মোবাইল ফোন দিয়েই নামজারির আবেদন করা যায়? যা জানা প্রয়োজন
নিজস্ব প্রতিবেদক: জমির নামজারি করতে এখন আর আবেদন জমা দেওয়ার জন্য শুরুতেই ভূমি অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহার করেই ঘরে বসে অনলাইনে নামজারির আবেদন করা যায়। এ জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের ই-নামজারি ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন ফরম পূরণ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড এবং নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হয়।
তবে মোবাইলে আবেদন করলেই নামজারি নিশ্চিত হয়ে যায় না। জমির কাগজপত্র, মালিকানার তথ্য ও অন্যান্য বিষয় যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আবেদন অনুমোদন বা নামঞ্জুরের সিদ্ধান্ত দেয়।
মোবাইল দিয়ে নামজারির আবেদন করবেন যেভাবে
স্মার্টফোন থেকে কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করে নামজারির আবেদন করা যায়।
ধাপ ১: সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন
মোবাইলের ব্রাউজার খুলে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ই-নামজারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
ওয়েবসাইট: https://mutation.land.gov.bd/
সেখানে ‘অনলাইনে আবেদন করুন’ অপশন থেকে নামজারির আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করুন।
ধাপ ২: জমির তথ্য পূরণ করুন
আবেদন ফরমে জমি যে সূত্রে পেয়েছেন, সেটি নির্বাচন করতে হবে। যেমন—ক্রয়সূত্রে, ওয়ারিশসূত্রে, হেবা বা অন্য কোনো বৈধ সূত্রে।
এরপর জমির বিভাগ, জেলা, উপজেলা, মৌজা, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর এবং আবেদন করা জমির পরিমাণসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। দলিলের মাধ্যমে জমি কিনে থাকলে দলিল নম্বর, তারিখ ও সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের তথ্যও প্রয়োজন হতে পারে।
ধাপ ৩: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করুন
আবেদনের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ডিজিটাল কপি প্রস্তুত রাখুন। যেমন—
-
জমির খতিয়ানের কপি
-
ক্রয়সূত্রে মালিক হলে প্রযোজ্য দলিলের কপি
-
ওয়ারিশসূত্রে জমি পেলে ওয়ারিশ সনদ
-
সর্বশেষ ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের দাখিলা
-
আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য
-
আবেদনকারীর ছবি ও স্বাক্ষরসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য নথি
কোন কাগজপত্র লাগবে, তা জমি পাওয়ার সূত্র ও আবেদনকারীর পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। ওয়েবসাইটের নির্দেশনা অনুযায়ী ফাইলের ধরন ও আকার ঠিক রেখে নথি আপলোড করতে হবে।
ধাপ ৪: আবেদন ফি পরিশোধ করুন
ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ফি তালিকা অনুযায়ী, নামজারির আবেদন ও নোটিশ জারি ফি মিলিয়ে ৭০ টাকা দিতে হয়। অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমে নির্ধারিত পদ্ধতিতে এই ফি পরিশোধ করা যায়।
ধাপ ৫: আবেদন জমা দিয়ে নম্বর সংরক্ষণ করুন
সব তথ্য ও কাগজপত্র ভালোভাবে যাচাই করে আবেদন জমা দিন। আবেদন নম্বর এবং পেমেন্টের রসিদ সংরক্ষণ করুন। আবেদন জমা দেওয়ার পর ভুল তথ্য সংশোধনের সুযোগ সীমিত হতে পারে, তাই জমা দেওয়ার আগেই প্রতিটি তথ্য মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।
নামজারির জন্য মোট কত টাকা লাগে?
ভূমি তথ্য বাতায়নে প্রকাশিত নির্ধারিত ফি অনুযায়ী নামজারির খরচ হলো—
| ফি-এর ধরন | নির্ধারিত টাকা |
|---|---|
| আবেদনের কোর্ট ফি | ২০ টাকা |
| নোটিশ জারি ফি | ৫০ টাকা |
| নামজারি অনুমোদনের পর DCR ফি | ১,১০০ টাকা |
| মোট নির্ধারিত ফি | ১,১৭০ টাকা |
সূত্র: ভূমি তথ্য বাতায়নের নির্ধারিত ফি তালিকা।
মনে রাখতে হবে, আবেদন জমা দেওয়ার সময় প্রথম দুই ফি মিলিয়ে ৭০ টাকা দিতে হয়। আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পর নির্ধারিত পর্যায়ে DCR ফি ১,১০০ টাকা পরিশোধ করতে হয়। আবেদন নামঞ্জুর হলে বা বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি হলে পরবর্তী করণীয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
মোবাইলে আবেদন করলেই কি ভূমি অফিসে যেতে হবে না?
অনলাইনে আবেদন করা গেলেও সব ক্ষেত্রে ভূমি অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না—এমন নিশ্চয়তা নেই। আবেদন যাচাইয়ের সময় শুনানি, মূল কাগজপত্র দেখা বা অতিরিক্ত তথ্যের প্রয়োজন হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদনকারীকে শুনানিতে অংশ নিতে বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হতে পারে।
আবেদনের অগ্রগতি জানতে ই-নামজারি ওয়েবসাইটের ‘আবেদন ট্র্যাকিং’ অপশন ব্যবহার করুন। মোবাইলে আসা এসএমএসও খেয়াল রাখুন। আবেদন মঞ্জুর হলে পরবর্তী ধাপে DCR ফি পরিশোধ এবং অনলাইনে খতিয়ান ও DCR-এর কপি সংগ্রহের সুযোগ থাকে।
নামজারির আবেদন করার আগে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন
-
খতিয়ান, দাগ নম্বর ও জমির পরিমাণ সঠিকভাবে লিখুন।
-
জমির মালিকানা কীভাবে আপনার কাছে এসেছে, তার ধারাবাহিক কাগজপত্র প্রস্তুত রাখুন।
-
ছবি, স্বাক্ষর ও দলিলের স্ক্যান কপি পরিষ্কার রাখুন।
-
আবেদন জমা দেওয়ার আগে সব তথ্য আবার যাচাই করুন।
-
আবেদন নম্বর, পেমেন্ট রসিদ ও এসএমএস সংরক্ষণ করুন।
-
প্রয়োজন হলে সরকারি ভূমিসেবা হটলাইন ১৬১২২-এ যোগাযোগ করুন।
সব মিলিয়ে, স্মার্টফোন দিয়েই ঘরে বসে নামজারির আবেদন করা সম্ভব। তবে আবেদন সফল করতে জমির সঠিক তথ্য, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং নির্ধারিত ফি ঠিকভাবে জমা দেওয়া জরুরি। আবেদন করার আগে সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সর্বশেষ নির্দেশনা ও ফি তালিকা দেখে নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।
সোহাগ/
