সোহাগ আহমদে
সিনিয়র রিপোর্টার
ফজলুর-হাবিবসহ ৬ নেতা: নৌকা ছেড়ে যেভাবে ধানের শীষ নিলেন
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই—এই প্রবাদের জ্বলন্ত উদাহরণ বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিক। বিএনপি নেতা ফজলুর রহমান এবং হাবিবুর রহমান হাবিবের মধ্যে একটি অদ্ভুত মিল রয়েছে। তাঁরা দুজনেই একসময় ছাত্রলীগের তুখোড় নেতা ছিলেন, কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় আজ তাঁরা বিএনপির নীতিনির্ধারক।
শুধু এই দুজনই নন, প্রয়াত কে এম ওবায়দুর রহমান থেকে শুরু করে সাবেক মন্ত্রী শাহজাহান সিরাজ—বিএনপির ইতিহাসের বহু সামনের সারির নেতার রাজনৈতিক হাতেখড়ি হয়েছিল ছাত্রলীগে। চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন কয়েকজন নেতার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক দলবদলের ইতিহাস।
১. অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান
মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী ফজলুর রহমান ১৯৭৫ পরবর্তী দুঃসময়ে ছাত্রলীগের হাল ধরেছিলেন।
* ছাত্রলীগ অধ্যায়: ডা. মোস্তফা জালাল ও খ ম জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বাধীন কমিটির বিরুদ্ধে যে বিদ্রোহী কমিটি হয়েছিল, তার সভাপতি ছিলেন তিনি। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে কিশোরগঞ্জ-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হন।
* দলবদল: পরবর্তীতে তিনি কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ হয়ে ২০০৮ সালে বিএনপিতে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা।
২. হাবিবুর রহমান হাবিব
ছাত্রলীগের একসময়ের প্রভাবশালী এই নেতা নব্বইয়ের এরশাদবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম রূপকার ছিলেন।
* ছাত্রলীগ অধ্যায়: সুলতান মনসুরের সময় তিনি সহ-সভাপতি এবং পরবর্তীতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি হন। তার সাহস ও দক্ষতার কারণে মনে করা হতো তিনি আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ কান্ডারি হবেন।
* বিএনপিতে যোগদান: ১৯৯১-৯৬ সালে যে বিএনপির বিরুদ্ধে তিনি রাজপথে স্লোগান দিয়েছেন, রাগ ও অভিমানে ১৯৯৬ সালে সেই বিএনপিই হয়ে ওঠে তার ঠিকানা।
৩. কে এম ওবায়দুর রহমান
প্রয়াত কে এম ওবায়দুর রহমান ছিলেন বিএনপির তৃতীয় মহাসচিব এবং স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য।
* ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় তিনি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং দুইবার সভাপতি ছিলেন (১৯৬৩ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের সভাপতি)। স্বাধীনতার পর তিনি বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভার সদস্যও ছিলেন।
* বিএনপি অধ্যায়: ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমানের সরকারে যোগ দিয়ে বিএনপির রাজনীতি শুরু করেন। মাঝে জাতীয় পার্টিতে গেলেও ১৯৯১ সালের পর বিএনপিতে ফিরে আসেন। বর্তমানে তার মেয়ে শামা ওবায়েদ বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়।
৪. শাহজাহান সিরাজ
মুক্তিযুদ্ধের সময়কার অন্যতম নিউক্লিয়াস এবং স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠকারী শাহজাহান সিরাজের রাজনৈতিক বাঁক বদল ছিল চমকপ্রদ।
* ছাত্রলীগ ও জাসদ: ১৯৬৯-৭২ মেয়াদে অবিভক্ত ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরে জাসদ গঠন হলে তিনি প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হন এবং টাঙ্গাইল-৪ আসন থেকে তিনবার এমপি নির্বাচিত হন।
* বিএনপি অধ্যায়: ১৯৯৫ সালে বিএনপিতে যোগ দেন এবং ২০০১ সালে খালেদা জিয়া সরকারের বন ও পরিবেশ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
৫. শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন
তুখোড় বক্তা হিসেবে পরিচিত শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনও উঠে এসেছিলেন ছাত্রলীগ থেকে।
* ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ: তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং তিনবার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর তিনি জাতীয় সংসদের প্রথম চিফ হুইপ ছিলেন।
* জাতীয় পার্টি ও বিএনপি: আশির দশকে জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও উপ-প্রধানমন্ত্রী হন। পরে ১৯৯২ সালে বিএনপিতে যোগ দেন এবং ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালে তিনি ইন্তেকাল করেন।
৬. মনিরুল হক চৌধুরী
১৯৭৪-৭৫ সালে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করা মনিরুল হক চৌধুরীও পরবর্তীতে জাতীয় পার্টি হয়ে বর্তমানে বিএনপির রাজনীতির পরিচিত মুখ।
সোহাগ/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- আজকের স্বর্ণের বাজারদর; ২৫ আগস্ট ২০২৬
- আজকের স্বর্ণের বাজারদর, ২৬ আগস্ট ২০২৬
- আজকের সকল দেশের টাকার রেট: ২৫ আগস্ট ২০২৬
- ২৬ আগস্টের ছুটি পাবেন না যেসব কর্মী
- ২৪-২৭ আগস্ট ভারতে লঞ্চ হচ্ছে যে ৭টি নতুন স্মার্টফোন
- নতুন Bajaj Pulsar 150 বনাম পুরোনো মডেল, কী কী পরিবর্তন হলো
- ভয়াবহ হওয়ার আগেই ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি বাড়ার খবর মিলবে
- নতুন পে স্কেল নিয়ে হিসাব-কিতাব চলছে!
- ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে বিআরটিএর নতুন নির্দেশনা
- আজকের সকল দেশের টাকার রেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬
- বড় ব্যাটারি নিয়ে Nokia 300 Charge ফিচার ফোনের আত্মপ্রকাশ
- পানি-ধুলা ও পড়ে যাওয়ার ভয় নেই, নতুন এই স্মার্টফোনে
- মুক্তিযোদ্ধা ও সন্তানদের প্রশিক্ষণে মিলবে ৭৫ লাখ টাকা
- চাহিদামতো টাকা তুলতে পারবেন ৫ ব্যাংকের গ্রাহকেরা
- বাংলাদেশে আসছে ব্রাজিল; মিলল নতুন আশার খবর
