্বাচনে আর ক্যালেন্ডার বছর নয়, আগস্ট থেকে পরবর্তী বছরের জুলাই পর্যন্ত সময়ের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হয়। ফলে একজন ফুটবলার ইউরোপের বাইরে খেললেও, যদি ওই সময়ের পারফরম্যান্স সেরা হয়, তাহলে ব্যালন ডি’অর জয়ের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই।
এবারও বিশ্বকাপে অসাধারণ পারফরম্যান্সের কারণে ব্যালন ডি’অরের আলোচনায় রয়েছেন মেসি। এখন দেখার বিষয়, স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা এনে দিয়ে ইতিহাসে নবমবারের মতো বিশ্বের সেরা ফুটবলারের স্বীকৃতি নিজের করে নিতে পারেন কি না এই কিংবদন্তি।
সোহাগ/
