৮ বছরেই উচ্চতর গ্রেড, নবম পে-স্কেলে যেসব সুবিধা মিলবে
নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য জারি হয়েছে নবম জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬। নতুন বেতন কাঠামোয় মূল বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি চিকিৎসা, টিফিন, যাতায়াত, মোবাইল ফোন, পাহাড়ি, হাওর ও চর ভাতাসহ বিভিন্ন আর্থিক সুবিধায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। একই সঙ্গে পদোন্নতি না পেলেও নির্দিষ্ট শর্তে ৮ বছর চাকরি করলেই উচ্চতর গ্রেডে যাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
গত শনিবার অর্থ মন্ত্রণালয় ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ শিরোনামে নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে সরকারি চাকরিজীবীদের ২০টি গ্রেডের বেতন ও বিভিন্ন ভাতার নতুন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।
৮ বছরেই মিলবে উচ্চতর গ্রেড
নতুন পে-স্কেলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার নিয়মে। কোনো সরকারি চাকরিজীবী একই গ্রেডে ৮ বছর দায়িত্ব পালন করেও পদোন্নতি না পেলে সন্তোষজনক সার্ভিস রেকর্ডের ভিত্তিতে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডে বেতন পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
বর্তমানে একই গ্রেডে ১০ বছর থাকার পর এ ধরনের উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিধান রয়েছে। নতুন নিয়মে সেই সময় কমিয়ে ৮ বছর করা হয়েছে।
নতুন পে-স্কেলে কার বেতন কত বাড়ছে
নতুন কাঠামোয় গ্রেডভেদে প্রারম্ভিক মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। প্রথম থেকে ১১তম গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। ১২তম থেকে ২০তম গ্রেডে বৃদ্ধির হার ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত।
গ্রেড-১-এর প্রারম্ভিক মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হয়েছে। গ্রেড-২-এ ৬৬ হাজার থেকে ১ লাখ ৩২ হাজার, গ্রেড-৩-এ ৫৬ হাজার ৫০০ থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার এবং গ্রেড-৪-এ ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে।
গ্রেড-৫-এর বেতন ৪৩ হাজার থেকে বেড়ে ৮৬ হাজার, গ্রেড-৬-এ ৩৫ হাজার ৫০০ থেকে ৭১ হাজার, গ্রেড-৭-এ ২৯ হাজার থেকে ৫৮ হাজার, গ্রেড-৮-এ ২৩ হাজার থেকে ৪৬ হাজার এবং গ্রেড-৯-এ ২২ হাজার থেকে ৪৪ হাজার টাকা হয়েছে।
গ্রেড-১০-এ প্রারম্ভিক মূল বেতন ১৬ হাজার থেকে বেড়ে ৩২ হাজার টাকা করা হয়েছে। গ্রেড-১১-এ ১২ হাজার ৫০০ থেকে ২৫ হাজার, গ্রেড-১২-এ ১১ হাজার ৩০০ থেকে ২৪ হাজার ৩০০ এবং গ্রেড-১৩-এ ১১ হাজার থেকে ২৪ হাজার টাকা করা হয়েছে।
এ ছাড়া গ্রেড-১৪-এ ১০ হাজার ২০০ থেকে ২৩ হাজার ৫০০, গ্রেড-১৫-এ ৯ হাজার ৭০০ থেকে ২২ হাজার ৮০০, গ্রেড-১৬-এ ৯ হাজার ৩০০ থেকে ২১ হাজার ৯০০, গ্রেড-১৭-এ ৯ হাজার থেকে ২১ হাজার ৪০০ এবং গ্রেড-১৮-এ ৮ হাজার ৮০০ থেকে ২১ হাজার টাকা করা হয়েছে।
গ্রেড-১৯-এর প্রারম্ভিক বেতন ৮ হাজার ৫০০ থেকে বেড়ে ২০ হাজার ৫০০ এবং সর্বশেষ গ্রেড-২০-এর বেতন ৮ হাজার ২৫০ থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
চিকিৎসা ভাতায় বড় পরিবর্তন
নতুন পে-স্কেলে চিকিৎসা ভাতায়ও পরিবর্তন আনা হয়েছে। চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে বয়স অনুযায়ী চিকিৎসা ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।
৫০ বছর বয়স পর্যন্ত চাকরিজীবীরা মাসে ৩ হাজার টাকা এবং ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের পিআরএল শেষ হওয়া পর্যন্ত ৪ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা পাবেন।
