সোহাগ আহমদে
সিনিয়র রিপোর্টার
যেসব প্রাণী ভূমিকম্পের আভাস বুঝতে পারে
নিজস্ব প্রতিবেদক: এটি একটি বহুল প্রচলিত বিশ্বাস এবং কিছু বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে যে ভূমিকম্প আঘাত হানার ঠিক আগে কিছু প্রাণী অস্বাভাবিক আচরণ করে। মানুষের চেয়ে এদের সংবেদনশীলতা বেশি হওয়ায় তারা কম্পনের মূল আঘাত হানার আগে প্রাথমিক কিছু পরিবর্তন টের পায়।
ভূমিকম্পের আভাস বুঝতে পারে এমন কিছু প্রাণী ও তাদের আচরণের ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হলো:
১. কুকুর (Dogs)
ভূমিকম্পের পূর্বাভাস টের পাওয়ার ক্ষেত্রে কুকুরের আচরণের উদাহরণ সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়।
* আচরণ: কুকুর ভূমিকম্পের কয়েক মিনিট বা কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই অস্থিরতা, জোরে ঘেউ ঘেউ করা, কান্নার মতো শব্দ করা, অথবা লুকিয়ে থাকার চেষ্টা করতে পারে।
* কারণ: বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কুকুর মূল ভূমিকম্পের কারণ এস-তরঙ্গ (S-wave) আসার আগেই পি-তরঙ্গ (P-wave) বা প্রাথমিক তরঙ্গগুলো শনাক্ত করতে পারে। পি-তরঙ্গ ক্ষতিকর না হলেও ভূ-পৃষ্ঠে আগে আসে।
২. বিড়াল (Cats)
বিড়ালও তাদের সতর্কতার জন্য পরিচিত।
* আচরণ: তারা হঠাৎ করে ছটফট করতে পারে, প্রচণ্ড ভয় পেতে পারে, কোনো কিছুর নিচে লুকিয়ে পড়তে পারে, বা অস্বাভাবিকভাবে ডাকাডাকি করতে পারে।
৩. সাপ (Snakes)
যেহেতু সাপ মাটির কাছাকাছি বা মাটির নিচে গর্তে থাকে, তাই মাটির সামান্য পরিবর্তনও তারা দ্রুত বুঝতে পারে।
* আচরণ: শীতকালে যখন তাদের হাইবারনেশনে (সুপ্তাবস্থা) থাকার কথা, তখনও তারা হঠাৎ করে গর্ত থেকে বেরিয়ে আসে বা অস্বাভাবিক আচরণ করে।
৪. মাছ (Fish)
জলাশয়ের প্রাণীরাও অনেক সময় ভূকম্পনের পূর্বাভাস দিতে পারে।
* আচরণ: মাছেরা অস্বাভাবিকভাবে লাফাতে পারে, জলাশয়ের গভীরে চলে যেতে পারে, অথবা জলের উপরিভাগে প্রচণ্ড অস্থিরতা দেখাতে পারে। গবেষকদের ধারণা, মাটির নিচে রাসায়নিক পরিবর্তন বা বৈদ্যুতিক আবেশের পরিবর্তন তারা টের পায়।
৫. গবাদি পশু (Livestock)
গরু, ঘোড়া, ভেড়া বা অন্যান্য গবাদি পশুদের মধ্যেও অস্থিরতা দেখা যায়।
* আচরণ: তারা হঠাৎ করে খাবার খাওয়া বন্ধ করে দেয়, স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে থাকে, অথবা পাল ধরে দৌড়ানোর চেষ্টা করতে পারে।
৬. পাখি (Birds)
আকাশের প্রাণীরাও এই পরিবর্তন থেকে মুক্ত নয়।
* আচরণ: পাখিরা হঠাৎ করে তাদের স্বাভাবিক গান বা ডাকাডাকি বন্ধ করে দেয়, অথবা কোনো কারণ ছাড়াই দল বেঁধে উড়ে যেতে পারে।
প্রাণীরা কেন বুঝতে পারে (বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা)
মানুষের তুলনায় এই প্রাণীগুলোর সংবেদনশীলতা অনেক বেশি হওয়ার কারণে তারা নিম্নোক্ত পরিবর্তনগুলো টের পায়:
* ভূ-কম্পনের প্রাথমিক তরঙ্গ (P-wave): এটি ছোট তরঙ্গ হলেও দ্রুত গতিতে আসে। প্রাণীরা এটিকে মানুষের আগে শনাক্ত করতে পারে।
* কম্পাঙ্কের পরিবর্তন: প্রাণীরা এমন সব কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পায় (বিশেষত ইনফ্রাসাউন্ড) যা মানুষের শ্রাব্যতার সীমার বাইরে।
* বৈদ্যুতিক/চৌম্বক ক্ষেত্র: ভূমিকম্পের আগে ভূ-পৃষ্ঠের শিলার ওপর চাপ বাড়লে ভূ-রাসায়নিক গ্যাস বা ভূ-চৌম্বক ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসতে পারে, যা এই প্রাণীগুলো টের পায়।
তবে মনে রাখা জরুরি, প্রাণীদের এই অস্বাভাবিক আচরণ একটি নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস পদ্ধতি হিসেবে এখনো প্রমাণিত হয়নি।
সোহাগ/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- আজকের সোনার বাজারদর: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
- পে-স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার; যা জানা গেল
- ৫ লক্ষণ দেখলেই বুঝবেন ক্যানসারে ভুগছেন
- আজ এক ভরি ১৮, ২১, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম
- ফ্যামিলি কার্ড আবেদন: লাগবে যেসব কাগজপত্র
- সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর আসছে টানা ১০ দিনের ছুটি
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটির তালিকায় বড় পরিবর্তন
- নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জোরালো সুপারিশ
- যে দুই জেলা দিয়ে ফ্যামিলি কার্ডের যাত্রা শুরু
- টানা ১০ দিনের সরকারি ছুটির সুযোগ
- কমলো এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম, জানুন নতুন দর
- এবার ঈদুল ফিতরে কত দিনের ছুটি; জেনে নিন হিসাব-নিকাশ
- দেশের বাজারে আজ এক ভরি স্বর্ণের দাম
- সংরক্ষিত নারী আসনে থাকবেন কারা, জানালেন মির্জা ফখরুল
- বিদায়বেলায় পে-স্কেল নিয়ে বড় সুখবর দিয়ে গেলেন অর্থ উপদেষ্টা
