নতুন পে স্কেল নিয়ে ধোঁয়াশা
নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বা পে স্কেল প্রণয়নের লক্ষ্যে গত ২৭ জুলাই গঠিত জাতীয় বেতন কমিশন এখন তীব্র চাপের মুখে। কর্মচারী নেতারা আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে কমিশনের সুপারিশ জমা দেওয়ার জন্য আলটিমেটাম দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে সুপারিশ জমা না পড়লে তারা কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এবং একই দাবিতে আগামী ৫ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছেন।
সচিবদের সঙ্গে বৈঠক, কমিশনের আশাবাদ
কমিশনের প্রথম সভা থেকে পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে সরকারের কাছে সুপারিশ জমা দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। এর অংশ হিসেবে সোমবার (২৪ নভেম্বর) পে কমিশনের সদস্যরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেছেন।
বৈঠক শেষে কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান গণমাধ্যমকে জানান, আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। যদিও সব সচিব সভায় উপস্থিত ছিলেন না, তবুও চেয়ারম্যান আশা প্রকাশ করেন যে আলোচনা শেষে দ্রুত সময়ের মধ্যেই চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দিতে পারবেন।
বাস্তবায়ন নিয়ে তীব্র ধোঁয়াশা
কমিশনের পক্ষ থেকে দ্রুত রিপোর্ট দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও, নতুন বেতন কাঠামোর বাস্তবায়ন নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র ধোঁয়াশা। এই বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, বর্তমান সরকার কেবল একটি 'ফ্রেমওয়ার্ক' তৈরি করবে। কিন্তু চূড়ান্ত পে কমিশন গঠন এবং নতুন বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়নের কাজটি করবে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার।
একদিকে কর্মচারী নেতাদের কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি এবং অন্যদিকে বাস্তবায়ন নিয়ে বিশেষজ্ঞের এই মন্তব্যের ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। ৫ ডিসেম্বরের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই সবার নজর।
সোহাগ/