পেনশনভোগীদের জন্যও বয়সভেদে ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। ৫০ বছর পর্যন্ত ৩ হাজার, ৫০ থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত ৪ হাজার, ৬০ থেকে ৭০ বছর পর্যন্ত ৫ হাজার এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সীদের মাসে ৬ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়া হবে।
টিফিন ও যাতায়াত ভাতা বাড়ছে
নতুন কাঠামোয় ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের টিফিন ভাতা মাসে ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা হয়েছে।
সিটি করপোরেশন এলাকায় একই গ্রেডের কর্মচারীদের যাতায়াত ভাতা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা করা হয়েছে।
মোবাইল ফোন ভাতাও নতুন করে
নতুন পে-স্কেলে মোবাইল ফোন ভাতার বিধান রাখা হয়েছে। পঞ্চম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তারা মাসে ৫০০ টাকা এবং ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ১৫০ টাকা মোবাইল ফোন ভাতা পাবেন।
প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য বিশেষ ভাতা
নতুন বেতন কাঠামোয় প্রথমবারের মতো প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য বিশেষ ভাতার বিধান রাখা হয়েছে। কোনো চাকরিজীবীর সন্তান প্রতিবন্ধী হলে মাসে ৩ হাজার টাকা বিশেষ ভাতা দেওয়া হবে। সর্বোচ্চ দুই সন্তানের ক্ষেত্রে এ সুবিধা প্রযোজ্য হবে।
পাহাড়, হাওর ও চর এলাকায় বাড়তি সুবিধা
পার্বত্য এলাকায় কর্মরত সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে পাহাড়ি ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। পার্বত্য জেলার জেলা সদর ও সদর উপজেলায় এ ভাতার সর্বোচ্চ সীমা ৫ হাজার টাকা এবং অন্যান্য উপজেলায় সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫০০ টাকা।
হাওর বা চর এলাকায় দায়িত্ব পালনকারীদের সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
বাংলা নববর্ষ ভাতা কমেছে
সব ভাতা অবশ্য বাড়ানো হয়নি। নতুন কাঠামোয় বাংলা নববর্ষ ভাতা আগের মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে।
ঝুঁকি ও বিশেষ ভাতায় পরিবর্তন
ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন সরকারি সেবায় নিয়োজিত নির্দিষ্ট পদের কর্মীদের জন্য আগের স্মারক অনুযায়ী ঝুঁকি ভাতা ও বিশেষ সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে।
এসআরবি, আনসার, ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড, দুর্নীতি দমন কমিশন ও কারাগারের মতো সংস্থায় কর্মরত নির্দিষ্ট পদের কর্মীরা এসব সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে এনএসআই, ডিজিএফআই, এসএসএফ ও পিজিআরসহ বিশেষ সংস্থায় নিয়োজিত কর্মীদের বিদ্যমান ভাতার ওপর অতিরিক্ত ২০ শতাংশ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
বাড়িভাড়ার হারেও পরিবর্তন
নতুন পে-স্কেলে বাড়িভাড়ার হারেও পরিবর্তন এসেছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ২০ থেকে ১৬তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের বাড়িভাড়া মূল বেতনের ৬০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। আগে এ হার ছিল ৬৫ শতাংশ।
১৫ থেকে ১০ম গ্রেডে বাড়িভাড়া ৫০ শতাংশ, ৯ থেকে ৫ম গ্রেডে ৪৫ শতাংশ এবং ৪ থেকে ১ ও তদূর্ধ্ব গ্রেডে ৪০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও নির্ধারিত এলাকায় ২০ থেকে ১৬তম গ্রেডে ৫০ শতাংশ, ১৫ থেকে ১০ম গ্রেডে ৪০ শতাংশ, ৯ থেকে ৫ম গ্রেডে ৩৫ শতাংশ এবং ৪ থেকে ১ ও তদূর্ধ্ব গ্রেডে ৩০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া দেওয়া হবে।
