নির্বাচনের আগে পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা
নবম পে-স্কেল: নির্বাচনের আগে গেজেট প্রকাশ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা
নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেলের চূড়ান্ত গেজেট নির্বাচনের আগে প্রকাশ হওয়া নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একদিকে কর্মচারীদের দাবি ও আলটিমেটাম, অন্যদিকে অর্থনৈতিক চাপ, প্রশাসনিক ব্যস্ততা এবং আসন্ন নির্বাচনী তফসিলের কারণে গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া কার্যত থমকে গেছে।
অর্থ উপদেষ্টার বক্তব্য: দ্রুত ঘোষণার সুযোগ নেই
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে পে-স্কেল ঘোষণার দ্রুত কোনো সম্ভাবনা নেই। তিনি বলেন, পে-স্কেল শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি দেশের অর্থনীতি, বাজেট সক্ষমতা, মুদ্রাস্ফীতি এবং সামগ্রিক উন্নয়ন পরিস্থিতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন,
"পে-স্কেল ঘোষণা সহজ কাজ না। অনেকগুলো ধাপ রয়েছে। কর্মচারীদের আলটিমেটামের মধ্যে এত কম সময়ে তা শেষ করা সম্ভব নয়। আমরা কাজ করছি, তবে বাস্তবতা কঠিন।"
বাস্তবায়নে বাধা ও প্রশাসনিক জটিলতা
নবম পে-স্কেলের খসড়া প্রস্তাব—যা মূল বেতন পুনর্মূল্যায়ন, গ্রেড পুনর্বিন্যাস এবং বিভিন্ন ভাতায় পরিবর্তনসহ টেকনিক্যাল ক্যাডারের স্কেল উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ধারণ করে—তা অর্থ বিভাগে পাঠানো হয়েছে বেশ কিছুদিন আগে।
বাস্তবায়নের মূল বাধাগুলো হলো:
* আন্তঃবিভাগীয় সমন্বয়হীনতা: গেজেট প্রকাশের জন্য অর্থ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা কমিশনের যৌথ আলোচনা প্রয়োজন।
* নির্বাচনী ব্যস্ততা: নির্বাচনী তফসিল ঘনিয়ে আসায় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলো এখন প্রার্থী যাচাই-বাছাই ও নির্বাচন প্রস্তুতিতে চরম ব্যস্ত। এতে পে-স্কেলের ফাইল কার্যত থেমে গেছে।
* নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে নির্বাচনের আগে এই ফাইল সামনে এগোনোর সম্ভাবনা কম, কারণ যেকোনো বড় আর্থিক সিদ্ধান্তের জন্য এখন নির্বাচন কমিশনের অনুমতির প্রয়োজন।
সরকারের অর্থনৈতিক বিবেচনা
সরকারের নীতিনির্ধারকেরা মনে করেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে দ্রুত নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করলে বাজেটে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে।
* চ্যালেঞ্জসমূহ: উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, রাজস্ব ঘাটতি, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ এবং প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধির মতো কারণে পে-স্কেল বাস্তবায়নের আগে আরও পর্যালোচনার প্রয়োজন।
* অর্থ উপদেষ্টার উদ্বেগ: "দারিদ্র্য বেড়েছে, প্রশাসনিক দুর্বলতা ও প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্রাইসিস রয়েছে। এসব বিবেচনায় না নিয়ে পে-স্কেল ঘোষণা করা হলে সেটি অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ ফেলবে।"
চাকরিজীবীদের আলটিমেটাম ও আশঙ্কা
সরকারি চাকরিজীবীরা আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে গেজেট প্রকাশের দাবি জানিয়েছিল। তা না হলে ১৭ ডিসেম্বর থেকে কঠোর কর্মসূচি পালনের ঘোষণা ছিল। তবে নীতিনির্ধারকদের ধারণা, ঘোষণার সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও দ্রুত সমন্বয় করা সম্ভব নয়। চাকরিজীবী সংগঠনগুলো আশঙ্কা করছে, নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত পে-স্কেল বাস্তবায়ন আর এগোবে না।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের ধারণা, অর্থনৈতিক বাস্তবতা, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নির্বাচনী ব্যস্ততা এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক সতর্কতার ত্রিমুখী চাপের কারণে পে-স্কেল সিদ্ধান্ত আরও পিছিয়ে যেতে পারে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, তফসিল ঘোষণার পর রাষ্ট্রীয় অর্থসংক্রান্ত বড় সিদ্ধান্তগুলো স্থগিত রাখতে হয়।
সব মিলিয়ে, নবম পে-স্কেলের চূড়ান্ত রূপরেখা নির্বাচনের আগে নয়, বরং নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই সামনে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সিদ্দিকা/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- আজকের সোনার বাজারদর: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
- পে-স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার; যা জানা গেল
- ৫ লক্ষণ দেখলেই বুঝবেন ক্যানসারে ভুগছেন
- আজ এক ভরি ১৮, ২১, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম
- ফ্যামিলি কার্ড আবেদন: লাগবে যেসব কাগজপত্র
- সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর আসছে টানা ১০ দিনের ছুটি
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটির তালিকায় বড় পরিবর্তন
- নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জোরালো সুপারিশ
- যে দুই জেলা দিয়ে ফ্যামিলি কার্ডের যাত্রা শুরু
- টানা ১০ দিনের সরকারি ছুটির সুযোগ
- কমলো এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম, জানুন নতুন দর
- এবার ঈদুল ফিতরে কত দিনের ছুটি; জেনে নিন হিসাব-নিকাশ
- দেশের বাজারে আজ এক ভরি স্বর্ণের দাম
- সংরক্ষিত নারী আসনে থাকবেন কারা, জানালেন মির্জা ফখরুল
- বিদায়বেলায় পে-স্কেল নিয়ে বড় সুখবর দিয়ে গেলেন অর্থ উপদেষ্টা
