নবম পে স্কেল ২০২৬-এর শুরুতেই: বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে আসছে ‘সাকুল্য বেতন’ ধারণা
নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় বেতন স্কেল প্রণয়নের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই পে স্কেল আগামী ২০২৬ সালের শুরুতে (জানুয়ারি, মার্চ বা এপ্রিলের মধ্যে) গেজেট আকারে প্রকাশ ও কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে।
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ নিশ্চিত করেছেন, পে কমিশন নতুন বেতন কাঠামো তৈরির কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিচ্ছে। এই বেতন কাঠামোর মূল লক্ষ্য শুধু বেতন বৃদ্ধি নয়, বরং:
* বৈষম্য হ্রাস: গ্রেডভিত্তিক বৈষম্য কমিয়ে বেতন অনুপাত পুনর্গঠন করা।
* সুযোগ-সুবিধা উন্নয়ন: মূল বেতনের পাশাপাশি চিকিৎসা, শিক্ষা, পদোন্নতি ও বিভিন্ন ভাতায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা।
বাতিল হতে পারে অতিরিক্ত ভাতা, আসছে ‘সাকুল্য বেতন’
নবম পে স্কেল কার্যকর হলে কিছু বিদ্যমান আর্থিক সুবিধা বাতিলের সম্ভাবনা রয়েছে। এর বিকল্প হিসেবে একটি নতুন ধারণা প্রস্তাব করা হয়েছে:
* বাতিলের প্রস্তাব: পে কমিশনের মতে, সরকারি সভা, সেমিনার ও প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য প্রদেয় সম্মানী বা অতিরিক্ত ভাতা অযৌক্তিক, কারণ এগুলো কর্মপরিধিরই অংশ। প্রতি বছর এই খাতে সরকারের প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়, যা বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে।
* নতুন কাঠামো: এই বাতিলের বিকল্প হিসেবে ‘সাকুল্য বেতন’ বা ‘পারিশ্রমিক’ নামে একটি নতুন বেতন কাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে মূল বেতনের বাইরে আর্থিক বা অনার্থিক অতিরিক্ত কোনো সুবিধা থাকবে না।
জাতীয় বেতন কমিশন (পে কমিশন) ২০২৫-এর সদস্যসচিব মো. ফরহাদ সিদ্দিক জানিয়েছেন, নতুন পে স্কেলের চূড়ান্তকরণ নিয়ে আলোচনার জন্য খুব শীঘ্রই ১৩টি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে।
সিদ্দিকা/