দেশের অন্যান্য এলাকায় ২০ থেকে ১৬তম গ্রেডে ৪৫ শতাংশ, ১৫ থেকে ১০ম গ্রেডে ৩৫ শতাংশ, ৯ থেকে ৫ম গ্রেডে ৩০ শতাংশ এবং ৪ থেকে ১ ও তদূর্ধ্ব গ্রেডে ২৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
ধাপে ধাপে কার্যকর হবে নতুন পে-স্কেল
নতুন বেতন কাঠামো একবারে পুরোপুরি কার্যকর হবে না। ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।
২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন মূল বেতনের বাড়তি অংশের ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ পাবেন।
২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডে বাড়তি মূল বেতনের ৭০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে ৭৫ শতাংশ কার্যকর হবে।
২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামোর শতভাগ কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। ১ জুলাই থেকেই নতুন কাঠামো কার্যকর ধরা হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়ম অনুযায়ী বকেয়া বেতনও পাবেন।
২০২৮ সাল থেকে কার্যকর হবে অন্যান্য ভাতা
নতুন কাঠামোর অন্যান্য সব ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। একইভাবে পেনশন সুবিধাভোগীরাও নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সুবিধা পাবেন।
যারা নতুন পে-স্কেলের বাইরে
সব সরকারি কর্মচারী নতুন পে-স্কেলের আওতায় আসছেন না। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস, প্রতিরক্ষা সার্ভিস, পুলিশ বাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে নিয়োজিত কর্মীরা এই স্কেলের বাইরে থাকবেন।
এ ছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক, শিক্ষানবিশ বা প্রশিক্ষণার্থী, আউটসোর্সিং কর্মী, দৈনিকভিত্তিক সাময়িক শ্রমিক, চুক্তিভিত্তিক ও খণ্ডকালীন কর্মীরাও নতুন বেতন কাঠামোর সরাসরি সুবিধা পাবেন না। তাদের জন্য পরবর্তী সময়ে আলাদা স্কেল বা ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হবে।
শীর্ষ কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা বেতন
নতুন কাঠামোয় ২০টি গ্রেডের পাশাপাশি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও সমমর্যাদার কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা নির্ধারিত বেতন রাখা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও সমমর্যাদার কর্মকর্তাদের বেতন ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা এবং সিনিয়র সচিব ও সমমর্যাদার কর্মকর্তাদের বেতন ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোহাগ/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- আজকের সোনার দাম: ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেটের দর
- আজকের স্বর্ণের বাজারদর: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- দেশের কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টির আভাস, জানাল আবহাওয়া অফিস
- পে-স্কেলের গেজেট এখনো হয়নি, ১১ সুবিধায় পরিবর্তনের তথ্য
- ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ আসছে, আঘাত হানতে পারে কোন অঞ্চলে
- সিগারেটের প্যাকেটে নতুন নিয়ম
- একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরুর তারিখ পরিবর্তন, নতুন দিন ঘোষণা
- বাড়ল সৌদি রিয়ালের বিনিময় হার
- লাফিয়ে কমলো মালয়েশিয়ান রিংগিতের বিনিময় হার
- নতুন পে-স্কেল: সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার, সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার
- সরকারি চাকরিতে তদবির করলে ব্যবস্থা!
- ১২ জেলায় তাপপ্রবাহ, বৃষ্টি নিয়ে নতুন পূর্বাভাস
- নতুন পে-স্কেলে বেতন পাবেন না যারা
- নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের বাড়িভাড়া কত শতাংশ
- সুপার এল নিনো এলে বাংলাদেশে কী প্রভাব পড়বে
