আসছে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা এবং যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত বেতন গ্রেড
নিজস্ব প্রতিবেদক: মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরাধীন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যথোপযুক্ত বেতন-গ্রেড প্রদান অপরিহার্য। সঠিক বেতন কাঠামো ছাড়া কোনোভাবেই শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই বাস্তবতা থেকেই পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, কিছু সহকারী শিক্ষক ১০ম গ্রেডের দাবিতে পরীক্ষণ বিদ্যালয়কে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করছেন— যা একদিকে পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করছে, অন্যদিকে অযৌক্তিক তুলনার জন্ম দিচ্ছে।
পিটিআই ও পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের প্রেক্ষাপট
পিটিআই (প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট) ও সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয় হলো প্রাথমিক শিক্ষার গবেষণা ও প্রশিক্ষণভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। এখানে নতুন পাঠদানের পদ্ধতি, কারিকুলাম ও শিক্ষা কৌশল পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হয়— যা পরবর্তীতে দেশের সাধারণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাস্তবায়িত হয়। অন্যদিকে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো হলো সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেখানে শিক্ষার্থীরা একাডেমিক ও সামাজিক শিক্ষালাভ করে।
দুটি প্রতিষ্ঠানের মূল পার্থক্য
১. উদ্দেশ্য ও ভূমিকা: পরীক্ষণ বিদ্যালয় হলো একটি ল্যাবরেটরি স্কুল, যার মূল কাজ শিক্ষা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ; প্রাথমিক বিদ্যালয় কেবল পাঠদানের প্রতিষ্ঠান। ২. নিয়োগ ও যোগ্যতা: পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদ দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা (নন-ক্যাডার, টেকনিক্যাল) এবং নিয়োগ হয় পিএসসি’র মাধ্যমে। তাদের জন্য স্নাতকোত্তর ডিগ্রির পাশাপাশি শিক্ষা বিষয়ে বিশেষ ডিগ্রি (বিএড/ডিপিএড/সিইনএড) বাধ্যতামূলক। অন্যদিকে, সহকারী শিক্ষক পদে যোগ্যতা স্নাতক ডিগ্রি এবং নিয়োগ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে। ৩. পরীক্ষা পদ্ধতি: পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে মোট ৩৫০ নম্বরের পরীক্ষা (লিখিত, টেকনিক্যাল ও মৌখিক) নেওয়া হয়, যেখানে সহকারী শিক্ষক পদের পরীক্ষা সর্বোচ্চ ১০০ নম্বরের। ৪. গ্রেড ও পদ: সহকারী শিক্ষকরা বর্তমানে ১৩তম গ্রেডভুক্ত; পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ১০ম গ্রেডে, যা এখনো উন্নীত হয়নি। ৫. কর্মপরিধি: পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পাঠদান ছাড়াও প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষকদের পাঠ পর্যবেক্ষণ, পাঠ পরিকল্পনা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ পরিচালনায় যুক্ত থাকেন। অন্যদিকে, সহকারী শিক্ষকরা মূলত শ্রেণি পাঠদানের দায়িত্বে নিয়োজিত।
সংখ্যাগত ও কাঠামোগত পার্থক্য
পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের সংখ্যা: মাত্র ৬৫টি
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা: ১ লাখ ১৮ হাজারের বেশি
পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংখ্যা: ২৮৭ জন
সহকারী শিক্ষক সংখ্যা: তিন লাখেরও বেশি
ন্যায্য দাবির প্রেক্ষাপট
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা যেমন তাদের গ্রেড উন্নয়ন চান, তেমনি পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও দীর্ঘদিন ধরে তাদের পদোন্নতি ও গ্রেড উন্নয়নের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু দুটি প্রতিষ্ঠানের কাঠামো, নিয়োগ প্রক্রিয়া, যোগ্যতা ও দায়িত্বে মৌলিক পার্থক্য থাকায় সরাসরি তুলনা করা বাস্তবসম্মত নয়।
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য সকল শিক্ষক—সহকারী হোক বা পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের—যথাযথ স্বীকৃতি ও যৌক্তিক বেতন কাঠামো পাওয়ার অধিকার রাখেন। তবে এই দাবিগুলো তুলতে হবে বাস্তবভিত্তিক ও তথ্যসম্মত প্রেক্ষাপটে, যাতে কোনো শ্রেণির মর্যাদা ক্ষুণ্ণ না হয় এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় সামগ্রিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়।
আশা/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- পে স্কেল ২০২৬-২৭: প্রথম ধাপে কারা পাচ্ছেন স্বস্তির খবর
- ধেয়ে আসছে ভয়ংকর বৃষ্টিবলয়, ৩ বিভাগে বেশি ঝুঁকি
- নতুন পে-স্কেলে বাড়ছে যে ৩ ভাতা
- দেশের বাজারে আজ একভরি স্বর্ণের দাম: ০৯ মে ২০২৬
- রোববার থেকে ১৩ দিন ৬ ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ থাকবে না
- ২৩-২৪ মে খোলা থাকবে যেসব প্রতিষ্ঠান
- বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের আভাস, কয়েকদিন থাকতে পারে বৃষ্টি
- আজকের সোনার বাজারদর: ১০ মে ২০২৬
- বাংলাদেশিদের জন্য কবে পুরোপুরি চালু হচ্ছে ভারতের ভিসা
- ঈদে স্কুল-কলেজে টানা ১৬ দিন, মাদরাসায় ২১ দিনের ছুটি
- দেশে আবারও ভূমিকম্পের আঘাত
- কিডনির সমস্যায় হল শরীর কোথায় ব্যাথার মাধ্যমে সংকেত দেয়
- দ্বিতীয়বার বিয়ের চার মাস না যেতেই আবার বিচ্ছেদ আদনানের
- আজকের সকল দেশের টাকার রেট: ১০ মে ২০২৬
- একই পরিবারের ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার, ফোনে যা বললেন অভিযুক্ত
