গভীর রাতে মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন, কবর খুঁড়লেন মেয়ে ও বোন
নিজস্ব প্রতিবেদক: পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন ঘিরে উত্তেজনা ও বাধার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, মরদেহ দাফন করতে গিয়ে তারা বাধার মুখে পড়েন। পরে পুলিশের নিরাপত্তায় গভীর রাতে নিজ বাড়িতে তাকে দাফন করা হয়। এ সময় পরিবারের নারী সদস্যরাই কবর খোঁড়েন বলে জানিয়েছেন তার স্বজনেরা।
রোববার (২৫ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (২৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে মানিক পশারীকে দাফন করা হয়।
দাফন নিয়ে কী ঘটেছিল?
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানিক পশারীর মরদেহ নেওয়ার পর স্বজনেরা বাধার মুখে পড়েন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশের সহায়তায় মরদেহটি সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
পরে বিকেল ৫টার দিকে পুলিশ লাইনে তার মরদেহে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এরপর সদর থানা পুলিশ মরদেহের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয়।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত ১টার দিকে পুলিশের নিরাপত্তায় মরদেহটি চিতলিয়া গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। প্রায় রাত ২টার দিকে দাফন সম্পন্ন হয়।
কবর খুঁড়লেন পরিবারের নারী সদস্যরা
মানিক পশারীর বোনের অভিযোগ, প্রথমবার কবর খোঁড়ার পর সেটি আবার ভরাট করে দেওয়া হয়েছিল। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্বিতীয়বার কবর খোঁড়েন। কিন্তু দাফনের সময় কোনো পুরুষ এগিয়ে না আসায় তার স্ত্রী, মেয়ে, বোনসহ পরিবারের সদস্যদেরই কবর খোঁড়া ও দাফনের কাজে অংশ নিতে হয়।
ঘটনাটি নিয়ে পরিবারের বক্তব্য সামনে এলেও বাধা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ।
জামায়াতের বক্তব্য কী?
পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, জেলা জামায়াত ও অঙ্গসংগঠনের কোনো নেতা মানিক পশারীর দাফনে বাধা দেননি। বরং দাফন সম্পন্ন করতে সদর থানা পুলিশকে সহযোগিতা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, পুলিশের নিরাপত্তায় মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। কবরের পাশে অতিরিক্ত পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছিল।
কে ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী?
মানিক পশারীর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। তিনি পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী এবং রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী ছিলেন।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি যশোর ও গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাতার কাছে আশ্রয় নিয়েছিলেন। গত দুই মাস ধরে অসুস্থ থাকার পর শনিবার সকাল ১০টার দিকে মেয়ের জামাতার বাড়িতে তার মৃত্যু হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার শেষ বিদায় ঘিরে এমন পরিস্থিতির অভিযোগ স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এবং তা অস্বীকার করে দেওয়া বক্তব্য—দুই পক্ষের তথ্যই বিবেচনায় রাখা জরুরি।
সোহাগ/
