এশিয়ার সবচেয়ে বড় ১০ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশের অবস্থান কোথায়?
নিজস্ব প্রতিবেদক: জনসংখ্যা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ বড় সামরিক বাহিনী গড়ে তুলেছে। সক্রিয় সামরিক সদস্যসংখ্যার হিসাবে এ অঞ্চলে এগিয়ে রয়েছে চীন ও ভারত। তবে সামরিক সদস্যসংখ্যার তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান কত নম্বরে, তা নিয়েও আগ্রহ রয়েছে অনেকের।
গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ারের ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, চীনের সক্রিয় সামরিক সদস্য প্রায় ২০ লাখ ৩৫ হাজার এবং ভারতের প্রায় ১৪ লাখ ৩১ হাজার। অন্যদিকে, বাংলাদেশের সক্রিয় সামরিক সদস্যসংখ্যা আনুমানিক ২ লাখ ৪ হাজার। এই হিসাবে বাংলাদেশ বিশ্বের তালিকায় ৩০তম অবস্থানে রয়েছে।
সক্রিয় সামরিক সদস্যসংখ্যায় এশিয়ার শীর্ষ ১০ দেশ
গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ারের ২০২৬ সালের সক্রিয় সামরিক জনবলের হিসাবের ভিত্তিতে, রাশিয়াকে বাদ দিয়ে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষ ১০-এর তালিকা নিচে দেওয়া হলো। রাশিয়া এশিয়া ও ইউরোপ—দুই মহাদেশজুড়ে বিস্তৃত হওয়ায় আঞ্চলিক তালিকায় দেশটিকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, তার ওপর ক্রম বদলাতে পারে।
| অবস্থান | দেশ | সক্রিয় সামরিক সদস্য |
|---|---|---|
| ১ | চীন | ২০,৩৫,০০০ |
| ২ | ভারত | ১৪,৩১,০০০ |
| ৩ | উত্তর কোরিয়া | ১৩,২০,০০০ |
| ৪ | পাকিস্তান | ৬,৬০,০০০ |
| ৫ | ইরান | ৬,১০,০০০ |
| ৬ | দক্ষিণ কোরিয়া | ৪,৫০,০০০ |
| ৭ | ভিয়েতনাম | ৪,৫০,০০০ |
| ৮ | ইন্দোনেশিয়া | ৪,০৪,৫০০ |
| ৯ | থাইল্যান্ড | ৩,৬০,৮৫০ |
| ১০ | শ্রীলঙ্কা | ৩,৪৬,০০০ |
সূত্র: গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ারের ২০২৬ সালের সক্রিয় সামরিক জনবলের তালিকা। সংখ্যাগুলো আনুমানিক এবং উৎসের হিসাবভিত্তিক।
সামরিক সদস্যসংখ্যায় চীন কেন শীর্ষে?
চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) সক্রিয় সামরিক সদস্যসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম বাহিনী। ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, দেশটির সক্রিয় সদস্য প্রায় ২০ লাখ ৩৫ হাজার। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভারতের সক্রিয় সদস্য প্রায় ১৪ লাখ ৩১ হাজার।
উত্তর কোরিয়ার সক্রিয় সামরিক সদস্যসংখ্যাও ১৩ লাখের বেশি। এরপর রয়েছে পাকিস্তান ও ইরান। এই দেশগুলোর প্রতিরক্ষা কাঠামোয় সামরিক জনবল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এশিয়ার তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান কত?
গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ারের ২০২৬ সালের হিসাবে বাংলাদেশের সক্রিয় সামরিক সদস্যসংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৪ হাজার। সক্রিয় জনবলের বৈশ্বিক তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৩০তম। তাই শুধু সক্রিয় সামরিক সদস্যসংখ্যার হিসাবে বাংলাদেশ এশিয়ার শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে নেই।
তবে এই অবস্থানকে সামগ্রিক সামরিক সক্ষমতার র্যাঙ্কিং হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ারের সামরিক শক্তির পৃথক সূচকে দেশগুলোর অস্ত্র, বিমান, নৌসম্পদ, আর্থিক সক্ষমতা ও অন্যান্য বিষয়ও বিবেচনা করা হয়। সেই সূচকে বাংলাদেশের ২০২৬ সালের অবস্থান ১৪৫টি দেশের মধ্যে ৩৭তম।
শুধু সেনাসদস্যের সংখ্যা দিয়ে সামরিক শক্তি বোঝা যায় না
কোনো দেশের সামরিক বাহিনীর আকার গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটিই সামগ্রিক সক্ষমতার একমাত্র মাপকাঠি নয়। আধুনিক অস্ত্র ও প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ, বিমান ও নৌবাহিনীর সক্ষমতা, প্রতিরক্ষা বাজেট, রসদ সরবরাহ এবং রিজার্ভ সদস্যসংখ্যাও বিবেচনায় নিতে হয়।
তাই সক্রিয় সামরিক সদস্যসংখ্যার তালিকা মূলত দেশগুলোর নিয়মিত সামরিক বাহিনীর আকার সম্পর্কে ধারণা দেয়। এটি দিয়ে কোনো সম্ভাব্য সংঘাতের ফলাফল বা সামগ্রিক সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণ করা যায় না।
সোহাগ/
