পৃথিবীতে আর কত তেল জমা আছে
নিজস্ব প্রতিবেদক: কোটি কোটি বছর ধরে মাটির গভীরে চাপা পড়া উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ থেকে তৈরি হয়েছে আমাদের আজকের জ্বালানি তেল। গত ১৬৫ বছর ধরে মানুষ এই মূল্যবান সম্পদ উত্তোলন করছে। কিন্তু আমরা যে হারে তেল ব্যবহার করছি, তাতে প্রশ্ন জাগে—পৃথিবীর এই তেলের ভান্ডার কি তবে শেষ হয়ে আসছে?
তেলের বর্তমান মজুত কত?
২০২৩ সালের জরিপ অনুযায়ী, পৃথিবীতে বর্তমানে প্রায় ১.৬ ট্রিলিয়ন ব্যারেল উত্তোলনযোগ্য তেল মজুত আছে। এর বাইরেও আরও প্রায় ৫৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল থাকতে পারে যা এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। তেলের এই বিশাল ভান্ডার মূলত নির্ভর করে পৃথিবীর ভূত্বকের গঠন বা প্লেট টেকটোনিক্সের ওপর। নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে মৃত জৈব পদার্থ দ্রুত চাপা পড়ায় সেখানে তেলক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।
কত দিন চলবে এই তেল?
বিশেষজ্ঞরা কয়েক দশক ধরেই বলে আসছেন যে বর্তমান মজুত দিয়ে আর ৫০ বছর চলা সম্ভব। তবে মজার বিষয় হলো, এই '৫০ বছর' সময়টি গত কয়েক বছর ধরে একই জায়গায় স্থির আছে। এর কারণ হলো:
* নতুন নতুন তেলক্ষেত্র আবিষ্কার।
* উন্নত প্রযুক্তির ফলে আগে যা অসম্ভব ছিল, এখন সেখান থেকেও তেল তোলা যাচ্ছে।
* নতুন তেল পাওয়ার হার ও ব্যবহারের হার প্রায় সমান হয়ে থাকা।
তেল কি কখনো পুরোপুরি ফুরিয়ে যাবে?
সহজ উত্তর হলো—না। পৃথিবী থেকে তেল কখনোই একদম শূন্য হয়ে যাবে না। কারণ:
১. অ্যান্টার্কটিকার মতো দুর্গম জায়গায় তেলের মজুত রয়ে গেছে।
২. মাটির এত গভীরে তেল আছে যা তোলার খরচ তেলের দামের চেয়েও বেশি হতে পারে।
৩. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে ভবিষ্যতে আরও দুর্ভদ্য জায়গা থেকে তেল তোলা সম্ভব হবে।
চাহিদার পরিবর্তন ও তেলের ভবিষ্যৎ
ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম (BP) এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার মতে, তেলের ভবিষ্যৎ এখন কেবল মজুতের ওপর নয়, বরং চাহিদার ওপর নির্ভর করছে।
* বিকল্প জ্বালানি: বৈদ্যুতিক যানবাহনের জনপ্রিয়তা বাড়ায় তেলের ওপর নির্ভরতা কমছে।
* ২০৩০ সালের পূর্বাভাস: ধারণা করা হচ্ছে ২০৩০ সালের মধ্যে তেলের চাহিদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে এবং এরপর থেকে তা কমতে শুরু করবে।
সারকথা: তেলের অভাবে পৃথিবী থমকে যাবে না। বরং প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানির দিকে মানুষের ঝুঁকে পড়াই নির্ধারণ করবে মাটির নিচের এই তেলের ভবিষ্যৎ।
সোহাগ/
