পে-স্কেল নিয়ে সর্বশেষ যা জানা গেল
১৫ মার্চের আল্টিমেটাম: দাবি না মানলে ২৮ মার্চ কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি
নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি আর দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্যে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে সরকারি কর্মচারীদের। এবার নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে রাজপথে নামার চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছে ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ’। আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে সরকার দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নিলে আগামী ২৮ মার্চ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশব্যাপী বৃহত্তর কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সংগঠনের মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলী ও সদস্য সচিব মো. মাহমুদুল হাসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই কঠোর আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।
বঞ্চনার এক দশক ও জীবনযাত্রার সংকট
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল ঘোষণার পর থেকে বিশেষ করে ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীরা চরম বৈষম্যের কবলে পড়েছেন। গত ১১ বছর ধরে তারা কোনো নতুন পে-স্কেল পাননি। অথচ এই সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয় ও মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে বহুগুণ। ৬ সদস্যের একটি পরিবার নিয়ে বর্তমান বাজারে টিকে থাকা সাধারণ কর্মচারীদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, ১৯৯১ এবং ২০০৫ সালে তৎকালীন সরকারগুলো সম্মানজনক পে-স্কেল দিলেও পরবর্তীতে সেই ধারাবাহিকতা আর বজায় থাকেনি। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার পে-কমিশনের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরও এখনো বাস্তবায়নের কোনো ঘোষণা না আসায় কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
মাঠ পর্যায়ের নতুন কর্মসূচি:
দাবি আদায়ে সংগঠনটি নিচের কর্মসূচিগুলো পালনের ঘোষণা দিয়েছে:
* স্মারকলিপি প্রদান (২২ ফেব্রুয়ারি – ৫ মার্চ): জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হবে।
* কেন্দ্রীয় তৎপরতা: একই সময়ে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সরাসরি মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করে দাবিনামা পেশ করবেন।
* বিভাগীয় সমাবেশ: পবিত্র রমজান মাসজুড়ে দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে প্রতিনিধি সমাবেশ ও সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
চূড়ান্ত প্রত্যাশা ও হুঁশিয়ারি
ঐক্য পরিষদের নেতারা সাফ জানিয়েছেন, সাধারণ কর্মচারীরা এখন আর কেবল মৌখিক আশ্বাস বা প্রতিশ্রুতিতে সন্তুষ্ট নন। ১৫ মার্চের মধ্যে যদি সরকার নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের কোনো সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ বা দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণ না করে, তবে পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর ২৮ মার্চ থেকে দেশজুড়ে আন্দোলনের নতুন অধ্যায় শুরু হবে। তারা এখন সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত ও কার্যকর প্রতিফলন দেখতে চান।
সেলিম/
